সাতক্ষীরায় দিনেদুপুরে ঘরে ঢুকে বন্ধুকে গলাকেটে হত্যা‍ !


3219 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় দিনেদুপুরে ঘরে ঢুকে বন্ধুকে গলাকেটে হত্যা‍ !
এপ্রিল ১০, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি ::

সাতক্ষীরা শহরতলির কাশেমপুর জামতলা এলাকায় ঘরে ঢুকে নিজের বন্ধুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করেছে এক দুর্বৃত্ত। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইজিবাইক চালক সালাউদ্দিন হোসেন (১৫) শহরতলীর কাশেমপুর জামতলা মালিবাড়ীর শাহজাহান আলী ওরফে বাবুর ছেলে।

আত্মস্বীকৃত হত্যাকারী সাতক্ষীরা সিটি কলেজ এলাকার সাগর হোসেন তার বাবা শহিদুল ইসলামকে যেয়ে এ খবর জানায় এবং নিহত বন্ধু সালাউদ্দিনের লাশ বের করে আনতে বলে।

সালাউদ্দিনের বাবা শাহজাহান আলী বরাত দিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বন্ধু সাগর হোসেন তার বন্ধু ইজিবাইক চালক সালাউদ্দিন হোসেন `র (১৫) ঘরে ঢোকে। এক পর্যায়ে সে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। বাড়িতে যেয়ে সাগর হোসেন তার বাবা শহিদুল ইসলামকে এ খবর জানায়। নিহত সালাউদ্দিন বাড়ির একটি কক্ষে একাই থাকতো।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সালাউদ্দিন ও তার ঘাতক বন্ধু সাগর হোসেন দুজনেই ছিল মাদকাসক্ত। তারা মাদক কারবারের সাথেও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে একটি ইজিবাইক বেচাকেনা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর কোন একটি কারনে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারনা।

খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌছেছেন পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পর সাগর ও তার বাবা পলাতক রয়েছে। পুলিশ রসুলপুর গ্রামের রফিক নামের এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহত সালাউদ্দিনের লাশ সাতক্ষীরা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের পিতা শাহজাহান আলী ওরফে বাবু জানান, আমি ইজিবাইক চালাতে শহরে ছিলাম। সালাউদ্দিনের মা বাড়িতে ছিলো না। একাই আমার ছেলে বাড়িতে ছিলো। সাগর হোসেন আমার ছেলে সালাউদ্দিনের খুব কাছের বন্ধু ছিলো। আমার ছেলেকে জবাই করে হত্যার পর সে কৌশলে পালিয়ে যায়। একটা ইজিবাইক কেনাবেচা নিয়ে তাদের দুই বন্ধুর মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিলো শুনেছি। কিন্তু এভাবে আমার ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করবে তা কখনো ভাবেনি। ছেলে হত্যার খবর শুনে শাহজাহান আলী বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলো।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হত্যাকান্ডের আসল কারন উদঘটনে পুলিশ মাঠে নেমেছে। বেশ কিছু ক্ল পাওয়া গেছে। সেসব ক্লু নিয়ে পুলিশ এগুচ্ছে। পুলিশ হত্যাকারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।


#