সাতক্ষীরায় জামাত-শিবির সংশ্লিষ্ঠতা : স্টাফ’র অনুষ্ঠানের ৮ অতিথির ৬ জনই অনুপুস্থিত !


546 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জামাত-শিবির সংশ্লিষ্ঠতা : স্টাফ’র অনুষ্ঠানের ৮ অতিথির ৬ জনই অনুপুস্থিত !
অক্টোবর ৩০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

বিশেষ প্রতিনিধি :
স্টিডেন্টস ট্যালেন্ট এ্যাসিস্ট্যান্স ফোরাম (স্টাফ) এর বিরুদ্ধে জামাত শিবির সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগ উঠায় আমন্ত্রিত ৮ অতিথির ৬ জনই কৃতি ছাত্র-ছাত্রী সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রফেসর এ.কে.এম মোকাররম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির নাম দিয়ে আমন্ত্রণপত্র ছাপানো হয়। উদ্বোধক হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মনসুর আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আব্দুস সাদী’র উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা কেউই শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে যাননি ।

অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্রে তাদের নাম দেখে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িতদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়। তারা এ ধরনের বিতর্কিত সংস্থার অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের উপস্থিতি তৃণমূলে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শকে সমুন্নত রাখতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিতে নেতৃনন্দ স্টাফ’র অনুষ্ঠান বর্জন করেন।

এদিকে, স্টাফ’র অনুষ্ঠান বয়কট করায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশু, ডেপুটি কামন্ডার আবু বকর সিদ্দিক, সদর উপজেলা কমান্ডার হাসানুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, গণজাগরণ মঞ্চ, পৌর যুবলীগসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন সদর সাংসদ, জেলা আ.লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ভবিষ্যতেও এধরনের স্বাধীনতা বিরোধীদের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসীদের উপস্থিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, স্টিউডেন্টস ট্যালেন্ট এ্যাসিস্ট্যান্স ফোরাম (স্টাফ) নামের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার বিরোধী এই চক্রটি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কতিপয় অর্থলোলুপ ও মূল্যবোধহীন শিক্ষকের সহায়তায় কোমমতি শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা অংশগ্রহণ ফি নিয়ে কথিত বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে। জেলার সকল উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে এই চক্রের এজেন্ট। তথাকথিত বৃত্তি বিতরণের অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আদায় করা হয় বিপুল অংকের চাঁদা। স্টাফ’র সাথে সরাসরি জড়িত প্রায় সকলেই জামাত-শিবিরপন্থী, কেউ কেউ বিএনপিপন্থী। আওয়ামীলীগ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একজন ব্যক্তিও এর সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত কুখ্যাত রাজাকার বদরবাহিনী প্রধান আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ চার দলীয় জোট সরকারের সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রলায়ের মন্ত্রী থাকাকলীন স্টাফ নামের এই এনজিওটি সাতক্ষীরার তৎকালীন সংসদ সদস্য কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল খালেক মন্ডল(বর্তমানে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে)’র তদ্বিরে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায়।
স্টিউডেন্টস ট্যালেন্ট এ্যাসিস্ট্যান্স ফোরাম(স্টাফ) জোট সরকারের সময় জেলা আ.লীগ নেতৃবৃন্দকে তাদের অনুষ্ঠানে অতিথি না করলেও ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর খোলস বদলে সরকারদলীয় লোকজনকে অধিকহারে অতিথি করে সুকৌশলে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।