সাতক্ষীরায় ডাক্তারদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার : দাবী না মানলে ঈদের পরে আবারও কর্মসূচি


407 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ডাক্তারদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার : দাবী না মানলে ঈদের পরে আবারও কর্মসূচি
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৫ Uncategorized
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর সারাদিন ও ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ২ টা পর্যন্ত সাতক্ষীরার সকল ক্লিনিকে ধর্মঘট পালন করা হয়। আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে রোগীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ডাক্তারদের ডাকা ধর্মঘট সাময়িক প্রত্যাহার করা হয়। পবিত্র ঈদের ছুটির পর দাবী সমূহ আদায় না হলে পূনরায় কর্মসূচী প্রদান করা হবে বলে জানান চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্মাদক ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, রোগীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে চিকিৎসকদের এই ধর্মঘট সামঢিক প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে ঈদের ছুটি শেষে চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমে ইমেইলে আন্দোলনকারী ডাক্তারদের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কথায় কথায় ঠুনকো অজুহাতে চিকিৎসকদের উপর মানষিক ও শারিরীক হয়রানী এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এর প্রতিবাদে ও চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে পেশাগত নিরাপত্তা বিধান এবং “অপারেশন সম্মতি পত্র” -এর যথাযথ মূল্যায়নের দাবীতে আমাদের এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। আমাদের আন্দোলন করো বিরুদ্ধে নয়, আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন একটি প্রচলিত কালো প্রথার বিরুদ্ধে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষেই শহরের ক্লিনিকগুলো পরিচালিত হবার কথা। অনুমতি বিহীন ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থ নেবার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। একজন চিকিৎসক কখনোই কোন রোগীর মৃত্যু কামনা করেন না। জীবনের মালিক সৃষ্টিকর্তা। চিকিৎসকরা তার মেধা আর অভিজ্ঞতা দিয়ে রোগীর রোগ উপশমের চেষ্টা করেন মাত্র। যে কোন অস্ত্রপচারের আগেই “অপারেশন সম্মতি পত্র” -তে রোগী বা তার অবিভাবকদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কাজেই রোগী অপাারেশনের সময় মারা গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হত্য মামলা হওয়া দুঃখজনক। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। তিনি সাংবাদিক ভাইদেরকে চিকিৎসা বিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। আজ সাতক্ষীরার সর্বস্তরের চিকিৎসকদের এক জরুরী সভায় সাতক্ষীারর সনর্বস্তরের চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নি¤œ লিখিত দাবীগুলো জানানো হয়।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সাতক্ষীরার চিকিৎসক সমাজের দাবী :
——————————————————–
১। চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২। চিকিৎসকদের অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৩। চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে কোন প্রকার অভিযোগ উঠলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের (সিভিল সার্জন) তদন্তের পূর্বে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।
৪। “অপারেশন সম্মতি পত্র” -এর যথাযথ মূল্যায়ণ করতে হবে।
৫। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ৩০২ ধারার প্রয়োগ করা যাবে না।
সভা থেকে চিকিৎসক, হাসপাতাল ও ক্লিনিক সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিক ভাইদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করা হয়।
সভায় উপস্থিত চিকিৎসকগণ বলেন, জন্ম মৃত্যুর মালিক সৃষ্টিকর্তা। চিকিৎসকরা তার মেধা আর অভিজ্ঞতা দিয়ে রোগীর রোগ উপশমের চেষ্টা করেন মাত্র। রোগীর স্বজনদের প্রতি চিকিৎসাকালীন সময় সহিষ্ণুতার পরিচয় দেবার আহবান জানান চিকিৎসকগণ। তারা বলেন, চিকিৎসকগণ মানুষ তার ভুলের উর্ধ্বে নন। তবে চিকিৎসকগণ ভুল করলে বা চিকিৎসায় অবহেলা করলে বিশেষজ্ঞ কর্তৃক বিভাগীয় তদত্ত পূর্বক তার নির্নীত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

প্রসঙ্গত. গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে সাতক্ষীরার একতা হাসপাতালে এক সিজার রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ডা: দেবদুলাল সরকারসহ ৩ জন ডাক্তার ও হাসপাতাল মালিকসহ ৮ জনকে আসামী করা হয়।

ডাক্তারদের নামে হত্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে সাতক্ষীরার বিভিন বেসরকারী ক্লিনিক ও হাসপাতালে ধর্মঘটের ডাক দেয় ডাক্তাররা।