সাতক্ষীরায় তিন সপ্তাহে গর্ভজাত সন্তানসহ সাত হত্যা : অস্বাভাবিক মৃত্যু ১১, শিশু নির্যাতন ৫


171 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় তিন সপ্তাহে গর্ভজাত সন্তানসহ সাত হত্যা : অস্বাভাবিক মৃত্যু ১১, শিশু নির্যাতন ৫
মে ২৫, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

চলতি মে মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে সাতক্ষীরায় গর্ভজাত সন্তানসহ সাতটি হত্যা, চার শিশুকে যৌন নির্যাতন ও ১১টি অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ বেশ কয়েকটি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। এসময় শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি। পারিবারিক বিরোধের জেরে মারপিট ও আহতের ঘটনা ঘটেছে প্রায় প্রতিদিন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ও দেয়াল চাপাসহ মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৯ মে (সোমবার) সাবেক স্বামীর দেওয়া পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ হওয়ার ৪দিনের মাথায় পাটকেলঘাটার তামান্না খাতুন মৃত্যুবরণ করেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তামান্না খাতুন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানাধীন কাশীপুর গ্রামের আব্দুল হকের মেয়ে।

মালয়েশিয়া প্রবাসী কলারোয়া উপজেলা সদরের তুলসীডাঙা গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে দু’বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় তার বড় বোন তামান্না খাতুনের। সম্পর্কের জের ধরে মোবাইলে তাদের বিয়েও হয়। পরবর্তীতে সাদ্দাম বাড়িতে না আসায় তামান্না তাকে তালাক দিয়ে দেয়। গত ১৫ এপ্রিল তামান্নার সঙ্গে পুরাতন সাতক্ষীরার ফরহাদ হোসেনের বিয়ে হয়। এ বিয়েকে মেনে নিতে পারেনি সাদ্দাম হোসেন। ৫ মে সন্ধ্যায় তামান্না ও তার স্বামী ফরহাদ পাটকেলঘাটা ব্রিজের পার্শ্ববর্তী কপোতাক্ষ নদের তীরে বসে গল্প করার সময় সাদ্দাম নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে ওই অবস্থায় তামান্নাকে জড়িয়ে ধরে। এ সময় সাদ্দামের সঙ্গে ছিল আরো তিনজন। তামান্নকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে ফরহাদও অগ্নিদগ্ধ হয়। তাদেরকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৬ মে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটের ৪তলার ১৫নং শয্যায় ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে সাদ্দামকেও ওই হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তামান্না মারা যায়।

তামান্নাকে পেট্রোলের আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় তার বাবা আব্দুল হক বাদি হয়ে সাদ্দাস হোসেনসহ কয়েকজনের নাম উল্লে¬খ করে শুক্রবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় সাদ্দামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ প্রহরায় ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) কৃষ্ণপদ সমাদ্দার জানান, এঘটনায় ভিক্টমের পিতা আব্দুল হক বাদী হয়ে ৬জনসহ অজ্ঞাত নামা ৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-২। ইতোমধ্যে মামলার দুই নাম্বার আসামী তুহিন হোসেনকে গ্রেপ্তার হয়েছে হয়েছে।
এদিকে ১১ মে (বুধবার) আশাশুনির বড়দলে স্বামীর মৃত্যুর ১৩ বছর পর অন্ত:সত্ত্বা তাসলিমা ও তার গর্ভজাত সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। থানায় মামলা মামলাও হয়েছে। তাসলিমা খাতুনের স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করতো। একই গ্রামের মোহাম্মদ গাজীর ছেলে কামাল গাজী দীর্ঘদিন যাবত তাসলিমার বাড়িতে যাতায়াত করতো। একপর্যায়ে উভয়ের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাসলিমা অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। গোপনে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছ গিয়ে সন্তানটা নষ্ট করার চেষ্টা করছিল কামাল। সেটা জানাজানি হওয়ায় জেলা শহরের এক ক্লিনিকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে অনভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর সময় রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর অবস্থার বেগতিক দেখে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই ১১ মে সকালে তাসলিমা মারা যায়। এর আগে তার গর্ভজাত সন্তানকে হত্যা করা হয়। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মমিনুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, তাসলিমার ছেলে আজমির বাদী হয়ে ৪জনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামী করে থানায় (১৩)০৫/২২ মামলা দায়ের করেছে।

