সাতক্ষীরায় জামায়াত-বিএনপি পন্থীদের ফুলের তোড়া দিয়ে আ’লীগে যোগদানের হিড়িক !


858 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জামায়াত-বিএনপি পন্থীদের ফুলের তোড়া দিয়ে আ’লীগে যোগদানের হিড়িক !
নভেম্বর ৪, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

খন্দকার আনিসুর রহমান :
আসন্ন ইউপি ও পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি,হাইব্রিড, সুযোগ সন্ধানীদের আওয়ামীলীগে যোগদানের হিড়িক পড়েছে। গত এক মাসে সাতক্ষীরা জেলা শহর ও সদরে প্রায় ১৫ জন বিএনপি ও জামায়াতপন্থি নেতা-কর্মী সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের নীতি-নির্ধারকদের হাতে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে ঘটা করে আওয়ামীলীগের যোগদানের ঘোষনা দিয়েছেন। তাদের  লক্ষ্য একটাই, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া।  তারা মনে করছে আওয়ামীলীগে টিকিটে নির্বাচনে অংশ নিলে জয়লাভ কনেকখানি সুনিশ্চিত।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহম্মেদ বিএনপি ও জামায়াতপন্থিদের দলে (আওয়ামীলীগে) নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ফুল দেওয়া-নেওয়া বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আর এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম শওকাত হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, জেলা আওয়ামীলীগ গত ১২ অক্টোবর আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে এইমূহুর্তে দলে নতুন করে কাউকে যোগদান করানো যাবে না। এর প্রেক্ষিতে আমরা গত ১৭ অক্টোবর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি আলোচনা করে  সকল ইউনিয়ন কমিটির নেতাকর্মীদের এসব তথ্য জানিয়ে দিয়েছি।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, গত এক মাসে সাতক্ষীরা বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় সাতক্ষীরা সদরের ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বি এন পি সমর্থিত গোলাম কবির, একই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর দহাখুলা গ্রামের জামায়াত নেতা মেম্বর মোঃ কওছার আলী, সাতক্ষীরা পৌর সাবেক পৌর কমিশনার জামায়াত নেতা ও জামায়াতের অর্থ যোগানদাতা মোঃ শহিদুল ইসলামসহ সদরের শিবপুর, বৈকারী, আগরদাড়ীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাইব্রিড নেতা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে  আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন।স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় ছবিসহ যোগদানের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব সুযোগসন্ধানীদের লক্ষ্য আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। এনিয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

বিএনপি ও জামায়াতপন্থি জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামীলীগে যোগদান করছে এমন সংবাদ ও ছবি স্থানীয় পত্রিকায় দেখে ত্যাগী নেতা-কর্মী যেমনই হতবাক হয়েছে, তেমনি হয়েছেন হতাশ। বিশেয় করে জামায়াতপন্থী নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদানের খবর পত্রিকায় পড়ে  মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি রীতিমত হতবাক হয়েছেন।

এ ব্যাপারে ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বি এন পি সমর্থিত গোলাম কবিরের সাথে  ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর  তিনি বলেন, পরে ফ্রি হয়ে কথা বলবেন। এখন তিনি ব্যবস্ত আছেন।

গত বৃহষ্পতিবার বিকালে সাতক্ষীরা পৌর যুবলীগের আয়োজনে ছিলো ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল। জানা গেছে জেলা ও পৌর যুবলীগ সমন্বয় করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে উক্ত ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বি এন পি নেতা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য কলারোয়ার হাবিবুল ইসলাম হাবিবের অন্যতমসহচর জাহাঙ্গীর হোসেনকে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুত দিয়ে তাকে ওই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি করতে চেয়েছিলো একটি প্রভাবশালী মহল। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে নাচ-গান আর আলোচনা হলেও হয়নি কাউন্সিল। এরও পিছনে রয়েছে আরেক কাহিনী।

ওই কাউন্সিল অধিবেশন উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা এমপি মিসেস রিফাত আমিন। কিন্তু প্রধান অতিথি সদর (২) আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি ও বিশেষ অতিথি জেলা আওয়ামীলীগের  সভাপতি মনসুর আহম্মেদ অনুষ্ঠানে যোগদান করেননি । বরং যেসেব নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন তারা দ্রুত বক্তব্য শেষ করে স্থান ত্যাগ করেন।

নেতৃবৃন্দের না আসা আর কারো ক্ষেত্রে দ্রুত স্থান ত্যাগের কারন হিসাবে জানা গেছে, যার অর্থে বৃহষ্পতিবার লাল নীল আলো দিয়ে জামকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো সে আর কেউ নয়, তার নাম মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন ।  তার মুল শেকড় কলারোয়ার আলাইপুরে। সে বি এন পির এজেন্ট হিসাবে দীর্ঘ দিন ধরে সাতক্ষীরা শহরে কাজ করছেন। তালা-কলারোয়ার বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের অন্যমত সহচর। এখানেই শেষ নয়  জাহাঙ্গীরের এক আপন ভাই কলারোয়ায় প্রধানমন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলার একজন অন্যতম আসামী। বর্তমানে যুবলীগের কতিপয় নেতা তাকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে সাতক্ষীরা পৌর সভার ৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের প্রার্থী বানানোর মিশন নিয়ে কাজ করছে।

এব্যাপারে ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে বলেন, আমি আওয়ামীলীগের দল করি। কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল।

এদিকে, জাহাঙ্গীর হোসেন সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের এক নেতা জানান, জাহাঙ্গিরকে কখনোই আমি আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে দেখিনি। তাকে আমরা চিনি বিএনপি নেতা হাবিবের অন্যতম সহােযগি হিসেবে। সামনে নির্বাচন তাই উনি এত লাফাচ্ছে দলীয় টিকিট নেওয়ার জন্য।

শুধু জাহাঙ্গির গংরা নয়, জেলা ব্যাপী জামায়াত-বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী আগামী ইউনিয়র পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে বিভিন্ন ভাবে দৌড়-ঝাপ শুরু করেছেন। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক দুর্নীতিবাজ নেতা তাদেরকে সাহায্য করছে, দিচ্ছে নানা পরামর্শ। ইতমধ্যে অনেকেই সুযোগবুঝে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেছেন।

আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের দাবী, দীর্ঘ দিন ধরে জামায়াত-বিএনপি’র নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক ত্যাগের মধ্যে কিছুই পায়নি। সামনে নির্বাচন । এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আশায় বুক বেধেছি যদি যোগ্যতা থাকে দল থেকে নমিনেশন চেয়ে যদি পায় তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে জয়লাভ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও প্রধানমন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করবো। কিন্তু হাইব্রিড নেতা আর জামায়াত-বিএনপির সুযোগ সন্ধানীরা সে পথ রুদ্ধ করে ফেলতে শুরু করেছে। আর আমাদের নেতারা বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে সেই সুযোগ করে দিচ্ছেন। তারা বলেন, এটা হতে দেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগের দুর্নীতিপরায়ন ওইসব নেতাদের মুখোশ উ¤েœাচন করে দেয়া হবে। তারা এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনার আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক ত্যাগী নেতা অব্যশ বলেছেন, জামায়াত-বিএনপি তো দুরে থাক, নতুন করে কাউকে দলে নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা নিচ্ছেন বা আশ্বাস দিচ্ছেন তাদের তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। আগামী নির্বাচনে প্রকৃত ত্যাগী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দলীয় নমিনেশন পাবেন।  এখানে অনুপ্রবেশকারীদের কোন সুযোগ নেই।