সাতক্ষীরায় ভারী বর্ষনে জেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত : বাড়ি,ঘের,পুকুর, ফসলি জমি পানিতে একাকার


1764 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ভারী বর্ষনে জেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত : বাড়ি,ঘের,পুকুর, ফসলি জমি পানিতে একাকার
আগস্ট ১০, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান ও আব্দুর রহমান :
পানি নিষ্কাশনের কোন পথ না থাকায় গত দুই দিনের টানা বর্ষণে সাতক্ষীরা জেলার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের, ফসলি জমি ও পুকুর। ফলে অসংখ্য বাড়ি-ঘর ও রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ এখন পানি বন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা শহরের ইটাগাছা খড়িবিলা, কামাননগর, বউ বাজার, বকচরা, পুরাতন সাতক্ষীরা, বদ্দিপুর কলোনি, মধুমল্লারডাঙ্গিসহ বিভিন্ন এলাকার নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত কাঁচা ঘর-বাড়ি ধ্বংসের উপক্রম হয়েছে। অসংখ্য চিংড়ি ঘের, ফসলি জমি ও পুকুর ভেসে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরী। পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানালেন স্থানীয়রা। এর ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ বালাই। শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র উপায় পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের খড়িবিলা খাল। অথচ সে খালে নেটপাটা দিয়ে স্থানীয় কয়েজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘের ব্যবসা শুর ুকরায় কয়েক হাজার মানুষ আজ পানিবন্দী।

20160810_111742

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে জেলার আশাশুনি উপজেলার কয়েক হাজার বিঘা জমির মৎস্য ঘের ভেসে একাকার হয়ে গেছে।
আশাশুনি উপজেলার খাজরা গ্রামের কৃষ্ণ ব্যানার্জী জানান, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা জমির মৎস্য ঘের পানিতে ভেসে গেছে। একাকার হয়ে গেছে সবকিছু। বাড়ি-ঘরেও পানি উঠে গেছে।

অপরদিকে, বৃষ্টিতে শ্যামনগর, কালিগঞ্জ , দেবহাটা ও তালা উপজেলার নি¤œাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।  এ সব অঞ্চলের হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

20160810_113726

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপকিল্পিত বেড়িবাধ দিয়ে মৎস্য ঘের তৈরী করে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করায় এই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন প্রভাবশালী ঘের মালিকরা পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে চিংড়ি ঘের করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঘের মালিকরা পানি নিস্কাশনের কোন পথ রাখেননি। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই এসব এলাকার বাড়ি, ঘর ও রাস্তায় পানি উঠছে। তাই মাছের ঘের কেটে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা অতীব জরুরী। আর তা না হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ স্থায়ী ভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে অবিলম্বে পানি নিষ্কাসনে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ১০৪ সে.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত আছে।

সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি জানান, তিনি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি একসাথে পৌর এলাকার জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করছেন। তারা চেষ্টা করছেন যতদ্রুত সম্ভব জলাবদ্ধতা নিরসনের।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষনে জেলায় তিন হাজার হেক্টর শুধু মাত্র ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রমজান আলী জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ৪’শ ৮০ হেক্টর জমির মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মোঃ মহিউদ্দীন জানান, সার্বিব অবস্থা উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তাৎক্ষনিক তা বিতরন করা হবে।

##

—————————

সদর এমপি রবির প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন
—————————
সাতক্ষীরায় টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সদর উপজেলার নি¤œঅঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতায় ব্যহত হচ্ছে বিভিন্ন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। এছাড়া চলতি মৌসুমে কৃষকরা পড়েছে বিপাকে এবং পানিবন্দি হয়ে আছে অনেক পরিবার। বুধবার সকালে টানা বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার মধ্যদিয়েও সদর- ২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি জলাবদ্ধ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং অসহায় বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান।

20160810_111722

সাতক্ষীরা বদ্দিপুর কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মাছখোলার কয়েকটি জলাবদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পানিবন্দি মানুষের সাথে কথা বলেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসন ও বিভিন্ন স্লুইজ গেইট সংস্কারের ব্যাপারে তাৎক্ষনিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক কে মোবাইলে বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম আসার আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং পলি অপসারন ও স্লুইজ গেটের পাটা মেরামত করতে। কিন্তু  পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন কাজ করেনি?’ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিতে আবারও পানিবন্দি ও গৃহহীন  হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার  এবং তলিয়ে গেছে ফসলী জমি পানিতে ভেসে গেছে অসংখ্য মৎস্য ঘের। এ সময় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বদ্দীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাছখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসহায় পানিবন্দি মানুষের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস প্রাদন করেন এবং  যাদের কারণে মানুষ জলাবদ্ধতাসহ বন্যার কবলে পড়ছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহম্মেদ চিশতি, কাউন্সিলর সৈয়দ মাহমুদ পাপা, শেখ আব্দুস সেলিম, কাজী শেখ ফিরোজ হাসান, জ্যোন্সা আরা, ফারহা দিবা খান সাথী, অনিমা রানী মন্ডলসহ দলীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।