সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ নির্বাচন জমে উঠেছে: জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম


1042 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ নির্বাচন জমে উঠেছে: জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

রাহাত রাজা:
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচনের মাত্র কয়েদিন বাকী। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যানপদে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহম্মেদ।

তার প্রতিদ্বন্দি হিসেবে মটর সাইকেল নিয়ে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের বারবার নির্বাচিত সদালাপী সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

এদিকে তৃণমুল স্তরের নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন না করে কেন্দ্র যেভাবে মুনসুর আহম্মেদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রার্থী করেছেন সেজন্য যার পর নেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকেই। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মধ্যে লড়াই না হয়ে ত্রিমুখী

প্রতিদ্বন্দিতা হলে ভোট ভাগাভাগির অঙ্কে এ আসন আওয়ামী লীগের হাত ছাড়া হওয়াটা অসম্ভব ছিল না।

সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলায় দু’টি পৌরসভা ও ৭৮টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। পৌরসভার মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ও সদস্যরা এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

সে অনুযায়ী ভোটার তালিকায় এক হাজার ৫১ জন ভোটারের নাম রয়েছে। তবে শ্যামনগরের কৈখালি ও রমজাননগর ইউনিয়নে ভোটার তালিকা নিয়ে হাইকোর্টের একটি স্থগিতাদেশ শেষ পর্যন্ত এ নির্বাচনে কি প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা নির্বাচন কমিশনার এইচএম কামরুল হাসান।

তবে এ দু’টি ইউনিয়নে ভোট না হলে ২৬জন ভোটার কমে যাবে। পুরুষ সদস্য পদে ১৫টি পদের বিপরীতে ৭৫জন ও পাঁচজন নারী সদস্যের বিপরীতে ১৯জন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

জেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। সকল মানুষের সঙ্গে সমান ব্যবহারকারি হিসেবে তার সুনাম রয়েছে।

দলীয় রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত সৎ লোক হিসেবে তিনি স্বীকৃত। তাছাড়া তার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে পাঁচ বছর কাজ করার সুবাদে অনিয়ম ও দূর্ণীতির ইতিহাস কম।

অপরদিকে বিগত পাঁচ বছর জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনকালে জেলা পরিষদের গাছ কেটে বিক্রি করে লুটপাট, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দূর্ণীতিবাজ মাহাবুবর রহমানকে প্রাধান্য দিয়ে জলবায়ু ট্রাষ্টের গৃহনির্মাণে ব্যাপক

দূর্ণীতি, এ নিয়ে হাইকোর্টে রিটকারিদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাড. সত্যরঞ্জন ম-লের বাড়িতে হামলা চালানো, মাহাবুবর রহমানের বদলী বন্ধ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা, জেলা পরিষদের জায়গা ইজারা

দেওয়ার দূর্ণীতি,পুকুর , খেয়াঘাট, এডিবি’র অর্থায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে সিডিউল বিক্রিতে অনিয়মসহ মন্দির, মসজিদ, ঈদগাহ ও শ্মশান সংস্কারের টাকা বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।

যার দায় এড়ানোর সূযোগ নেই মুনসুর আহম্মেদের। এ ছাড়া গত ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ খ-ন করে নজরুল

ইসলামের বিরুদ্ধে জাময়াতী কানেকশন আছে এমন কথা বলে পার পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা কর্মী।

তবে মুনসুর আহম্মেদের ঘনিষ্ট হিসেবে পারভেজ, সার্ভেয়র মিঠু, আবু তালেব, ছিদ্দিকুর রহমানসহ একটি মহল যেভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তা মুনসুর আহেম্মেদের জয় পরাজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হক সরদার,ভোমরা ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম আমীর হামজা, বিষ্ণুপুর ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান, নিরঞ্জন কুমার পাল, শংকর কুমার দত্ত

জানান, নজরুল ইসলামের মত ব্যক্তিত্বকে জেলা পরিষদে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। স্থানীয় যাঁচাই- বাছাই কমিটি বিগত পৌরসভা নির্বাচনে নজরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত

নিলেও নিয়ম বহির্ভুতভাবে শাহাদাৎ হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ায় তারা যার পর নেই ক্ষুব্ধ হন। এরপরও আগামি ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনে যেভাবে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে তা মনে নেওয়া যায় না।

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তৃণমূল স্তর থেকে সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে বলবেন আর কোন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের কোন মতা,তের মূল্য দেবেন না এটা যে কোন গণতান্ত্রিক সংগঠনের গঠণতন্ত্র পরিপন্থি।
তারা আরো জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বড় উন্নয়নের জায়গা জেলা পরিষদ।

এ জেলা পরিষদের আওতায় যে কাজ হয় তার স্বচ্ছতা না থাকলে উন্নয়ন কর্মকা- মুখ থুবড়ে পড়বে। তবে সাতক্ষীরার উন্নয়নে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমনানের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

আগামি নির্বাচনে নজরুল ইসলাম জয়লাভ করে তাকে অন্যত্র বদলী ও পূর্বের দূর্ণীতির সকল তদন্ত হবে বলে মনে করেন তারা। এ নির্বাচনে ভোটারদের নিয়ন্ত্রণ করতে অবৈধ লেনদেন না হলে ও প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ থাকলে ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে নজরুল ইসলাম জয়ী হবেন বলে মনে করেন তারা।

তবে বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজউদ্দিন ও দক্ষিণশ্রীপুর ইউপি সরকার প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জামায়াতি কানেকশন রয়েছে। মুনসুর আহম্মেদ পরাজিত হলে জামায়াত লাভবান হবে।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহম্মেদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাথে আছেন। দলের কাছে তিনি পরিক্ষীত নেতা। এজন্য নেত্রী তাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়ন করেছেন। যারা

জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালো বাসেন, নৌকা প্রতীক ভালো বাসেন তারা সবাই নির্বাচনে তার সাথে আছেন। আর যিনি জননেত্রীর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা তার জবাব দেবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটাররা যাকে ভালো মনে করবেন তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন এটাই নিয়ম। মানুষ জেলা পরিষদের সেবা দেখেছে।

ভোটাররা সবসময় ভালো কিছু আশা করে। নতুন কিছুর প্রত্যাশায় ভোটাররা নির্বাচনে তাকে জয়ী করে নানা অনিয়ম ও অপ্রাপ্তীর প্রতিশোধ নেবে বলে তিনি মনে করেন।

সাতক্ষীরার প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা এইচএম কামরুল ইসলাম জানান, কৈখালি ও রমজাননগর ইউনিয়নে ভোট বন্ধ সংক্রান্ত হাইকের্টের আদেশ তারা পেয়েছেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে করণীয় জানতে তিনি ইতিমধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরণের চেষ্টা অব্যহত রাখা হয়েছে। এ নির্বাচনে ভোটারদের মতামত প্রাধান্য পাবে।

কোন অনিয়ম ও ত্রুটি চোখে পড়লে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তাৎক্ষণিত ব্যবস্থা নেবেন।
##