সাতক্ষীরায় তিন বছরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আদায় ৬৫ কোটি টাকা


1235 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় তিন বছরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আদায় ৬৫ কোটি টাকা
এপ্রিল ১১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল ::
চালকদের ব্যবহারিক পরীক্ষার নিদ্দিষ্ট মাঠ না থাকা ও কর্মক্ষেত্রের কক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিকুলতার মধ্য দিয়েও বিগত তিন বছরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার সাতক্ষীরা শাখার রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। যা’ বিগত তিন বছরের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাতক্ষীরা সার্কেলের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সাল থেকে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ ভবনের মধ্যে তাদের সাতক্ষীরা শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে পলাশপোলে কালেক্টরেট ভবন নির্মিত হওয়ার পর থেকে ওই কার্যালয় জেলা পরিষদ থেকে কালেক্টরেট ভবনে স্থানান্তর করা হয়। প্রথমে একটি কক্ষে কাজ চললেও পরবর্তীতে কাজের সুবিধার্থে আরো একটি কক্ষ বাড়ানো হয়। প্রথমে পুলিশ লাইন স্কুল মাঠে ও পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ মাঠে  চালকের ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে ২০১১ সাল থেকে টাইগার প্রজেক্ট আইডি’র মাধ্যমে নাম্বার প্লেট (সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে), চালক সনদপত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সহকারি পরিচালক হিসেবে প্রকৌশলী তানভির আহম্মেদ, মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে মোঃ আমীর হোসেন, ম্যাকানিকাল এসিসট্যান্ট হিসেবে মোঃ আবু জামাল, অফিস সহকারি কাম মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে মোঃ নাসিরউদ্দিন কর্মরত রয়েছেন।
সূত্রটি আরো জানায়,২০১৪ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩১১টি মোটরযান নিবন্ধন (রেজিষ্ট্রেশন) , এক হাজার ৪০২টি উপযুক্ত সনদপত্র (ফিটনেস সার্টিফিকেট), ৫৪০টি সড়ক চলাচলের অনুমোদন (রুট পারমিট), ২৭ হাজার ৭৬৯টি সড়ক কর টোকেন (ট্যাক্স টোকেন), ১৫ হাজার ৫৭০টি চালক সনদপত্র (ড্রাইভিং লাইসেন্স), ২৪ হাজার ৪৮৭টি চালকদের শিক্ষানবীশ সনদপত্র (লার্নার), ৭১০টি মালিকানা সনদপত্র দেওয়ার মাধ্যমে ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৫২৪ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ছাড়া ৬২৬টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তিন লাখ ১৭ হাজার ৯৪০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
অপরদিকে ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিন বছরে পাঁচ হাজার ৩৪৩টি মোটরযান নিবন্ধন (রেজিষ্ট্রেশান), এক হাজার ২৮৩টি উপযুক্ত সনদপত্র (ফিটনেস), ৩৭৪টি সড়ক চলাচলের অনুমোদন (রুট পারমিট), ছয় হাজার ৬২৮টি সড়ক কর টোকেন (ট্যাক্স টোকেন), তিন হাজার ৯৫১টি চালক সনদপত্র (ড্রাইভিং লাইসেন্স), পাঁচ হাজার ১২৮টি শিক্ষানবীশ সনদপত্র (লার্নার) ও ১৫১টি মালিকানা সনদ প্রদানের মাধ্যমে ১২ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৪ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এ ছাড়া ৯৮৫টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে চার লাখ ৬৮৪০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।
বাস মালিক বিকাশ চন্দ্র দাস জানান, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী জামায়াত শিবিরের সহিংসতার কারণে পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ জেলাজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এ কারণে বিশেষ করে মোটর সাইকেল নিবন্ধন, চালকসনদ সংগ্রহের ব্যাপারে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। জোরদার করা হয় ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম। কমে আসে দালালদের দৌরাত্ম্য। এসবের অংশ হিসেবে রাজস্ব আদায় বাড়তে থাকে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী কমঃ অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু, অ্যাড. শেলী ও অ্যাড. প্রবীর মুখার্জীসহ কয়েকজন জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাতক্ষীরা সার্কেলের কার্যালয়ে কক্ষ সংকটের কারণে গ্রাহক পরিষেবা ব্যহত হচ্ছে। এ ছাড়া চালক সনদ পরীক্ষা, চালকদের ব্যবহারিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে এক কিলোমিটারের বেশি দূরে যথাক্রমে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের একটি কক্ষে ও কলেজ মাঠে নেওয়া হয়ে থাকে। একে ওই কলেজের শিক্ষার্থীদের সমস্যা হওয়া ছাড়াও গাড়ির মালিক ও চালকদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এজন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের জন্য শহরের একটি বিশেষ স্থানে নিজস্ব ভবন ও মাঠ দরকার। যার মাধ্যমে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ছাড়া এ কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের দূর্ণীতির উর্দ্ধে থেকে আরো বেশি সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বেশি বেশি করে ভ্রাম্যামান আদালত পরিচালনা করে দালালমুক্ত করতে হবে। ফিটনেস বিহীন গাড়ি ও অবৈধ যানবাহন চলাচলে ভ্রাম্যমান আদালতকে আরো বেশি কঠোর হতে হবে। সেজন্য ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা- কর্মচারিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারি পরিচালক প্রকৌশলী তানভির আহম্মেদ জানান, ২০১৪ সালে সাতক্ষীরা কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তৎকালিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কাজ কয়েকগুন বেড়ে যায়। সে জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তা কর্মচারিদের হিমশিম খেতে হয়। তবে তাদের কাজের পাশাপাশি সরকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ায় জনদুর্ভোগ অনেকাংশেই কমেছে। এ ছাড়া মোটরযান সংক্রান্ত পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ভবন ও মাঠ পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই তিনটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে একটি পাওযার জন্য খুব শীঘ্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।