সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে ভুট্টা চাষ কমছে


242 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে ভুট্টা চাষ কমছে
মার্চ ১২, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

লবণাক্ততা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জেলায় ভুট্টা চাষ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে উৎপাদিত ভুট্টার বিপনন ব্যবস্থা না থাকায়। ফলে গত দুই বছরের ব্যবধানে ফসলটির আবাদ কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট বিনেরপোতাস্থ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান এ প্রতিনিধি কে জানান, জেলায় ভুট্টার আবাদ কমে যাওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে লবণাক্ততা বৃদ্ধি। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনও দায়ী। ফলে নেতিবাচক প্রভাবে ফসলটির আবাদ কমছে। তাছাড়া উৎপাদিত ভুট্টা সাতক্ষীরায় বিপনন ব্যবস্থা না থাকা ও কৃষক পর্যায়ে বীজ সংরক্ষণ করতে না পারার কারণেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষক।

তিনি বলেন, যে সময়ে ভুট্টার আবাদ করবে কৃষক তখন আবাদী জমিতে জলবদ্ধতা থাকে। ফলে জলমগ্ন অবস্থায় জমিতে কৃষকরা বীজ বপন করতে পারে না। যে কারণে বাধ্য হয়ে চলে যায় বোরো চাষে। অথচ ভুট্টা চাষে খরচ যেমন কম, আবার বেশি উৎপাদন হয়। উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্টা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হতে পারে। অন্যদিকে লবণসহিঞ্চু বারি-৯ এবং হাইব্রিড-১২ জাতের ভুট্টা বীজ উদ্ভাবন করা হয়েছে কৃষি গবেষণা থেকে। উপকূলীয় জেলায় এসব জাতের ভুট্টা চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারবে। তবে সাতক্ষীরা অঞ্চলের উৎপাদিত ভুট্টার বিপনন ব্যবস্থা তেমন না থাকায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে ফসলটি চাষ করতে। তাছাড়া সাতক্ষীরা অঞ্চলে হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষ হওয়ার কারণে কৃষকরা বীজ সংরক্ষন করতে পারেনা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, গত ২০১৭-১৮ সালে জেলার সাতটি উপজেলাতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছিলো ২২০ হেক্টর জমিতে। এর পরের বছর ২০১৮-১৯ সালে জেলায় ভুট্টা চাষ করা হয় ১৬৫ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চলতি ২০১৯-২০২০ মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে ভুট্টা চাষ হয়েছে ১১৫ হেক্টর জমিতে। ফলে গত দুই বছরের ব্যবধানে জেলায় ভুট্টার আবাদ প্রায় ৫০ শতাংশ পরিমান কমেছে।

চলতি মৌসুমে ১১৫ হেক্টর আবাদের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩১ হেক্টর, কলারোয়ায় ২৫ হেক্টর, তালায় ২৩ হেক্টর, দেবহাটায় ৮ হেক্টর, কালিগঞ্জে ১৯ হেক্টর, আশাশুনিতে ৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৪ হেক্টর।

সদর উপজেলার মিয়া সাহেবেরডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ সরদার জানান, পর পর দুই বছর ভালো ফলন না পাওয়ায় চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষ করেননি। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে গত দুই বছর ভুট্টা চাষ করে লোকসান করেছেন। জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ভুট্টার ভালো ফলন পাননি। তিনি বলেন, গাছ বেড়ে উঠলেও থোড় বা মোচা চিকন হয়ে যায় এবং দানাও ছোট দেখা দেয়। ফলে কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া যায়নি। তাছাড়া যতসামান্য ফলন হলেও তা আবার বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়েছে তার। স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে না পেরে এক মৎস্য খামারীর কাছে কম মুল্যে বিক্রি করেন বলে জানান তিনি। যে কারণে এবার ভুট্টা চাষ করেননি বলে জানান।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার পাঁচনল গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষ করেছেন। যা গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম পরিমান। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গত বছর ৫ বিঘা পরিমান জমিতে চাষ করে সাড়ে ৫ মেট্রিকটন ভুট্টা উৎপাদন করেন। কিন্তু উৎপাদিত ভুট্টা বিক্রি করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তার। অবশেষে জেলায় বিক্রি করতে না পেরে যশোরে নিয়ে ওই ভুট্টা করেন। এতে তার পরিবহন খরচ গুণতে হয় অনেক টাকা। তাই এবার কম পরিমান জমিতে ফসলটি চাষ করেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ অরবিন্দ মন্ডল বলেন, সাতক্ষীরা অঞ্চলে ভুট্টা চাষের উপযোগী হওয়ার পরও বিপনন ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা তেমন আগ্রহ দেখায় না ফসলটি উৎপাদনে। তিনি আরো বলেন, অন্যান্য বছরে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এনজিওরা তাদের প্রকল্পের অধিনে কিছু কিছু কৃষকদের দিয়ে ভুট্টার আবাদ করাতো। কিন্ত গেল ২ বছর বা চলতি মৌসুমে এনজিওদের সেই প্রকল্প দেখা যাচ্ছে না। ফলে ভুট্টার আবাদ কমে যাচ্ছে সাতক্ষীরা জেলায়। তাছাড়া জলাবদ্ধতার কারণেও ভুট্টার আবাদ কমছে বলে জানান তিনি।

এই কৃষিবিদ আরো জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় প্যাসিফিক, ডন, কোহিনুর ও বারি-৯ জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়েছে।