সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের স্বপ্ন


114 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গেছে কৃষকের স্বপ্ন
মে ১৪, ২০২২ কলারোয়া কৃষি দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান ::

এ বছর ইরি-বোরো ধান নিয়ে খুব বিপদে আছি। গেল মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে টমেটো লাগিয়েছিলাম। এক ধরনের পোকায় সবই নষ্ট হয়ে গেল। এবার ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করলাম। কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজে ও তলিয়ে গেছে। ধান- বিচলি সবই শেষ। এখন সার-সেচের টাকা কিভাবে শোধ করব ? সব মিলে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি। বর্তমানে দুই চোখে অন্ধকার দেখছি ! শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার নারিকেল তলার মাঠে আসানির প্রভাবে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া ধানের জমির মালিক কৃষক আব্দুল মাজেদ আক্ষেপ করে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত এই কৃষকের বাড়ি উপজেলার কামারালী গ্রামে।
আব্দুল মাজেদ জানান, ধান ভালো হয়েছিল। পাকা ধান প্রায় এক সপ্তাহ আগে কেটে ক্ষেতেই রোদে শুকাতে দিয়েছিলাম। কিন্তু ঝড় বাদল শুরু হওয়ায় কাটা ধান আর বাড়ি আনা সম্ভব হয়নি। ক্ষেতে হাটু পানি জমে ছিলো। গত দুই দিন ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষেতে পানি কিছুটা সরে গেছে। তার পরেও পানিতে ভাসছে। ধান গাছ পচে যাচ্ছে। অনেক ধানে কল হয়ে গেছে। খুবই বিপদে আছি।
কেবলমাত্র কৃষক আব্দুল মাজেদ নন, এমন বিপদে আছেন কলারোয়া উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের অনেক কৃষক। কয়েকজন কৃষক জানান, ঈদের দিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর টানা দুই দিন কড়া তাপদাহের পর আবারো টানা পাঁচ দিন থেমে থেমে মাঝারি বৃষ্টি হয়। সঙ্গে ঝড় বইছে। আর এই বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো বাতাসে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, ফসল রক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও বৃষ্টিতে মিলছে না শ্রমিক। এতে ক্ষেতে পচে যাচ্ছে ধান। পানিতে নষ্ট হচ্ছে তাদের শপ্ন। উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় পানিতে ধান তলিয়ে গেছে বা ভিজে নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
উপজেলা ওফাপুর গ্রামের কৃষক মফিজুল ইসলাম জানান, এ বচর তিনি সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে ইরি ধান চাষ করেছেন তার ক্ষেতে সব ধান পেকে গেছে। তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান কেটে ক্ষেতে শুকাতে দিয়েছিলেন। টানা পাচ দিনে বৃষ্টিতে তার ওইসব ক্ষেতে ধান ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। পরে বৃষ্টি থামলে ধান রাস্তার উপরে উঠিয়ে শুকাতে দিলে অনেক ধান শীষ ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। আবর অনেক ধানে কল হয়ে গেছে। বেশি টাকা দিলেও কোন ¤্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে তিনি।
উপজেলার পাঁচনল গ্রামের সহিদুল ইসলাম জানান, তার ৪ বিঘা ধানের মধ্যে ১০ কাটা জমির ধান বাড়িতে নিয়ে আসছে। বাকি ধান মাঠে ভিজে গেছে। বিচলি হবে না। আটি কেটে বাড়ি আনতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিেফকুল ইসলাম জানান, এ বছর উপজেলায় ব্যাপক ইরি ধান জন্মেছিলো। তবে বৃষ্টিতে খুবই ক্ষতি হয়েছে। তারপরে প্রায় ৫৫ ভাগ কৃষক তাদের ধান বাড়ি নিয়ে আসছে। বৃষ্টিতে ক্ষেতে কেটে রাখা ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ভিজে যাওয়া ধানের গাছ থেকে শীষ ভেঙ্গে পড়ছে। অনেক ধানে কল হয়ে গেছে। তাছাড়া ভিজে যাওয়া ধানের দাম কম হবে। তবে আর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। যদি আর বৃষ্টি না হয় তাহলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

#