সাতক্ষীরায় জেএমবি’র সিরিজ বোমা হামলা মামলায় ১২ জনের কারাদন্ড


221 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জেএমবি’র সিরিজ বোমা হামলা মামলায় ১২ জনের কারাদন্ড
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

#

৭ জনের ১৩ বছর, ১ জনের ১০ বছর, ৪ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড, ২ জন খালাস

ইয়ারুল ইসলাম :

সাতক্ষীরায় ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্টের সিরিজ বোমা হামলা মামলার রায়ে ৭ আসামীকে ১৩ বছর করে সাজা দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় একজনকে ১০ বছর এবং আরও ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ২ জন আসামী।
নিñিদ্র নিরাপত্তা ও পিনপতন নীরবতার মধ্যে জনাকীর্ণ আদালতে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর পর এই রায় ঘোষনা করা হল।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম বুধবার এই রায় ঘোষনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন জজ আদালতের পিপি এ্যাড. আব্দুল লতিফ। তাকে সহায়তা করেন অতিরিক্ত পিপি এ্যাড. আব্দুস সামাদ। এসময় তারা বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমান এবং আলামত জব্দের মধ্য দিয়ে প্রমানিত হয়েছে যে এ মামলার সকলেই দোষী। রায়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে আরও বলেন এই বিচারের মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই রায়ের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অপরাধের সাথে কেউ জড়িত হবেন না বলে প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
মামলায় আসামীপক্ষে ছিলেন এ্যাড. জিএম আবুবকর সিদ্দীক। তিনি আইনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন আসামীদের বিরুদ্ধে ৩,৪,৬ ধারা প্রযোজ্য নয়। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি।


মামলায় বাদী সহ ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। এর মধ্যে ৫টি মামলার প্রতিটিতে ১৬ জন আসামীর সবাইকে খালাস এবং একটি মামলায় ২৫ আসামীর মধ্যে দুই জন আসামীকে খালাস দেওয়া হয়। রায়ের সময় ১৪ জন আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরা আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. আব্দুস সামাদ জানান, ২০০৫ এর ১৭ আগস্ট সাতক্ষীরা শহরের শহীদ রাজ্জাক পার্ক, জেলা জজ আদালত চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বর, বাস টার্মিনাল ও খুলনা রাস্তা মোড়সহ পাঁচটি স্থানে একযোগে এই বোমা হামলা ও নিষিদ্ধ লিফলেট ছড়ানোর ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বোমা হামলাকারী শহরতলীর ব^াঁকালের দলিলউদ্দিন দফাদারের ছেলে নাসিররুদ্দিন দফাদার প্রত্যক্ষদর্শী বাকাল ইসলামপুর চরের রওশানের দেয়া বিবরণ মতে ধরা পড়ে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাতক্ষীরার রসুলপুরে জেএমবির ঘাটি চিহ্নিত করা হয়। এই সূত্র ধরে ভারতীয় নাগরিক গিয়াসউদ্দিনসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে ঢাকায় জেআইসিতে (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) এ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়া ছাড়াও জেএমবির বহু গোপন তথ্য জানায় তারা। পরে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় সাতক্ষীরায়।
২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট বোমা হামলার ঘটনার পর আসামী সনাক্ত করতে সহায়তাদানকারী অধ্যাপক আনিসুর রহিম বলেন, এই মামলায় আমরা মৃত্যুদন্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু প্রত্যাশিত রায় হয়নি। তার পরেও যাদেরকে সাজা দেয়া হয়েছে তারা যেনো উচ্চ আদালত থেকে খালাস না পায় সেই দাবি রাখছি।
উল্লেখ্য, যে ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট সাতক্ষীরা শহরের শহিদ রাজ্জাক পার্ক, কালেকটরেট চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বর, হাসপাতাল মোড় ও বাস টার্মিনালসহ পাঁচটি পয়েন্টে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ এবং জামায়াতুল মুজাহিদিন জেএমবির লিফলেট ছড়ানো হয়। সকালে এ ঘটনার পর বিকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বরে বোমাহামলাকারী শহরতলির বাঁকাল গ্রামের নাসিরউদ্দিন দফাদার প্রত্যক্ষদর্শীর দেখিয়ে দেওয়া মতে গ্রেফতার হন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিক গিয়াসউদ্দিনসহ আরও অনেক আসামি একে একে গ্রেফতার হন। পুলিশ শহরের রসুলপুরে জেএমবির ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমান বোমার সরঞ্জাম জব্দ করে। গ্রেফতার হওয়া ১৩ আসামিকে ঢাকায় জেআইসিতে ( জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। এ সংক্রান্ত ছয়টি মামলার প্রতিটিতে সিআইডি পুলিশ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয় ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ।

এ মামলায় ১৩ বছর কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন মনিরুজ্জান মুন্না, নাইমুদ্দিন ওরফে সাইফ, মো. সফরউদ্দিন, মো. গিয়াসউদ্দিন, বেল্লাল হোসেন, ইসমাইল হোসেন ও মাহবুবুর রহমান লিটন। দশ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম নুর আলি মেম্বর। অপরদিকে সর্বোচ্চ ৬ ও সর্বনি¤œ তিন বছর সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, মমতাজ উদ্দিন ওরফে মন্তাজ,আসাদুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন আসাদুজ্জান হাজারি ও আবুল খায়ের। চার আসামি পলাতক রয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর কারাগারে মারা গেছেন আসামি নাসিরউদ্দিন দফাদার।

#