সাতক্ষীরায় নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার শিশু ফাইমের স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায়


336 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার শিশু ফাইমের স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায়
জুলাই ৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান :
পাখি ধরা ওর দারুন নেশা ছিল। ঘটনার দিন বাড়ি থেকে একটি আম হাতে নিয়ে দুই তিনজন বন্ধুর সাথে কুশখালি বিজিবি ক্যাম্পের ধারে গিয়েছিল পাখি ধরতে। কিন্তু বিজিবির বাধার মুখে পারেনি ছোট্ট শিশু ফাহিম। এর একদিন পর ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার হয় কুশখালি সীমান্তের একটি পাটক্ষেত থেকে।
শিশু ফাহিম হত্যার এই বিবরন নতুন করে দিয়ে তার স্বজনরা জানান, পুলিশ এই হত্যাকান্ডে জড়িত এখন পর্যন্ত মাত্র তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অন্যান্য আসামিরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে অভিযোগ করে তারা বলেন ‘ এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন তিনি অন্য আসামিদের খুঁজে পাচ্ছেন না’। ফাহিমের স্বজনরা আরও জানান হত্যার পর থেকে তারা অনেকটাই নিরাপত্তাহীনতায়  রয়েছেন। একটি মহল বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে জানান তার্।া তারা বলছেন ‘ফাহিমকে তো আর পাওয়া যাবেনা’।
বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার কুশখালি থেকে ফাহিম হত্যার বিচার দাবিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসেছিলেন শিশু ফাহিমের নানা হাজি মোহাম্মদ আলি , মা ফয়জুননাহার ও খালা শামসুননাহার। সাংবাদিকদের তারা বলেন  গত ১৫ জুন আট বছরের শিশু ফাহিমের কাছে প্রতিবেশি মুজিবর রহমান  এক কেজি গরুর মাংস কিনে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ফাহিম তাদের বাড়িতে কারও না পেয়ে মাংসের ব্যাগটি বাড়ির মধ্যে থাক্ াএকটি ভ্যানের ওপর রেখে চলে যায়। একটি কুকুর ওই মাংস খেয়ে ফেলে। বাড়ির লোকজন ফিরে এসে মাংসের দুর্দশা দেখে তারা ফাহিমকে খুঁজতে বের হয়। এ সময় তারা কুশখালি মাঠ এলাকা থেকে ফাহিমকে ধরে আনে। পরে  তাকে বাড়িতে এনে মাংস কোথায় কৈফিয়ত তলব করে ফাহিমের বুকে লাথি মারে ইব্রাহীমের মা সফুরা খাতুন। এ সময় ইব্রাহীম ও তার ভাই ইসরাফিলও তাকে নির্দয়ভাবে মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে গেলে  সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে । কিছু সময় পর সে মারা যায় । দিনভর ফাহিমের লাশ ঘরের মধ্যে খাটের নিচে রেখে রাতের কোনো এক সময়ে লাশটি কুশখালি সীমান্তের একটি পাটক্ষেতে ফেলে দেয় তারা। পরদিন সন্ধ্যায় শিশু ফাহিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী  ইসরাফিলের স্ত্রী গৃহবধূ তামান্নাা খাতুন বিষয়টি তার বাপের বাড়ি জানিয়ে বলেন,   তিনি আর এই বাড়িতে থাকতে চান না। কারণ তাকেও তার স্বামী ইসরাফিল, ভাসুর ইব্রাহীম ও শাশুড়ি সফুরা খাতুন যে কোনো সময় হত্যা করতে পারে। এরপরই জানাজানি হয় ফাহিমকে হত্যা করা হয়েছে। তামান্না খাতুন ১৬৪ ধারয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।  সফুরা ও তার দুই ছেলেকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ফাহিমের মা অভিযোগ করে বলেন, নৃশংস এই হত্যার নেপথ্য নায়ক সফুরার স্বামী মুজিবর রহমান পালিয়ে গেছ্ ে। পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি বলে জানান তারা।
স্বজনরা আরও জানান, ওই বাড়ির গৃহবধূ তামান্না খাতুন হত্যার রহস্য উন্মোচন করে দেওয়ায় ঘাতকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তারা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। তামান্না বাপের বাড়িতে চলে গেছেন। সেখানে তিনি  নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান তারা ।
ফাহিম হত্যা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, রিমান্ডে নিয়ে তাদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তা বলা সম্ভব নয়। তিন আসামিকে  জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে’। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি ।