সাতক্ষীরায় তালাক দেয়া স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড


397 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় তালাক দেয়া স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড
মে ১৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান :
সাতক্ষীরায় তালাককৃত স্ত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে ও শরীরে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে হত্যার ঘটনায় স্বামী ও দেবরকে দোষী সাব্য¯স্থ করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত। মঙ্গলবার সাতক্ষীরার নারি ও শিশু নির্যাদন দমন বিশেষ ট্রাইবুনের বিচারক আবু মুনসুর মোহাঃ জিয়াউল হক আসামীদের এই সাজা প্রদান করেন।
সাজাপ্রাপ্ত হলো যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার কুলবাড়িয়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ ও তার ছোট ভাই এনতাদুল ইসলাম ওরফে ইন্তা। রায় ঘোষনার সময় নিহতের দেবর এনতাদুল ওরফে ইন্তা আদালতের কাঠগোড়ায় উপস্থিত থাকলেও স্বামী আসাদুল ইসলাম পলাতক ছিল ।
মামলার বিবারণে জানাযায়, বিগত ২০১০ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার ইলিশপুর গ্রামের আবু বক্কর সরদারের মেয়ে তরুল পারভীন (১৬) এর সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার কুলবাড়িয়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আসাদুল ইসলামের সাথে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবীতে স্বামী আসাদুল প্রায় তার স্ত্রীর উপর নির্যাতন করতো। স্বামীর নির্যাতন সয্য করতে না পেরে স্ত্রী তরুল পারভীন নিজেই ওই বছরের ৮ মে আসাদুলকে তালাক দিয়ে  পিত্রালয়ে চলে আসে। ৯ মে রাতে বাবার বাড়িতে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী আসাদুলের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামী ইন্তাদুল ওরফে ইন্তা, একই গ্রামের সাইফুর রহমান, আরশাদ আলী ও মুজিবর রহমান তার মুখে ও শরিরের বিভিন্ন অংশে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। রাতেই তরুল পারভীনকে উদ্ধার প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে তরুল পারভীনের পিতা আবু বক্কর সরদার কলারোয়া থানায় ৫ জনকে আসামী করে নারি ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই মোল্যা সেলিম জখমীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর কয়েকদিন পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুল পারভীন মারা যায়।
এঘটনায় তদন্তকারি কর্মকর্তা ৪জনকে অভিযুক্ত করে ২০১০ সালের ২৪ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনালে উপস্থাপন হলে ১৫ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার এই রায় ঘাষনা করা হয়। মামলার অপর দুই আসামী সাইফুর রহমান ও আরশাদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের দুইজনকে বেকশুর খালাশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এড. জহুরুল হায়দার বাবু ও তার সহযোগি ছিলেন এড. নাদিরা পারভীন।