এদিকে অপর এক ঘটনায় শ্যামনগরে সনদবিহীন প্রাইভেট হাসপাতালে অবৈধভাবে গর্ভপাত করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সাবিনা খাতুন (২৭) নামে এক প্রসূতির মা ও তার শিশুর মৃত্যু হয়। ১৩ মে (শনিবার) ভোররাতে উপজেলা সদরে পল্লী প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়ে। প্রসূতি ৭ মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রসূতির মা হালিমা খাতুন এবং বোন শিরিনাকে হেফাজতে নেয়। ওই প্রসূতি উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে পার্শ্বেখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর শিকারী বাদী হয়ে একটি মামলা মামলাটি করেন। মামলার আসামীরা হলেন-শ্যামনগর উপজেলার হায়বাতপুর গ্রামের শেখ মেহেরআলীর ছেলে শেখ আহসান হাবিব (৩২), সদর উপজেলার মাজাট গ্রামের আনছার গাজীর ছেলে হারুন গাজী (৪২), আবুল হোসেনের ছেলে আল মামুন লিটন (৪২), নকিপুর গ্রামের পল্লী ক্লিনিকের নার্স রিংকু রাণী (২৭), বাধঘাটা গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র আমজাদ হোসেন মিঠু (৪২), ঈশ^ারীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর গ্রামের দুখের পুত্র নরুজ্জামান (৩০), মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের পাশের্^খালী গ্রামের মমিন আলী সরদারের ছেলে কামরুল সরদার (২৫), বাবর আলী সরদারের পুত্র মমিন আলী সরদার (৫৫), মরাগাং গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বাপ্পি (২৮), রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের জহুর আলী গাজীর ছেলে আবুল কালাম (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়াহিদ মুর্শিদ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে ১৬ মে কালিগঞ্জে ভাতিজার দায়ের কোপে চাচা সাইফুল ইসলাম (২৮) নিহত হয়েছেন। উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের গনেশপুর গ্রামের এ ঘটনায় ঘাতক ভাতিজা হাবিবুরকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ওই হত্যাকান্ড ঘটে।
এরআগে ১৫ মে একই উপজেলার দু’সন্তানের জননীকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঘরের মেঝেতে রেখে দরজায় শিকল লাগিয়ে পালায় তার স্বামী। ওইদিন রাতে পুলিশ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাজারগ্রাম রহিমপুরের যমুনা নদীর তীরের বাসিন্দা ছবিলার রহমানের বাড়ির ভাড়া বাসা থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতের নাম রোজিনা খাতুন (৩৩)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার বাজারগ্রাম রহিমপুরের শেখ আবু রায়হানের মেয়ে ও ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: গোলাম মোস্তফা জানান, রোজিনার লাশ তার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করে সাধারণ ডায়েরী মূলে সোমবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এদিকে ৫ মে কলারোয়ায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। উপজেলার মুরারীকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ওবায়দুল্লাহ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ওবায়দুল¬াহ (৪০) মুরারীকাটি গ্রামের সমসের আলী দালালের ছেলে।
কলারোয়া থানার উপ-পরিদর্শক আশিক রায়হান জানান, আসামী ওবায়দুল্ল¬াহকে গ্রেপ্তার করে ৬ মে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
এদিকে ১৪ মে সদর উপজেলার হাওয়ালখালিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে দুই শিশু ও মা আটক হয়েছে। মেয়েটির বাবা হাওয়ালখালি গ্রামের এক দিন মজুরের দায়েরকৃত মামলার বরাত দিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ^জিত অধিকারী জানান, তাদের বাড়ির পাশেই ধর্ষণ চেষ্টার এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিশু আকিব (১২) ও তার চাচাতো ভাই রফিকুল (১১) এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ মেয়েটির বাবার দায়ের করা মামলা অনুযায়ী ওই দুই শিশুকে এবং আকিবের মা রওশন আরাকে আটক করে। এরআগে ভোমরায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনকারি একজন মাদক ব্যবসায়ি ও পঞ্চম শ্রেণির শিশু অপহরণ, তার মাকে নির্যাতনের পৃথক মামলার আসামী হয়ে গ্রাম ছাড়া হওয়ায় তার