সাতক্ষীরায় ত্রাণ বিতরণ নিয়ে টুইট বার্তায় জার্মান রাষ্ট্রদূতের হতাশা


204 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ত্রাণ বিতরণ নিয়ে টুইট বার্তায় জার্মান রাষ্ট্রদূতের হতাশা
নভেম্বর ২০, ২০২০ আশাশুনি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

২৫ কেজির স্থলে সাড়ে ১২ কেজি ত্রাণ দেয়া নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত

॥ এম কামরুজ্জামান ॥

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে জলাবায়ু পরিবর্তন ও বন্যার কারনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোলৎজ।

গতকাল ১৯ নভেম্বর এক টুইট বার্তায় জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোলৎজ বলেন ‘সাতক্ষীরার কিছু রাজনৈতিক ত্রাণ সাহায্যকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা ঠিক মতো সেগুলো যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য বিতরণ করতে পেরেছেন’।

জার্মান রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের টুইট বার্তায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলা জার্মান রাষ্ট্রদূতের ওই টুইট বার্তা নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। এরপর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়।

কি ঘটেছিলো সেদিন ..

তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, সাতক্ষীরার আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলায় জলাবায়ু পরিবর্তন ও বন্যার কারনে ক্ষতিগ্রস্ত ছয় হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের কর্মসূচী হাতে নেয় জার্মান রাষ্ট্রদূত। বেসরকারি একটি (মিনা ইনক্লুসিভ সোসাইটি ফর ডেভলপমেন্ট, ঢাকা) সংস্থার সহযোগিতায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে সম্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তারিকাও তৈরী করা হয়।

গত ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টেবর প্রথমফেজে তারা তিন হাজার পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি ওজনের একটি করে ত্রাণের প্যাকেট সুষ্টুভাবে বিতরণ করে। গত ১৩ ও ১৪ নভেম্বর দ্বিতীয় ফেজে তারা বাকী তিন হাজার পরিবারের মাঝে একই পরিমান ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে আসে। স্থানীয় কিছু স্বেচ্ছাসেবক ত্রাণ বিতরণ কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করে।

গত ১৪ নভেম্বর জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোলৎজ ত্রাণ কার্যক্রম দেখার জন্য সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রিউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া এলাকায় আসেন এবং সকালে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে শ্রিউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের তালিকাভূক্ত ক্ষতিগ্রস্তদের হাজির করা হয়। উদ্বোধন শেষে জার্মান রাষ্ট্রদূত চলে যান।

ত্রাণ বিতরনের শেষ সময়ে (বিকেলে) সেখানে তালিকা ভহির্ভূত কয়েক’শ মানুষ ভীড় জমায় এবং তারা ত্রাণ চায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বেসরকারি সংস্থা মিনা ইনক্লুসিভ সোসাইটি ফর ডেভলপমেন্ট কর্মকর্তারা শেষের ২০০ (প্রতি প্যাকেট ২৫ কেজি ওজনের ) প্যাকেট ত্রাণ ৪০০ মানুষের মাঝে (অর্ধেক অর্থাৎ সাড়ে ১২ কেজি করে) বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এক পর্যায় স্থানীয় লোকজন সাড়ে ১২ কেজি ত্রাণ নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং এর প্রতিবাদ করতে থাকে। তারা ২৫ কেজি ওজনের প্যাকেট দাবি করে। সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (এসি ল্যান্ড) শাহীন সুলতানা এবং আশাশুনি থানার ওসি মো: গোলাম কবীর দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। পরে ২০০ প্যকেট ত্রাণ ৪০০ মানুষের মাঝে (সাড়ে ১২ কেজি করে ) শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিতরণ করা হয়।

স্থানীয় শ্রিউলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল বলেন ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করেছে মিনা নামের একটি এনজিও। আমাদেরকে তারা অবহিত করেছে মাত্র। ঘটনার দিন জার্মান রাষ্ট্রদূত আমার এলাকায় আসবেন জানতে পেরে আমি সকালে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলাম। রাষ্ট্রদূত চলে যাওয়ার পরে আমিও সেখান থেকে চলে আসি। পরে শুনেছি ২০০ প্যাকেট ত্রাণ ৪০০ জনের মধ্যে ভাগাভাগি করা নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি’র উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তা বিতরণ করা হয়। এনিয়ে আর কোন সমস্যা হয়নি’।

বেসরকারি সংস্থা মিনা ইনক্লুসিভ সোসাইটি ফর ডেভলপমেন্ট এর ম্যানেজার মুনির হোসেন মুঠোফোনে জানান ‘ ১৪ নভেম্বর আশাশুনির শ্রিউলায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের শেষের দিকে সেখানে বহু মানুষ ভীড় করে ত্রাণ পাওয়ার জন্য। আমরা তাদের বিষয়টি বিবেচনা করে শেষের ২০০ প্যাকেট ত্রাণ ৪০০ মানুষের মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেই। এতে কিছু মানুষ উত্তেজিত হয় এবং ত্রাণ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যাদেরকে নেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটাকে উস্কে দিয়েছিল। পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবেই ত্রাণ বিতরণ করে চলে আসি। পরে আর কোন সমস্যা হয়নি’।

ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (এসি ল্যান্ড) শাহীন সুলতানা বলেন ‘ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওইদিন ছুটিতে থাকায় আমি দায়িত্বে ছিলাম। মিনা নামের একটি বেসরকারি সংস্থা তালিকা তৈরী থেকে শুরু করে ত্রাণ বিতরণের সব কার্যক্রম তাদের মতো করেই করেছে। ত্রাণ বিতরণের শেষের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত আরো অধিক মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের লক্ষ্যে তারা ২৫ কেজি ওজনের একটি প্যাকেট ২ জনের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়ার সিদ্ধন্ত নেয়। এনিয়ে কিছু মানুষ ক্ষুব্ধ হয়, আপত্তি তোলে। তারা ২৫ কেজি ওজনের প্যাকেট দাবি করে। আমি বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে সাথে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। পরে আমার উপস্থিতিতেই সুষ্টুভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শেষ হয়। স্থানীয় কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি বা অন্য কেউ এ ঘটনায় জড়িত ছিলো কি-না বা তাদের উস্কানি ছিলো কি-না তা আমার জানানেই। এ ধরনের কোন অভিযোগ আমার কাছে ওই সময় কেউ করেনি’।

#