সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতায় ৫৪ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি : জেলা কৃষিসম্প্রসারন বিভাগের তথ্য


374 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতায় ৫৪ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি : জেলা কৃষিসম্প্রসারন বিভাগের তথ্য
জুলাই ২৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
জলাবদ্ধতায় সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলায় ৪৪ লাখ টাকার আউশ ধান ও আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অন্যদিকে পাট, সবজির ক্ষতি হয়েছে আরো ১০ লাখ টাকার। সম্প্রতি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসন করা না গেলে ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে কৃষকরা। তবে তালা, দেবহাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলার ধানের ফসল পানিতে নিমজ্জিত হলেও কোন এখনও তেমন কোন ক্ষতি হয়নি বলে সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জামিতে আউশ ও ৭৭০ হেক্টর জামিতে আমন বীজতলার চাষ হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বর্ষায় ৪৫ হেক্টর জামির আউশ ও ১০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার মূল্য ২১ লাখ  ৭৭ হাজার টাকা।
কলোরোয়া উপজেলায় ২ হাজার ৭৭০ হেক্টর জামিতে আউশ ও ১০০ হেক্টর জামিতে আমন বীজতলার চাষ হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বর্ষায় ৪০ হেক্টর জামির আউশ ও ১০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার মূল্য ১৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
আশাশুনি উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জামিতে আউশ ও ১৩৫ হেক্টর জামিতে আমন বীজতলার চাষ হয়। কিন্তু বর্ষায় শুধুমাত্র ৫ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার মূল্য ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
শ্যামনগর উপজেলায় ১০৫ হেক্টর জামিতে আউশ ও ৪২ হেক্টর জামিতে আমন বীজতলার চাষ হয়। কিন্তু ৭০ হেক্টর জামির আউশ ও ৩০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার মূল্য ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসেব অনুযায়ী তালা উপজেলায় আউশ ৫০ হেক্টর, আমন বীজতলা ১৫ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় আউশ ধানের ৫ হেক্টর ও ৫ হেক্টর জমির আমন বীজতলা এবং কালিগঞ্জ উপজেলার আউশ ধানের কোন ক্ষতি না হলেও ৫০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু সেখানে ক্ষতির পরিমাণ দেখানো হয়নি। অন্যদিকে জেলায় বিভিন্ন এলাকায় পাট, বেগুন, করলা, ঝিঙেসহ বিভিন্ন সবজি ফসলের ক্ষতি হয়েছে অন্তত আরো ১০ লক্ষ টাকার।
সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সদর, কলারোয়া, তালা উপজেলার বিলগুলো। কৃষি বিভাগের রিপোর্টে তালা উপজেরার কোন ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত ব্লক সুপারভাইজাররা ইউনিয়নে না গিয়ে মনগড়া রিপোর্ট প্রদান করে। তারা অফিসে বসে একটি তথ্য সরবরাহ করেন বলে অনেক কৃষক অভিযোগ করেন। তারা অভিযোগ করেন, জেলার অধিকাংশ বিল পানিতে ভরপুর হলেও তাদের দেখা যায় না। আমরা এখন কিভাবে চাষ করব, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে দ্রুত ফসল উৎপাদন করব তার কোন তথ্য তারা প্রদান করেন না। তারা আরো জানায়, সদর উপজেলা বিভিন্ন বিলে জলাবদ্ধতা থাকে। সেখানে কোন ধান চাষ করলে কৃষকরা সুবিধা পাবে তার কোন খোঁজ পাননা তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনের কাজ চলছে। দ্রুত পানি না কমলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। তিনি পানি নিষ্কাশন হওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের উঁচু জমিতে আমন ধানের বীজতলা তৈরি পরামর্শ প্রদান করেন।