ভয়ে গত সাত দিনেও মুখ খুলতে সাহস পায়নি ওই পরিবারের সদস্যরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের কুলাটি গ্রামের ফজর আলী ও রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, পার্শ্ববর্তী পুটিমারার বিলে দেবহাটা উপজেলার টিকেট গ্রামের মাছ চাষী রামপ্রসাদ ম-লের কাছ থেকে দুই বিঘা জমি ধান চাষ করার জন্য ভাগে (বর্গা) নেন কুলাটি গ্রামের এক দরিদ্র দম্পতি। গত ৩০ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে ওই দম্পতি তাদের চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ধান কাটতে গেলে দুপুর ২টার দিকে ওই শিশুটিকে ঘেরের বাসায় শুইয়ে রাখেন বাবা-মা। এ সময় তাদের গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মিঠুনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মাদক ব্যবসায়ি আবু তালেব ওই শিশুটির হাত ও পা বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
এদিকে ৬ মে শ্যামনগরে পিতাকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বড় ছেলে। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদচন্ডি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জমি নিয়ে ছেলে শুকুর আলি তার পিতা শওকত মোল্যাকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করে।
এদিকে ১১ মে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক বখাটে। মুখোশ পরে মোটরসাইকেল আরোহী ওই বখাটে ছাত্রীর গলায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত মোহনা কর্মকার বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং মথুরাপুর গ্রামের নরোত্তম কর্মকারের ছোট কন্যা। এ ঘটনায় বাদী হয়ে আহত ছাত্রীর পিতা নরোত্তম কর্মকার থানায় মামলা দায়ের করেন। শ্যামনগর থানা অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছাত্রীর জবানবন্দি নিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। আসামি হলেন-মুন্সিগঞ্জ সিংহড়তলী গ্রামের ইদ্রিস ফকিরের ছেলে বুলবুল ফকির (২৪)।
এদিকে ১৩ মে দেবহাটায় একটি হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষকের বেদম প্রহারে মাসুম বিল্লাহ (১২) নামের এক হাফেজ শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহত শিশুটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ আলীপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী গাজীর ছেলে। তাকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ঘলঘলিয়া রহিমপুর হাফিজিয়া মাদরাসায় শিশু মাসুম বিল্লাহকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেন ওই মাদরাসারই শিক্ষক মুরাদুল ইসলাম।
এদিকে ১৩ মে কোচিং না করায় ও পরীক্ষায় পাশ করতে অবৈধ সুযোগের জন্য টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে এক শিক্ষার্থীকে কক্ষ থেকে ধরে এনে ঘরের মধ্যে আটক রেখে হাত ও পা বেঁধে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত শিক্ষার্থীর নাম সালমান হোসেন (২২)। সে পটুয়াখালি জেলার বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের মো: হানিফের ছেলে ও নলতার ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির ল্যাবেরোটরি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
এদিকে ১২ মে কালিগঞ্জে একই দিনে গলায় ফাঁস লাগিয়ে এক নারী ও এক পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। তারা হলেন উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়নের ইউসুপপুর গ্রামের মোজাহিদ হোসেনের স্ত্রী শারমিন খাতুন (২২) ও নলতা ইউনিয়নের দূরদরিয়া গ্রামের মৃত আমির আলী মোড়লের ছেলে বক্কার মোড়ল (৬২)। গৃহবধূ শারমিনের সাথে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পারিবারিক কলহ চলছিলো। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার (১২ মে) সকালে ওই গৃহবধূ নিজ ঘরের আড়ার সাথে ওড়নার সাহায্যে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক নকীব পান্নু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন।
