সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে আখ চাষ বিলুপ্তির পথে


495 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে আখ চাষ বিলুপ্তির পথে
মার্চ ৬, ২০১৯ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email
  • দুই দশকের ব্যবধানে এই অর্থকরী ফসলটি উৎপাদন কমেছে ৯৬ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার ::

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে দেশের উপকুলীয় জেলা সাতক্ষীরাতে আখ চাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে। দুই দশকের ব্যবধানে এক সময়ের এই অর্থকরী ফসলটি উৎপাদন কমেছে ৯৬ শতাংশ।
কৃষকরা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আখে ছত্রাক, ডোগা পচা ও লালচে রোগসহ নানা প্রকার সংক্রামক দেখা দিচ্ছে। যে কারনে তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আখ চাষে।
তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর বলছে, শুধু জলবায়ুজনিত কারনেই আখ চাষ কমছে না। এর আরো একটি কারন হলো চিনিকল না থাকার পাশাপাশি ফসলটি এক বছর মেয়াদী হওয়ায় চাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছে আখ চাষে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার দাতপুর গ্রামের কৃষক বৃদ্ধা আব্দুল আজিজ জানান, তার গ্রামের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কৃষক দীর্ঘকাল যাবত আখ চাষ করে আসছেন। তিনিও প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর যাবত আখ উৎপাদন করেছেন। কিন্ত গত ১০ থেকে ১২ বছর যাবত তিনি আখ চাষ আর করছেন না। এর কারন হিসেবে তিনি বলেন, গত ২০০০ সালের বন্যা এবং পরবর্তী ২০০৭ সিডর ও ২০০৯ আইলা‘র প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকে আগের মত আখের ফলন হয় না। ফসলি জমিতে ভালো লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আখ ক্ষেতে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। ডগা পচা, ছত্রাক ও লালচে রোগে আখের মারাত্মক ক্ষতি করছে। ফলে এর কোনো প্রতিকার না পেয়ে ফসলটি চাষ করা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। কৃষক আব্দুল আজিজ আরো বলেন, আখ বীজ রোপন করে এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। অথচ এ সময়ের মধ্যে আরো দু‘একটি ফসল চাষ করা যায়। যে কারনে তার গ্রামের কৃষকরা আখ চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, দুই দশক আগেও এ জেলাতে আখ চাষ হতো ব্যাপক ভাবে। তাদের হিসাব মতে ১৯৯০ সালে সাতক্ষীরা জেলায় আখ চাষ হয়েছে ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। এর পর ২০০০ সালে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৯৪৮ হেক্টর। কিন্ত ২০১০ সালে এ জেলায় আখের আবাদ হয় মাত্র ১৪০ হেক্টর জমিতে। এরপর চলতি মৌসুম ২০১৯ সালে সেই হিসাব দাড়িয়েছে ১২৯ হেক্টর। ফলে গত দুই দশকের ব্যবধানে আখ চাষ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত ২০০০ সালের পর থেকে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে আখসহ সাতক্ষীরা জেলার অন্যান্য ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে কৃষি জমিতে ক্রমাম্বয়ে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারনে আখ, হলুদ, ডাল, সুর্যমুখিসহ অন্যান্য মসল্যাজাত ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, শুধু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনেই আখ চাষ কমছে না। এর আরো একটি কারন হলো চিনিকল না থাকার পাশাপাশি ফসলটি এক বছর মেয়াদী হওয়ায় চাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছে আখ চাষে। সাতক্ষীরা অঞ্চলে চিনিকল না থাকায় চাষি আখ উৎপাদন করে গুড় তৈরী বা চিবিয়ে খাওয়ার জন্য বিক্রি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। তাছাড়া আখ মুলত এক বছর মেয়াদী একটি ফসল। যেখানে বছরে ৩টি ফসল ফলাতে পারে সেখানে এক বছর মেয়াদী আখ চাষ করতে চাচ্ছে না কৃষকরা। এছড়া রোগবালাই সাধারনত সব ফসলেই হয়ে থাকে মক বেশি। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা রোগের প্রতিকারের জন্য কৃষকদের নানা ভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকে।

#