সাতক্ষীরায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ৯৭০ মে.টন


115 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ৯৭০ মে.টন
মে ১৫, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এমন চালমিলের নামও স্থান পেয়েছে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তালিকায়!

ডেস্ক রিপোর্ট ::

চলতি বোরো মৌসমে সাতক্ষীরায় চাল সংগ্রহ অভিযান শুরুর শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা বাকি। যে কোন সময় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। শুরুতেই চাল প্রদানকারি মিল নির্ধারণ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অদক্ষ্য ও নতুন মিল মালিক যাদের এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি তালিকায় তাদেরও নাম রয়েছে। আবার পুরানো মিল মালিক যারা প্রতি বছর চাল সরবরাহ করে থাকেন তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে এই তালিকা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে মিল মালিকদের। তবে জেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাস কোন অনিয়ম হয়নি দাবী করে বলেছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি এমন নতুন মিলের নাম যদি তালিকায় স্থান পায় তা তদন্ত করে বাদ দেয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল ইসলাম জানান, এবার বোরো মৌসুমে জেলার ৭টি উপজেলা থেকে ১১ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। জেলা ব্যপি ৩৯৭টি চাল কল থেকে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে এসব চাল নেয়া হবে। অপরদিকে সদর উপজেলার আওতায় থাকা ১৩৮টি চাল কল থেকে ৪ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন চাল নেয়া হবে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই চাল সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সাতক্ষীরা শহর উপকণ্ঠের কদমতলা বাজারের ব্যবসায়ী রাসেল এন্টার প্রাইজের মালিক সিরাজুল ইসলাম জানান, আমার নিজের একটিসহ চুক্তিতে নেয়া আরও ৬টি মোট ৭টি মিলের চাল প্রতিবছর সরবরাহ করে থাকি। চাল সরবরাহের সকল সুবিধাদি থাকার পরও এবছর আমার একটি মিল বাদ দেয়া হয়েছে। একই সাথে অর্ধেক সরবরাহের পরিমানও কমিয়ে দেয়াও হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শহরের খানপুর গ্রামের নিউ মোল্যা রাইচ মিল এর এখনও উদ্বোধন হয়নি। মিল প্রস্তুতের কাজও শেষ হয়নি। প্রস্তুত হচ্ছে চাতালের কাজ। এমনকি মিলটির বিদ্যুৎ সংযোগও দেয়া হয়নি। তবে তড়িঘড়ি করে সব কিছুই করার চেষ্টা করছেন কর্তৃপক্ষ। অথচ নির্মাণের সকল কাজ চলমান থাকা অবস্থায় এবারের বোরো মৌসুমের চাউল সংগ্রহর তালিকায় নাম স্থান পেয়েছে ওই মিলের। একই এলাকায় নিউ রেজাউল রাইচ মিলের নামও স্থান পেয়েছে। যেখানে নির্মাণ কাজ অব্যাহত আছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। তারা কিভাবে নির্ধারিত সময়ে চাল সরবরাহ করবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি মিলের বিদ্যুৎ বিল দেখে তালিকা তৈরি করা হয়। যারা বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি তাদের কি দেখে তালিকা করা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। অর্থাৎ অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নিয়েই করা হয়েছে এমন অভিযোগ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের।
ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, মিল প্রতি তালিকায় নাম তুলতে নেয়া হয় মোটা অংকের সুবিধা। সেই সুবিধা না দিলে তার চাল সরবরাহের পরিমান কমিয়ে দেয়া হয়। আবার চাল জমা দেয়ার সময় প্রতি টনে ২৩০ টাকা করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর চেয়ারে যিনি থাকবেন তাকে দিতে হবে। না দিলে চাল খারাপ হয়ে যায়, কখনও কখনও মোটা হয়ে যায়। আবার কখনও গন্ধ লাগে। এসব বিস্তর অভিযোগ শুনে পারা যায়না। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, অফিসের কম্পিউটার ম্যান মোস্তফা তিনি চুক্তিপত্র করে থাকেন। সেখানেও স্ট্যাম্প ক্রয় বাবদ ৩০০ টাকা লাগলেও নিয়ে থাকেন ৭০০ টাকা। যদি না দেয়া হয়। তবে কম্পিটারের প্রিন্টারে কালি নাই, পরে আসেন, কালি এনে তাই প্রিন্ট দেয়া হবে। এভাবে ব্যবসায়ীদের নানা অজুহাতে বসিয়ে রেখে হয়রানি করা হয়। এসব হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং ঝামেলা এড়াতে ব্যবসায়ীরা গোপনে অনেক কিছুই মেনে নেন।
এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে কথা হয়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কর্ণফুলি রাইচ মিলের স্বত্তাধিকারি মশিউর রহমানের সাথে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এমন মিলের নাম তালিকায় এসেছে ঘটনাটি আমি আজ শুনেছি। বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে তিনি কি করেন আমরা দেখছি। তবে এসব বিষয় নিয়ে আমাদের তেমন কিছুই করার নেই বলে দাবী করেন তিনি।