সাতক্ষীরায় ডাক্তারদের ধর্মঘট প্রত্যাহার : দাবী না মানলে ঈদের পরে কর্মসূচি


362 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ডাক্তারদের ধর্মঘট প্রত্যাহার : দাবী না মানলে ঈদের পরে কর্মসূচি
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
অপারেশনে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় ৩০২ ধারা বাতিল ও নিরাপত্তার দাবীতে সাতক্ষীরায় সাধারণ চিকিৎসকদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাধারণ চিকিৎসকদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়শনের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, ঈদে রোগীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ধর্মঘট পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি অনুমোদনহীন একতা হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সিজার অপারেশনে গৃহবধু সুমনার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হোসাইন আলী বাদী হয়ে সদর থানায় তিন ডাক্তারসহ ৮ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় সাধারণ ডাক্তাররা একত্রিত হয়ে মঙ্গলবার থেকে প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ ও প্রাইভেট ক্লিনিকে অপারেশন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ রোগীরা।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাপাতালের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা: এস জেড আতীকসহ  ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন বাদী হয়ে সম্প্রতি মামলা দায়ের করে। এনিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে একটি গ্রুপ বেশ ক্ষুব্ধ। এরই মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে সাতক্ষীরা একতা হাসপাতালে এক সিজার রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ডা. দেবদুলাল সরকারসহ ৩ ডাক্তার, ২ নার্স ও হাপাতাল মালিকসহ  মোট ৮ জনকে আসামী করা হয়। পৃথক ওই ২টি মামলার আসামীরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, বুধবার দুপুরে সার্বিক বিষয় নিয়ে সাধারণ চিকিৎসকদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। বুধবার দুপুর থেকেই চিকিৎসকরা পুনরায় রোগী দেখা শুরু করেন।
নাম প্রকাশ না করে একাধিক চিকিৎসক জানান, সাধারণ চিকিৎসকদের ধর্মঘাটে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসকরা সাড়া দেননি। তারা বরাবর প্রাইভেট প্রাকটিসের ধর্মঘাটের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত মেডিসিনের চিকিৎসকরা তেমন সাড়া প্রদান করেননি। আবার বিএমএ’ও জোরালো কোন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে নি। ফলে সাধারণ চিকিৎসকরা সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কথায় কথায় ঠুনকো অজুহাতে চিকিৎসকদের উপর মানষিক ও শারিরীক হয়রানী এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এর প্রতিবাদে ও চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে পেশাগত নিরাপত্তা বিধান এবং “অপারেশন সম্মতি পত্র” -এর যথাযথ মূল্যায়নের দাবীতে আমাদের এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। আমাদের আন্দোলন করো বিরুদ্ধে নয়, আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন একটি প্রচলিত কালো প্রথার বিরুদ্ধে। যে কোন অস্ত্রপচারের আগেই “অপারেশন সম্মতি পত্র” -তে রোগী বা তার অবিভাবকদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কাজেই রোগী অপাারেশনের সময় মারা গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হত্য মামলা হওয়া দুঃখজনক।
ডা. মনোয়ার হোসেন আরো জানান, ঈদের পরে সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তিনি ৩৬ ঘন্টার সাধারণ চিকিৎসকদের ধর্মঘটে সাড়া দেওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।