সাতক্ষীরায় নেই ক্যান্সার সনাক্ত ও চিকিৎসার নূন্যতম ব্যবস্থা : দুর্ভোগে রোগিরা


481 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় নেই ক্যান্সার সনাক্ত ও চিকিৎসার নূন্যতম ব্যবস্থা : দুর্ভোগে রোগিরা
জুলাই ১১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

হেলাল উদ্দিন : ক্যান্সার সনাক্ত ও চিকিৎসার নূন্যতম ব্যবস্থা না থাকায় সাতক্ষীরায় মরণ ব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের দূর্ভোগের যেন সিমা নেই। রোগ সনাক্ত করার পূর্বেই অনেক ক্যান্সার রোগী কঠিন যন্ত্রনায় ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় নিন্মবিত্ত পরিবারের কেউ মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ দিন কঠিন যন্ত্রনা ভোগ করে অবশেষে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। আর বিত্তশালীদের মধ্যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হলে রাজধানী ঢাকার কোন না কোন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সরনাপন্ন হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। যা নিন্মবিত্ত ও মধ্যে বিত্ত পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। এ জেলায় ক্যান্সার সনাক্ত ও চিকিৎসা নুন্যতম ব্যবস্থা থাকেলে ভুক্তভোগী পরিবার গুলো স্বজনকে বাছাতে না পারলেও কিছুটা হলেও স্বান্তনা পেত এই ভেবে যে চিকিৎসাতো করিয়েছি। এ ব্যাপারে কথা হয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ ফেব্রায়ারি  মারা যান সাতক্ষীরা তালা উপজেলার ১নং ধানদিয়া ইউনিয়নের ধানদিয়া গ্রামের আবুবক্কার আলীর পুত্র শাহাজান আলী। নিহতের পরিবার জানান, শাহাজান আলী জীবিত থাকা কালীন প্রায় কান্না জড়িত কণ্ঠে বলতেন আমি আর বাঁচবনা আমার চিকিৎসা সাতক্ষীরায় হবে না। তার পরিবার আরও জানান, অনেক কষ্ট করে ঢাকা পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছি। সময়তে সঠিক চিকিৎসা করাইতে পারি নাই। তাছাড়া ক্যান্সার চিকিৎসা অনেক ব্যয় বহুল। এ ব্যাপারে কথা হয় বেষ্ট টিউমারে আক্রান্ত সাতক্ষীরা তালা উপজেলার ১নং ধানদিয়া ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী নুরনাহার (৪৫)।পুত্র আরিফ হোসেন উৎকণ্ঠের সাথে জানান আমার আম্মার বেষ্ট টিউমার হয়েছে। ২ বছর যাবত গ্রাম্য ডাক্তার থেকে শুরু করে সাতক্ষীরার বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়েছি। তবে রোগের কোন পরিবর্তন হয়নি। সারাক্ষন ব্যাথা যন্ত্রনায় কার্তরাচ্ছেন। স্থানীয়দের অধিকাংশরই ধারনা ক্যান্সার হয়েছে। তবে সাতক্ষীরা ক্যান্সার নির্নয়ের কোন ম্যাশিন বা ডাক্তার না থাকায় ক্যান্সার হয়েছে কিনা পরীক্ষা করা হয়নি। গত ১০ ফেব্রয়ারি জানান, ২-৩ দিনের মধ্যে ধার দেনা করে হলেও আম্মাকে নিয়ে ঢাকায় যাব। সঠিক অনুষন্ধান করলে শাহাজানের মত কত দিন মুজুরের মৃত্যু হচ্ছে এবং নুর নাহারের মত মা বিনা চিকিৎসায় যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন এমন অনেকের নাম ঠিকানা বেরিয়ে আসবে। লক্ষ করা গেছে এ জেলায় নিন্ম বিত্ত পরিবারের কেউ কোন কারণে অসুস্থবোধ করলে সস্থা চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আসায় ছুটে যাচ্ছেন কবিরাজ ও হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কাছে। সাধারণ কিছু হলে অল্প টাকা আরোগ্য আলাভ করে কিন্তু  কঠিন কিছু হলে কবিরাজ ও হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের দ্বারা কোন কাজ হয় না। এ সময়  ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে হতাশা বিরাজ করে। ফলে রোগী আরোগ্য লাভের পরিবর্তে দিন দিন মৃত্যর দিকে অগ্রসার হচ্ছে। আর সে পরিবারটি হয়ে পড়ছে অর্থশুণ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এর তথ্য মতে জানুয়ারী পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগির সংখ্যা ১২ লক্ষ। প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং দেড় লক্ষ লোক মারা যাচ্ছে। সে অনুযায়ী সাতক্ষীরায় ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার এবং আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা। কি কি কারণে মরণ ব্যাধি ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখে সনাক্ত করে জনসাধারণকে সচেতনের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যয় বহুল ক্যান্সার চিকিৎসাকে মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। জননেত্রী  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসা খাতকে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। এমন কি দুস্থ রোগীদের জন্য জেলা প্রশাসক ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্যান্সার রোগীদের আর্থিক সহযোগীতা করে চলেছেন। সাতক্ষীরা জেলার সমাজসেবা অধিদপ্তর এ প্রতিবেদকে জানান আমরা ক্যান্সার রোগীদের  বিনামূল্যে ফরম বিতরন করছি। এবার আমরা ৬১জন ক্যান্সার রোগীর স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদন দিয়ে সমাজসেবা মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছি এবং গত জানুয়ারী মাসে ১৭জন  ক্যান্সার রোগীকে ৫০,০০০/= টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং এখনও আমরা আবেদন পত্র গ্রহণ করছি। এটা আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। মন্ত্রনালয় থেকে  আমাদের কাছে যখন তালিকা চাইবেন তখন আমরা এ তালিকা স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদন দিয়ে পাটিয়ে দিব। সাতক্ষীর জেলার সকল ক্যান্সার রোগীর তালিকা করে সাতক্ষীরা ক্যান্সার নির্নয়ের টেকশেনিয়ান ও ডাক্তারের ব্যবস্থা করে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেছন সাতক্ষীরা বাসী।