সাতক্ষীরায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত যুবলীগ নেতা কবিরের পরিবারে একের পর এক হামলা !


2011 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত  যুবলীগ নেতা কবিরের পরিবারে একের পর এক হামলা !
এপ্রিল ১১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

শেখ আরিফুল ইসলাম আশা ::
সাতক্ষীরায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা রাসেল কবির নিহতের ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের মা আমেনা খাতুন বাদি হয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ইতিমধ্যে সন্দেভাজন তিন জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, সদর উপজেলার দক্ষিণ চুপড়িয়া গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে ইয়াকুব আলী (৫৯), একই উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের দিলদার রহমানের ছেলে ইকবাল হোসেন (৪০) ও নারায়নজোল গ্রামের বাবর আলীর ছেলে ইমাম হোসেন (৩০)।
নিহত রাসেল কবির সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কুচপুকুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও আগরদাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

নিহত যুবলীগ নেতা রাসেল কবিরের চাচা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, এর আগে ২৪ মার্চ শুক্রবার রাত সাড়ে দশটায় সন্ত্রাসীরা দলবদ্ধ হয়ে ভাতিজা যুবলীগ নেতা রাসেল কবিরের বাড়িতে ঢুকে গুলি ছোড়ে ও বোমা হামলা চালায়। এসময় রাসেল কবির ও তার ছেলে নাহিদ হাসান অভি রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। সন্ত্রাসীদের গুলি ও বোমায় তার বাড়ির দরজা জানালা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বোমা ও গুলির খোসা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা থানায় মামলা হলেও পুলিশের উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা নাথাকায় জীবন দিতে হয়েছে আমার ভাতিজা যুবলীগ নেতা রাসেল কবিরের।
নজরুল ইসলাম আরো জানান ২০১৩ সালের ৩ মার্চ তাদের বাড়ি ও ধানচালের আড়তে সন্ত্রাসীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সালের ১২ মে নজরুল ও তার ভাই আমজাদকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে । এতে তারা দুজন আহত হন। সে বছরের ২৭ জুন তার দোকান লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা পরপর চারটি বোমা ছুড়ে মারে । এতে নজরুলের  বোন শাহানা খাতুন ও বোন জামাই জাহান আলি আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে গেছেন। এর কিছুদিনের মাথায় ২০ জুলাই নজরুলের বাড়িতে বোমা নিক্ষেপে একটি শিশু আহত হয়। ১৬ নভেম্বর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তার এক আত্মীয় আওয়ামী লীগ কর্মী ইউসুফ আলিকে  অপহরন করে সন্ত্রাসীরা। কয়েকদিন পর তাকে মুক্তি দেয় তারা।


নিহত যুবলীগ নেতা রাসেল কবিরের পরিবারের সদস্যরা আরও জানান ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর রাতে  রাসেল কবিরের বাড়িতে ঢুকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে তার পিতা সিরাজুল ইসলামকে। একই সময়ে তার বোন জামাই কওসার ও তার ছেলে সিমলকে গুলি করে আহত করে তারা।
তার বাড়িতে গত ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল রাতে  বোমা হামলার  আরও একটি ঘটনা ঘটে। এতে নজরুল ইসলাম আহত হন।  রাসেল কবিরের বোন লাবলি খাতুন জানান নিরাপত্তার জন্য তার ভাই দীর্ঘদিন  সাতক্ষীরা  থানায় আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাতেন  । এবার তার ভাই রাসেল কবির সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ায় বাড়ি ছেড়ে সাতক্ষীরা শহরের বসবাস করছিলেন। লাবলি খাতুন জানান তার পুরো পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। লাবলি খাতুন আরো জানান প্রতিটি ঘটনার পর থানায় মামলা হয়েছে। কিন্তু এতোদিনেও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। এসব মামলার আসামিদের দুজন আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ও হবি ডাকাত আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
যুবলীগ নেতা রাসেল কবির হত্যার ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা জানান, এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই ৫ জনকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসা বাদ শেষে তিনজনকে এ মামলায় আটক দেখিয়ে বাকি দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডি আইজি একরামুল হাবিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। যারা এ অপরাধের সংড়ে জড়িত তাদের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমরা প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়া হবে।

উল্লেখ্য ঃ সোমবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের রাজারবাগান এলাকায় মটর সাইকেল যোগে এসে সন্ত্রাসীরা কবিরকে গুলি করে হত্যা করে। একইভাবে তার বাবা সিরাজুল ইসলামকে সন্ত্রাসীরা ২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্যার ফাঁসির রাতে নিজ বাড়িতে গুলি ও বোমা মেরে হত্যা করে। এরপর থেকে সিরাজুলের ছেলে কবির হোসেন সাতক্ষীরা শহরের রাজারবাগান সরকারী কলেজের পাশ্ববর্তী একটি ভাড়াবাড়িতে বসবাস করতো।###