সাতক্ষীরায় চেয়ারম্যান মোশাররফ খুনের ঘটনায় ৩৯ জনের নামে মামলা : গ্রেফতার-২


1543 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় চেয়ারম্যান মোশাররফ খুনের ঘটনায় ৩৯ জনের নামে মামলা : গ্রেফতার-২
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। নিহত চেয়ারম্যানের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম বাদী হয়ে রোববার রাতে মামলটি দায়ের করেছেন। যার মামলা নং-৬, তারিখ ০৯/০৯/২০১৮। এই মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।

এদিকে, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এজাহার নামীয় দুইজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন এজাহার নামীয় ১০ নং আসামী মোজাফফর হোসেন ও ১৪ নং আসামী লাল্টু।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান, জাপা নেতা কে এম মোশাররফ হোসেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় চেয়ারম্যানের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এক নং আসামী করা হয়েছে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল গাইনকে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।

ওসি আরও জানান, এই হত্যার নেপথ্য কারণ নির্ণয়ে পুলিশ মাঠে নেমেছে। স্থানীয় সাপখালি খাল উন্মুক্ত করা নিয়ে তার সাথে বিরোধ রয়েছে অনেকের। তার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল জলিলের সাথে চরম বিরোধ চলছিল চেয়ারম্যানের । সম্প্রতি আবদুল জলিল বেশ কয়েকজন লোককে সাথে নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন ‘ চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন দক্ষিন রঘুনাথপুর গ্রামের আবু মালাইকার বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট করেন। তিনি এলাকার লোকজন জমি ও বাড়ি দখল করছেন’ । এ ধরনের অভিযোগ তোলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সম্প্রতি স্থানীয় মহসীন ডাকাতকে কে বা কারা কৃষ্ণনগর বাজারে কুপিয়ে জখম করে। মহসীন ডাকাত চেয়ারম্যান মোশাররফ বিরোধী লোক। এলাকায় চেয়ারম্যানের সাথে অনেকের রয়েছে রাজনৈতিক বিরোধ। ওসি জানান এসব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত কাজ চলছে।

গতকাল রোববার বাদ মাগরিব নিহতের জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ছোট ভাই-এর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে। জানাজার নামাজে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। যে মাঠে জানাজার নামাজ হয় সেখানে তিলধরার ঠাই ছিল না। এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। পর পর তিন বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। জেলা জাতীয় পার্টির কালিগঞ্জ উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কৃষ্ণনগর বাজারে যুবলীগ অফিসে বসেছিলেন চেয়ারম্যান কে এম মোশারফ হোসেন। এ সময় পাঁচ-ছয় জন যুবক তিনটি মোটর সাইকেলে এসে বাজারে কয়েকটি ককটেল বোমা ফাঁটায়। এতে আতংকিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ হবার সুযোগে সন্ত্রাসীরা যুবলীগ অফিসে ঢুকে চেয়ারম্যানের গালে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। এরপরও তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। কালিগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।