সাতক্ষীরায় দেশি পোশাক শীর্ষে


2049 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় দেশি পোশাক শীর্ষে
জুলাই ৯, ২০১৫ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
‘এবার ঈদে আমার পরিবারের সবাই দেশি পোশাক পরবো বলে ঠিক করেছি। দেশি শাড়ি, থ্রিপিসের ডিজাইন ভালো, পরতেও আরাম। এজন্য এবার বিদেশি কোনো পোশাক কিনব না।’- কথাগুলো বলছিলেন শহরের রাজারবাগান এলাকা থেকে আসা ক্রেতা আবিদা সুলতানা।
মঙ্গলবার পৌর নিউ মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলেন তিনি।
শুধু আবিদা সুলতানা নন, ‘দেশি পণ্য কিনে হও ধন্য’- এবার ঈদে যেন একথাটি সাতক্ষীরাবাসীর জন্য প্রযোজ্য। বেশিরভাগ ক্রেতা খুঁজে খুঁজে দেশি পোশাক নিয়ে ঘরে ফিরছেন।
বৃহস্পতিবার শহরের বড় মাকের্টগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে টাঙ্গাইলের শাড়ি, জামদানি, খদ্দর, মণিপুরী, কাতান, স্বর্ণকমল, টাঙ্গাইল জামদানি, বালুচরি, জর্জেট শাড়ি, তাঁতের শাড়ি। এগুলো সবই দেশে তৈরি। ছেলেরা দেশি পানজাবি, জিন্স প্যান্ট, শার্ট, গেনজি ব্যাগভর্তি করে ঘরে ফিরছেন। সাতক্ষীরা শহরের নিউ মার্কেট, মেহরুন প্লাজা, আমিনিয়া মার্কেট, এস মাওলা প্লাজা, ফাল্গুনী বস্ত্রালয় ঘুরে দেশি পোশাকের চাহিদা ব্যাপক লক্ষ্য করা গেছে।
দোকানিরা জানান, অন্যবারের মতো এবারও বাজারে ভারতীয় পোশাক রয়েছে পর্যাপ্ত। কিন্তু মানুষ সচেতন হয়ে গেছে। বেশি দাম দিয়ে এখন আর কেউ নিম্নমানের জিনিস কিনতে চায় না। কিরণমালা থ্রি-পিস আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা, মধুমালা থ্রি-পিস দেড় হাজার থেকে দুই হাজার, মায়াপরী থ্রি-পিস সাড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার, ফ্লোরটাচ থ্রি-পিস আট হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা দর হাঁকছেন দোকানিরা। দাম শুনে ক্রেতাদের চক্ষু চড়কগাছ।
তবে ব্যতিক্রমও আছে। কিছু কিছু তরুণীর পছন্দ ভারতীয় স্টার জলসার সিরিয়ালের কিরণমালা, মাচাককালি, ফ্লোরটাস ইত্যাদি।
গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম বেশি হওয়ায় নিম্নবিত্তরা পড়েছেন বিপাকে। অবশ্য নিম্নবিত্তদের কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে থানা মসজিদের সামনে ফুটপাতে বেশ কয়েকটি পোশাকের দোকান দিয়েছে স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা। বড় বড় মার্কেটের চেয়ে এই সব মার্কেটে জমে উঠেছে বেচাকেনা।
নিউ মার্কেটের নিপুণ বস্ত্রালয়েল সত্ত্বাধিকারী মো. শওকত হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকেবলেন, ‘এবার ভারতীয় শাড়ি এবং কাপড়ের চেয়ে দেশি পণ্যের দিকে ঝোঁক বেশিছ ক্রেতাদের। তার দোকানে টাঙ্গাইল শাড়ি ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, জর্জেট শাড়ি এক হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার টাকা, সিল্ক শাড়ি দুই হাজার থেকে সাত হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মেহেরুন প্লাজার বোরকা অ্যান্ড থ্রি-পিস হাউজের সত্ত্বাধিকারী কাজী মারুফ হোসেন বলেন, তার দোকানে থ্রি পিচ বিক্রি হচ্ছে বেশ ভালো। ক্রেতারা দেশি স্কার্ট, ডিভাইডার, বুটিকের তৈরি থ্রি-পিস, ফোর-পিস নিয়ে ঘরে ফিরছেন। তিনি দাম সর্ম্পকে বলেন, তার দোকানে থ্রি পিস দেড় হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মেহেরুন প্লাজার ফ্যাশন কিং-এ দেশি শাড়ির বিপুল সমাহার। তার দোকানে টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি, কাতান, বালুচরি শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন।
আমিনিয়া মার্কেটের ‘পোশাক’-এর সত্ত্বাধিকারী রাজিব আহমেদ ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, তার দোকানে দেশি পানজাবি, শার্ট-প্যান্ট বিক্রি হয়। পানজাবির মধ্যে সুতি ৩০০ থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা, জর্জেট দেড় হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার, জামদানি পানজাবি ৭০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা, টিস্যু পানজাাবি সাড়ে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার, শেরওয়ানি দুই হাজার টাকা থেকে চার হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।