একই দিন বিকেলে নলতা ইউনিয়নের দূরদরিয়া গ্রামের বৃদ্ধ বক্কার মোড়ল নিজ বাড়িতে রশির সাহায্যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এদিকে ১২ মে দেবহাটায় পারিবারিক কলহের জেরে হরি বিশ্বাস (৬০) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার দেবীশহর গ্রামের মৃত সুবোল বিশ্বাসের ছেলে। খবর পেয়ে ওই রাতেই হরি বিশ্বাসের বাড়ির একটি ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে ১৪ মে পাটকেলঘাটায় ট্রাকের ধাক্কায় আবু তাহের (২০) নামের ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। তিনি তালা উপজেলার চৌগাছা গ্রামের শেখ নাসিরউদ্দীনের ছেলে। ১৫ মে শ্যামনগর পুকুরে পড়ে ফাহিমা খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের খাগড়াঘাট গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। এছাড়া ১৬ মে শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউপিতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মেহেদী হাসান নামে (১৫) এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সে বাদুড়িয়া গ্রামের কালাম মোড়লের পুত্র এবং নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র।
এদিকে ১৭ মে তালায় সড়কে বাধা ছাগলের দড়িতে পেচিয়ে দুর্ঘটনায় আরোহী মতিয়ার রহমান মোড়ল (৩৬) নামের এক মোটরসাইকেল নিহত হয়েছেন। উপজেলার মাছিয়াড়া গ্রামের খেজুরতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মতিয়ার রহমান মোড়ল মাছিয়াড়া গ্রামের আয়েজউদ্দীন মোড়লের ছেলে।
এদিকে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার উপর দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে বালি ফেলে রাখার ফলে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত বৃদ্ধ আহাদ আলী ওরফে নুনু খোকা মারা গেছেন। ১৮ মে খুলনা সিটি মেডিকেলে তিনি মারা যান। নিহত আহাদ আলী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের মৃত জোহর আলীর ছেলে।
এদিকে ১৭ মে কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ সোনাবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে ধান ঝাড়তে গিয়ে মেশিনে বিদ্যুতায়িত হয়ে আরিজুল ইসলাম (৫৫) নামের এক কৃষক মারা গেছেন। তিনি উপজেলার দক্ষিণ সোনাবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মোড়লের পুত্র।
২৩ মে কালিগঞ্জে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে রাবেয়া খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের স্ত্রী। একই দিন শহরের পলাশপোলে দেয়াল চাপা পড়ে ইয়াছিন আলী (২০) নামের এক ইজিবাইক চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরো তিনজন। সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলের নবজীবন ইনস্টিটিউটের পাশে এ ঘটনাটি ঘটে। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ইয়াছিন আলী (২০) শহরের পলাশপোল এলাকার ইমান আলী সরদারের ছেলে। এদিকে, আহতরা হলেন, পলাশপোলের মারুফ হোসেনের ছেলে রাজা, বাবলুর রহমানের ছেলে শাকিব হোসেন ও বেল্টু হোসেন।
এদিকে গত ১৬ মে কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আবু রায়হানকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। উপজেলা সদরের মহৎপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারুলগাছা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও কালিগঞ্জ কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র আবু রায়হান জানান, তার সাথে কুশুলিয়া ইউনিয়নের মহৎপুর গ্রামের খোকনের ছেলে নাইমের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সোমবার দুপুর ১টার দিকে কলেজ থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় মহৎপুর এলাকায় পৌঁছালে নাইমের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং’র সদস্যরা শিক্ষার্থী তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করে।
এদিকে ১৭ মে সাতক্ষীরা সদরের আলীপুরে একটি এসএলআর জাতীয় অস্ত্রসহ এক যুবককে আটক করে গণধোলইয়ের পর বিজির কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি রানা হোসেন (২৫)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নারায়নজোল গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে। বাঁকাল চেক পোস্টের একটি টহলদল কর্তৃক সীমান্ত পিলার ৩ হতে আনুমানিক ৬ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং বাঁকাল চেক পোস্ট হতে ১.৫ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে আলীপুর ঢালীপাড়া নামক স্থান হতে ১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং ১জন আসামী আটক করা হয়।
এছাড়া তিন সপ্তাহে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধে জেরে মারামারির ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে এখাধিক সূত্র জানিয়েছে।

##