সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে পশুহাট


400 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে পশুহাট
আগস্ট ২০, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল আযহা। সর্বোচ্চ ত্যাগ তিতীক্ষার এ উৎসবে মুসলিম উম্মাহ পরম করুণাময় মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় পশু কুরবানী করেন। পবিত্র ঈদুল আযহা আরমাত্র কয়েকদিন বাকী। ইতোমধ্যে ধুমধামে শুরু হয়েছে জেলার বিভিন্ন হাটে কুরবানী পশু বিক্রি। কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে কলারোয়া গরু-ছাগলের হাট। গরু, ছাগলের সাথে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট ওই হাটে পা ফেলা দুস্কর। শুক্রবার সকাল থেকেই দূর-দূরন্ত থেকে গরু-ছাগল নেয়ে বিক্রেতারা হাটে আসতে শুরু করে। দুপুর থেকেই উপজেলার একমাত্র বৃহৎ এ হাটটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণা ও বেচাকেনাতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়-গরু-ছাগলের এ পশুহাটটিতে উপচে পড়া ভিড়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিলো লক্ষণীয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিয়েছে হাট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে জাল বা নকল টাকা সনাক্ত করণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে নজরদারি রেখেছেন তারা। ফলে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। আগামি সোমবারও পশু হাট হবে বলে জানা গেছে। শার্শার গোগা থেকে আসা গরু বিক্রেতা গফুর জানান, ‘ভারত থেকে গরু না আসায় এবার গরুর দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।’
এদিকে, ক্ষোভ প্রকাশ করে পার-খাজুরা ও ধানদিয়া থেকে আসা ক্রেতা আজমল ও রায়হান জানান- ‘অন্যবারের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি।’ তারা আরো জানান, ‘ভারত থেকে গরু না আসায় গরুর ব্যাপারিরা চড়া দামে গরু বিক্রয় করছেন। ফলে বাধ্য হয়ে ক্রেতারা গরু কিনছেন আবার সাধ্যের মধ্যে না থাকায় কেউ ফিরেও যাচ্ছেন।’ তবে ছাগল বেচাকেনায় দরদামের তর্ক ছিলো কিছুটা সাধ-সাধ্যে মধ্যে। ফলে ক্রেতারা মন্তব্য করেছেন-‘ভারতীয় গরু না আসার অজুহাতে কলারোয়া পশুহাটে গরুতে চড়া, ছাগলে স্থিতিশীল।
এদিকে ঈদ উল আযহাকে সামনে রেখে ঈদের শেষ মুহুর্তে সদর উপজেলার আবাদেরহাট ও কাথন্ডা হাটে কুরবানী গরু কেনাকাটার ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় পড়েছে। একই সাথে এসব হাট বাজারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে বলে সূত্র জানা গেছে। আবাদের হাটে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ২দিন গরু হাট বসে। অপরদিকে কাথন্ডা হাট প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ১দিন গরু হাট বসে। মঙ্গলবার ঈদের শেষ মুহুর্তে কাথন্ডা হাটে ও শনিবার আবাদেরহাটে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের শেষ মুহুর্তে কুরবানী গরু কেনার ধুম পড়েছে। এ হাটে জেলাসহ অন্যান্য জেলা থেকে গরু কিনতে আসেন ক্রেতারা। কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ছোট বড় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার গরু আবাদেরহাটে ও কাথন্ডা হাটে উঠতে দেখা গেছে। আবাদেরহাটে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু উঠতে দেখা গেছে।
এদিকে আশাশুনির বুধহাটা, দেবহাটার পারুলিয়া, তালার পাটকেলঘাটা, কালিগঞ্জের নলতা ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাট জমে উঠেছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর হাটেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কুরবানী ঈদের শেষ মুহুর্তে প্রিয় পশু কেনা কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।