সাতক্ষীরায় জাল সনদ নিয়ে ওকালতি : বাপ্পীর সদস্য পদ বাতিল


982 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জাল সনদ নিয়ে ওকালতি : বাপ্পীর সদস্য পদ বাতিল
মে ২৯, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক/বাবলুর রহমান ::
জাল সনদ নিয়ে ওকালতি করায় মিজানুর রহমান বাপ্পির সদস্য পদ বাতিল করেছে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. ওসমান গণি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। ফলে ঐ দিন থেকেই বাপ্পী জেলা জজশীপে কোন মামলা পরিচালনা করতে পারছেন না। বিষয়টি জেলা দায়রা জজসহ সকল আদালতকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। তার লাইসেন্স বাতিল করার জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকেও চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জজশীপের পিপি এড. ওসমান গণি জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় কার্যনির্বাহী কমিটিতে যাচাই বাছাই করে সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সূত্র জানায়, মিজানুর রহমান বাপ্পী শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলকাটি গ্রামের এস এম আব্দুল আজিজের পুত্র ভারতে লেখাপড়া করেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে ২০০৮ সালে বার কাউন্সিলের সনদ গ্রহণ করেন। ঐ বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ গ্রহণ করেন। ঐ সময়ে সমিতির সভাপতি তার সনদ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও আইনজীবীর কল্যনে তিনি সদস্য পদ লাভ করেন। যদিও সে সময় তার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ দাখিল করেন নি। সম্প্রতি মিজানুর রহমান বাপ্পীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জেলা আইনজীবী সতিতির পক্ষ থেকে তাকে নোটিশ দিয়ে পাসপোর্ট ও আইন পরীক্ষা পাশের মূল সনদ হাজির করতে বলেন। কিন্তু বাপ্পী মূল সনদ দেখাতে ব্যার্থ হয়। গত ২৩ মে আইনজীবী সমিতির কার্য নির্বাহী কমিটির সভায় বাপ্পীর উপস্থিতিতে শুনানী গ্রহণ করা হয়। শুনানীতে তার সনদ জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বাতিল করা হয়।
আদালতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আদালতে আইজনীবী হিসেবে পরিচিত আরো কয়েকজন আইনজীবী ভুয়া সনদ নিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ করেছে। সমিতি তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জজশীপের পিপি এড. ওসমান গণি জানান, সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। ফলে তিনি আদালতে আর মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না। এ বিষয়ে জজশীপের সকল আদালতকে অবহিত করা হয়েছে।