সাতক্ষীরায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বাসায় কাজের মেয়ে শিশু বিথী বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন


912 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বাসায় কাজের মেয়ে শিশু বিথী বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন
আগস্ট ২৫, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান মিন্টু :
সাতক্ষীরায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল ইসলামের বাসায় দশ বছর বয়েসের কাজের মেয়ে বিথী বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা আদালত চত্বরের সামনে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের ধারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিক সমাজ এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে কাজের মেয়ে শিশু বিথী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো: নূরুল ইসলাম, তার স্ত্রী তানিশা বেগম এবং তার শ্বাশুড়ি বিউটি বেগমের নামে মামলা দায়ের, তাদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা হাসনে জাহিদ জজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মো: নজরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সাইফুল করিম সাবু, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যান ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কহিনূর ইসলাম,  সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আবু সায়ীদ, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত, সাংবাদিক অসীম চক্রবর্তী, দৈনিক দক্ষিণের মশাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, শ্রমিক নেতা হারুন উর রশিদ , তৌহিদুর রহমান ডাবলু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, গত বুধবার (১৯ আগষ্ট) বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল ইসলামের ভাড়া বাসা থেকে কাজের মেয়ে বিথীকে মারাত্বক অসুস্থ্য অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর থানা ওসি এমদাদ শেখ  ও সাতক্ষীরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিতাই চন্দ্র শাহ উদ্ধার করেন। ওই দিন বিকেলে শিশু মেয়েটিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেয়েটির কঙ্কলসার শরীরে কমপক্ষে ৩০ টি আঘাতের চিহ্ন ও দগদগে ঘা রয়েছে। তার শরীরের একাধিক স্থানে গরম ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। বর্বর এই নির্যাতনের ঘটনার বিচার চেয়ে শিশুটির পিতা মাগুরার শালিখা উপজেলার বড় আমিয়ান গ্রামের গোলাম রসুল বাদি হয়ে ঘটনার পরের দিন সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগপত্র দিলেও পুলিশ আজও মামলাটি থানায় রেকর্ড করেনি।

তারা অবিলম্বে ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল ইসলামসহ জড়ীতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তাদের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, পুলিশ মামলাটি রেকর্ড না করায় স্থানীয় সচেতন মানুষ হতাশ হয়েছেন। এই মামলা থেকে ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। তারা বলেন, বর্বর এই ঘটনার বিচার না হলে সাতক্ষীরার মানুষ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

IMG_20150819_171537 copy

প্রসঙ্গত. কাজের মেয়ে বিথী (১০) কে  গত বুধবার বিকালে সাতক্ষীরার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল ইসলামের জেলা শহরের পলাশপোলস্থ ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ্য অবস্থায় তাকে সাতক্ষীরা সদর  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত ১৯ আগষ্ট বুধবার দুপুর ১টা থেকে মেয়েটি বাড়ির ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ‘পানি দাও, পানি খাব’ বলে আকুতি জানালে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। কিন্তু ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় তারা তাকে সাহায্য করতে পারেননি। পরে প্রতিবেশীরা বিভিন্ন স্থানে জানাজানি করলে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। এরপরও  ঘন্টা দেড়েক পুলিশকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

পরে সাতক্ষীরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিতাই চন্দ্র সাহা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নম্বর-১ শিমুল কুমার বিশ্বাস, সাতক্ষীরা সদর এএসপি সার্কেল আনোয়ার সাঈদ, সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ আব্দুল সাদীসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এলে ঘরের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এসময় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তার গায়ে পোড়া, ছ্যাঁকা এবং আঘাতের ৩০টিরও বেশী চিহ্ন রয়েছে।

Magistrate 2 copy

সাতক্ষীরা শহরের টাউনবাজার ব্রীজের বিপরীতে পলাশপোল মহল্লায় মো: আকরাম হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন সাতক্ষীরা আদালতের জুডিসিয়াল  ম্যাজিস্ট্রেট,চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙা উপজেলার মো: নূরুল ইসলাম। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, তিনি ও তার স্ত্রী তানিশা প্রায়ই শিশুটির ওপর নির্যাতন করে থাকেন।

প্রতিবেশীরা মেয়েটির চিৎকার শুনে এগিয়ে এলেও তার সঙ্গে তারা কথা বলতে দিতেন না। দিনভর ঘরের দরজা বন্ধ থাকতো ।  মেয়েটির পিতা বা স্বজনদের সাথেও মোবাইলে কথা বলতে দেয়া হতো না শিশুটিকে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকমত খাবারও দেয়া হতো না মেয়েটিকে। না খেয়ে তার শরীর যেনো ন্যুয়ে পড়েছে। মেয়েটি এতোটাই দুর্বল যে, তার কথা বলা বা ঠিক মতো চলারও শক্তি নেই।

মেয়েটি তার নাম বিথী ইসলাম এবং বাবার নাম গোলাম রসুল উল্লেখ করে জানায়, মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বড় আমিয়ান গ্রামে তার বাড়ি। ক্লাস থ্রি তে পড়াকালীন তার বাবা তার মাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। তার প্রতিবেশি কাকা পরিচয়ের সাতক্ষীরা চীফ জুডিশিয়াল আদালতের কর্মচারী সোহরাব হোসেন সোহাগ তাকে সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল ইসলামের বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসাবে নিয়োগ করান।