সাতক্ষীরায় চিংড়ি শিল্পে ধস !


233 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় চিংড়ি শিল্পে ধস !
নভেম্বর ৩০, ২০২০ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

এসএম শহীদুল ইসলাম ::

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় থাবায় সাতক্ষীরার চিংড়ি শিল্পে ধ্বস নেমেছে। বিশ্ববাজারে মন্দাভাব দেখা দেওয়ায় হতাশ চিংড়ি চাষীরা। রপ্তানী। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও বাজারে দাম পাচ্ছেন না চাষীরা। দেশের বাজারেও কমেছে চাহিদা। ফলে ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ করতে গিয়ে এখন চরম হতাশায় ভুগছেন অনেকেই।

চিংড়ি চাষীরা জানান, ১৪০০ টাকা কেজি দরের গলদা এখন ৭০০টাকায়। ১০০০টাকা দরের বাগদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০টাকায়। ১২০০টাকার চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০০টাকায়।
চিংড়ি চাষী আব্দুল আলিম চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর বেড়িবাঁধ ভেঙে সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা ও তালা উপজেলার হাজার হাজার বিঘা জমির মৎস্য ঘের ভেসে যায়। এতে করে চিংড়ি চাষীদের পথে বসার উপক্রম হয়। বিশেষ করে আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, প্রতাপনগর, আনুলিয়া, শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর ও কাশিমাড়ি ইউনিয়নের চিংড়ি চাষীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একই কথা বলেন, শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল। তিনি বলেন, আম্পানের পর কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে ২৩টি গ্রাম ও কয়েক শত চিংড়ি ঘের ভেসে যায়। মহামারি করোনার কারণে বছরের শুরুতে চিংড়ি ও কাঁকড়া রপ্তানী বন্ধ। দেশের বাজারেও চাহিদা নেই। ফলে একদিকে করোনা অন্যদিকে আম্পান ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি শিল্প। অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাদের সেই স্বপ্ন আজ দু:স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন বলেন, তার ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া ও হাজরাখালিসহ কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে ২২টি গ্রাম ও শতাধিক মৎস্য ঘের প¬াবিত হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ চিংড়ি চাষীদের হাত ঠেকেছে মাথায়।

একই কথা বলেন, আশাশুনি সদর ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন, শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম ও পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। তারা ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের জন্য সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।
সাতক্ষীরা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, ২০১৯ সালে সাতক্ষীরায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে মাছ চাষ হয়। এবছর তা বেড়ে ৭৬ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছর ছিল ৩২ হাজার মেট্রিকটন। এবছর তা ৪১ হাজার মেট্রিকটনে উন্নীত হয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান আরও বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে বিদেশে চিংড়ি, কাঁকড়া ও অন্যান্য মাছজাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ থাকায় এবং দেশের বাজারে চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় চিংড়ি চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। করোনাকাল কেটে গেলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হবে। বিদেশে চিংড়ি রপ্তানী শুরু হলে চাষীদের আর দুর্দিন থাকবে না।

#