সাতক্ষীরায় নাগরক কমিটির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশি বাঁধা !


1860 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় নাগরক কমিটির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশি বাঁধা !
মে ২২, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ এম. কামরুজ্জামান ॥
—————————–
সাতক্ষীরা জেলা শহরে ব্যাটারী ও ইঞ্জিন চালিত ভ্যান-রিক্য্রার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান এবং বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এর প্রতিবাদসহ ১০ দফা দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে।

সোমবার সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে তারা দেড় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন করে। এ সময় তারা সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়র বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মিছিলসহকারে সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করতে রওনা হলে সদর থানার সামনে পুলিশ ব্যারিগেট দিয়ে বাঁধার সৃষ্টি করে। পুলিশি বাঁধার মুখে আন্দোলনকারীরা আর অগ্রসর হতে পারেনি।  পরে তারা ফিরে এসে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অবস্থান নেয়। বেলা ১২ টার দিকে নাগরিক কমিটির নেতারা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দশ দফা দাবি সম্বলিত স্বারকলিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করে।

নাগরিক নেতারা মানববন্ধন চলাকালে বলেন, সাতক্ষীরায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং-এ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাত-দিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬ ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। মানুষের রাতের ঘুম যেন হারাম হয়েগেছে। দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ।
বক্তারা আরও বলেন, গত ১৫ মে ২০১৭ ইং তারিখ থেকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সাতক্ষীরা শহরব্যাপি মটর ও ইঞ্জিন ভ্যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরফলে প্রতিদিন এই শহরে চলাচলকারী লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। স্কুল কলেজে যেতে পারছে না শিশুসহ বহু শিক্ষার্থী। শহরে চলাচলকারী মানুষের যানবাহনের ব্যয় দ্বিগুন থেকে তিনগুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও অধিকাংশ সময় সেটা পাওয়া যাচ্ছে না। হাজার হাজার মটর ভ্যান চালকের অধিকাংশই বেকার হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ চুরি করে মটর ভ্যান চালালেও তাদেরকে সীমাহীন চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় জৈষ্ঠ মাসের এই তীব্র তাপদহ এবং বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং এর মধ্যে সাতক্ষীরা শহরব্যাপি এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব থেকে ইজিবাইক, মাহিন্দ্র বা অন্যকোন ছোট যানবাহন এই শহরে চলতে দেওয়া হয়না। ফলে মটরভ্যানই এই শহরে মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাহন। যদিও বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলায় এসব যানবাহন এখন মানুষের একস্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত চলাচলের বাহনে পরিণত হয়েছে।
কিছুদিন পূর্বে গোপালগঞ্জে যেয়ে এই ব্যাটারী চালিত ভ্যান চড়েছেন প্রধানমন্ত্রী , যা দেশের সকল সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন কোন রকম বিকল্প ব্যবস্থা না করে গরীব মানুষের রুটি রুজির পথ বন্ধ করে লাখ লাখ মানুষের সীমাহীন কষ্টের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষন্ন হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি।

মানববন্ধনে সভাপত্বিত করেন, জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মো: আনিসুর রহিম। বক্তব্য রাখেন, জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। মানববন্ধনে একত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা ইউনিটের জেলা কমান্ডার মশিউর রহমান মুশু, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি, শেখ ছাইফুল করিম সাবু, বিশিষ্ট শিক্ষক অনুরাগী অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ জেলা জাতীয় পর্টির যুগ্ন সাধরণ সম্পাদক  খালিদুর রহমান খলিদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পর্টির সদর উপজেলা সাধরণ সম্পাদক এড. ফাহিমুল হক কিসলু, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শুধাংশু শেখর সরকার, জেলা জাসদের আশেক-ই-এলাহী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ইউনিটের সদস্য সচিব লায়লা পারভিন সেঁজুতি, বিশিষ্ট সমাজ সেবক এনজিও ব্যক্তিত্ব মাদব চন্দ্র দত্ত, গণফোরাম সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক জাহাঙ্গীর হোসেন, রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান মিলন, মমিন হাওলাদার, জহর আলী, রেজাউল ইসলাম প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, নাগরিক কমিটির যুগ্ন সদস্য সচিব আলীনূর খান বাবুল।

——————————————————
সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটি ঘোষিত ১০ দফা :
——————————————————-
১. সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শিক্ষার পরিবেশ বিঘœকারী বাইপাস সড়কের সংযোগ ও পশ্চিম পাশে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। বাইপাস সড়ক আলিপুর চেকপোষ্ট পর্যন্ত নিয়ে যেয়ে ভোমরাস্থল বন্দর জাতীয় মহা সড়কের সাথে যুক্ত করতে হবে। নির্মাণাধীন ট্রাক টার্মিনাল মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে অন্যত্রে সরাতে হবে।
২. নাভারন হতে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করতে হবে।
৩. সাতক্ষীরা পাবলিক বিশ্ব বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।
৪. ভোমরা স্থল বন্দরকে পূর্ণাঙ্গকরণ এবং সকল পণ্য আমদানী-রপ্তানীর অনুমতি দিতে হবে।
৫. সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশে কার্যকর পদক্ষপ নিতে হবে।
৬. জেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে বেতনা, প্রাণ সায়ের, মরিচ্চাপ, সাপমারা, লাবন্যবতীসহ সকল নদী খাল খনন ও জোয়ার ভাটা চালু করতে হবে।
৭. দ্রুত জেলার রাস্তাঘাট সংস্কার ও পূণ:নির্মাণ করতে হবে।
৮. ভূমিহীন ও মৎস্য জীবীদের মধ্যে খাসজমি ও জলমহল বন্দোবস্ত দিতে হবে।
৯. বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে জেলার ৭০/৮০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ইঞ্জিনভ্যান, ভটভটি, মটর ভ্যান, নছিমন, করিমন, ইজিবাইক উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে। বর্তমান সাতক্ষীরা শহরে জনভোগান্তির চলমান মটরভ্যান বিরোধী অভিযান বন্ধ করতে হবে।
১০. অবিলম্বে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে।