সাতক্ষীরায় চালের চেয়ে গো-খাদ্যের দাম বেশি, বিপাকে খামারীরা


113 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় চালের চেয়ে গো-খাদ্যের দাম বেশি, বিপাকে খামারীরা
জুন ২৩, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল শাহাদাৎ জাকির ::

সাতক্ষীরায় চালের থেকে গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারীরা। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে জেলা শহরের বিভিন্ন বাজারে সব ধরনের ভূসি, চিটাগুড়, ভুট্টাভাঙা, ফিড, খুদ, খৈলসহ সবুজ ঘাসের দাম বেড়ে গেছে। গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জেলায় দুধ উৎপাদন ও পশু মোটাতাজাকরণে ব্যয় বেড়েছে খামারীদের।

জানা যায়, প্রতিবছর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক গরু, ছাগল মোটাতাজা করেন জেলার খামারীরা। কিন্তু, ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, গো-খাদ্যের দাম ততই বেড়ে চলেছে। এতে খামারীদের খরচও বাড়ছে। ফলে, গবাদি পশু পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারীদের।
গত কয়েক সপ্তাহ আগে যে গমের ভূসি ১ হাজার ৮৫০ টাকা ছিল তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৫০ টাকায়। খৈল ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এছাড়াও দাম বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে চিটাগুড়, ভুট্টাভাঙা, ফিড, খুদ, খৈলসহ সবুজ ঘাস।
গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি হওয়ায় জেলার অধিকাংশ খামারীরা পরিমাণ মতো খাদ্যের যোগান দিতে না পেরে গবাদিপশুর খাবার কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানান।
আর এ গো-খাদ্যের দাম বাড়ার পেছনে আমদানিকারক ও মিলারদের কারসাজিসহ সরকারের মনিটরিংয়ের অভাবকে দায়ী করছেন তারা।
খামারীরা বলছেন, ‘খাদ্যের দাম না কমলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের। এজন্য সরকারকে রাখতে হবে মুখ্য ভূমিকা। অন্যথায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে জেলার অধিকাংশ গবাদিপশুর খামার।’

সরেজমিনে জেলা শহরের বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতি কেজি গমের ভূসি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, চালের খুদ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা ও খৈল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। অথচ ১ কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। এছাড়াও চিটা, ভুট্টাভাঙা, ফিড, খুদ, খৈলসহ সবুজ ঘাস খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫-১০ টাকা।
জেলার একাধিক খামারীরা বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন দেশি জাতের গরু লালন-পালনে আমরা দুর্বা ঘাসের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। সময়ের বিবর্তনে সেই ঘাস দিয়ে এখন আর হয় না। বাইরে থেকে খাবার সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু, যেভাবে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে গরু পালন করা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মুনজিতপুর গ্রামের খামারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরধরে গরু পালন করে আসছেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে দেশি ও বিদেশি জাতের ১৮টি গরু রয়েছে। খামারটি এতদিন ভালো চললেও গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। একারনে, গবাদি পশুকে পরিমাণ মতো গো-খাদ্য দিতে না পেরে খাবার কমিয়ে দিয়েছেন।’

উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের খামারী সুভাষ হালদার বলেন, ‘আমার খামারে ৪টি গাভীসহ ৯টি গরু ছিল। তবে খৈল, ভূসি ও খুদের যে দাম, তাতে ৫০ টাকায় দুধ বিক্রি করে পোশায় না। এজন্য ৬টি গরু বিক্রি করে এখন ৩টি গরু পালছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোনো তদারকি কিংবা মনিটরিং নেই। গত কয়েক মাসের ভিতরে গো-খাদ্যের দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে জেলার শতশত খামারীদের পথে বসতে হবে।’

এদিকে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারীদের মতই বিপাকে পড়েছেন গো-খাদ্য বিক্রেতারা। জেলার একাধিক গো-খাদ্য বিক্রেতা জানান, ‘প্রতিটি খাদ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ছয় মাস আগেও জেলা শহর থেকে প্রান্তিক পর্যায়ের দোকানগুলোতে যে হারে খাবার বিক্রি হতো এখন তা হয় না। মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় দোকান গুলোতে গো-খাদ্য বিক্রিও কমে গেছে। বেঁচা-বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।’
এব্যাপারে সাতক্ষীরা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম আব্দুর রউফ বলেন, ‘বাজারে গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশি হওয়াতে জেলার অধিকাংশ খামারীরা বিপাকে পড়েছেন। এজন্য গবাদি পশু পালনকারী ও খামারীদের দানাদার খাবারের উপর চাপ কমিয়ে ঘাস উৎপাদনের দিকে মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যেসব খামারী ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু মোটাতাজা করছেন তাদেরকে ইউরিয়ার মোলাসেস তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।