সাতক্ষীরায় বুলবুলের ভয়াল থাবায় অর্ধলক্ষাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত


498 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় বুলবুলের ভয়াল থাবায় অর্ধলক্ষাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত
নভেম্বর ১১, ২০১৯ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

লন্ডভন্ড উপকূলীয় অঞ্চল

উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ

॥ এম কামরুজ্জামান ॥

ঘুর্ণিঝড় “বুলবুল” এর ভয়াল ছোবলে সাতক্ষীরা উপকূল লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। কোন মানুষ হতাহত না হলেও উকূলবর্তী শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ উপজেলায় অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ। আশ্রয় কেন্দ্র গুলো থেকে মানুষ বাড়িতে ফিরে তাদের ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসন, সেনা বাহিনী, নৌবাহিনী, পোষ্টগার্ড, পুলিশসহ বেসরকারি সংগঠন গুলো কাজ করছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন জানায়, বুলবুলের প্রভাবে উপকুলীয় এলাকা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জসহ জেলার সাতটি উপজেলায় ব্যাকপ ক্ষতি হয়েছে। জেলায় প্রায় ১৭ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ৩৫ বাড়ি-ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে। প্রায় ৬ হাজার হেক্টর চিংড়ি ঘের ও ২২’শ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপকুলীয় এলাকার মানুষকে সহায়তার জন্য নগদ ১৭ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

শনিবার রাত তিনটা থেকে রোববার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ঘুর্ণিঝড় বুলবুল প্রবল বেগে সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ে। বুলবুলের ভয়াল থাবায় বিশেষ করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়েছে। বশতবাড়ি ও সড়কের উপর বড় বড় গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শ্যামনগের গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে বহু মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে তাদের বাড়িঘর সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।

বুলবুলের আঘাতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বুলবুল আঘাত হানার আগে শনিবার রাত ৯ টার দিকে শ্যামনগরের গাবুরা চকবারা গ্রামে আবুল কালাম (৬০) নামের এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। জানাগেছে আশ্রয় নেয়ার জন্য তিনি প্রতিবেশি আবুল বাশারের বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে ওই বাড়িতেই তিনি মারা যান। এছাড়া একই উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চি গ্রামের এমলাক সরদার ও খোকন গাজী আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে আহত হয়।

শ্যামনগরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গাবুরা।
বুলবুলের আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গাবুরা ও পদ্মপুকুর। গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, তার ইউনিয়নে পাঁচ হাজার বাড়ি-ঘর ধ্বসে পড়েছে। দুর্গাবাটি এলাকায় ভেড়িবাঁধ ধসে পড়েছে। তবে জরুরী ভাবে সেটি মেরামত করার কারনে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান জানান, ঝড়ের দাপটে গাবুরা ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। দুর্গাবাটি, দাঁতিনাখালি ও চৌদ্দরশি বাঁধ না ভাংলেও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও জানান রাস্তায় গাছ পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পুরো এলাকা বিদ্যুত ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।সোমবার বিকাল পর্যন্ত শ্যামনগরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। গাবুরা, পদ্মপুকুর, আটুলিয়া, কাশিমারিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বুলবুল আঘাত হানার আগে থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়ার কারনে কোন ধরনের প্রাণহানি বা আইনশৃঙ্খলা অবনতির ঘটনা ঘটেনি। ঘুর্ণিঝড়ের পর মানুষ নিরাপদে তাদের বাড়ি-ঘরে ফিরে গেছে। মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন এস এম মোস্তফা কামাল জানায়, বুলবুলের প্রভাবে উপকুলীয় এলাকা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জসহ জেলার সাতটি উপজেলায় ব্যাকপ ক্ষতি হয়েছে। জেলায় প্রায় ১৭ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ৩৫ বাড়ি-ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে। প্রায় ৬ হাজার হেক্টর চিংড়ি ঘের ও ২২’শ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপকুলীয় এলাকার মানুষকে সহায়তার জন্য নগদ ১৭ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নির্নয় করার জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্নয়ের পর সরকারকে জানানো হবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা বরাদ্দ আসার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদেরকে পুন:বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

#