‘সাতক্ষীরায় পৃথক আম বাজার চাই’


470 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘সাতক্ষীরায় পৃথক আম বাজার চাই’
মে ১৫, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ বিশেষ প্রতিনিধি ॥
———————-
সাতক্ষীরায় আমের জন্য পৃথক বাজার চাই। এমন বাজার চাই যেখানে আম উৎপাদনকারী কৃষক তার বিষমুক্ত আম নিরাপদে বেচাকেনা করতে পারবেন। কারণ আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং মধ্যস্বত্ত্বভোগী দালালদের খপ্পরে পড়ে আমচাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আম চাষীরা কখনও কারবাইড ব্যবহার করে আম পাকান না। তারা বাজার পর্যন্ত নিয়ে আসেন। এরপর কাঁচা আম কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকিয়ে ক্রেতা সাধারনের সাথে প্রতারনা করে তাদেরকে বিষ খাওয়ান তারাই যারা আড়তদার, কিংবা মধ্যস্বত্ত্বভোগী ফড়িয়া। আর এর ফলে সাতক্ষীরার আমের সুনাম দিন দিন ক্ষুন্ন হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকালে পুরাতন সাতক্ষীরা মাদ্রাসাপাড়ায় আমের জন্য পৃথক বাজার চাই শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয। সেখানে উপস্থিত শতাধিক আমচাষী ও আমবাগান মালিক এসব তথ্য তুলে ধরেন। আমবাগান মালিক আবদুর রশীদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রফেসর মোজাম্মেল হোসেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষিকর্মকর্তা রঘুজিত গুহ, আমবাগান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল হাই সিদ্দিকি, মো. লিয়াকত হোসেন, এড. আবদুর রাজ্জাক, আবু জাফর সিদ্দিকি, আমবাগান মালিক সমিতির সেক্রেটারি মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন সাতক্ষীরায় আমের কোনো নিজস্ব বাজার নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কানসার্ট, বেলতলাসহ দেশের বিভিন্ন আম উৎপাদনকারী স্থানে আমের নিজস্ব অস্থায়ী বাজার বসে। চাষীরা সেখানে তাদের আম বিক্রি করার সুযোগ পান। সাতক্ষীরায় এমন সুবিধা নেই উল্লেখ করে তারা বলেন একমাত্র সুলতানপুর বড়বাজারে আমের বাজার থাকলেও সেখানে প্রচন্ড ভিড়ে আম নেওয়া কঠিন। তাছাড়া আগে থেকে মুখিয়ে থাকা ফড়িয়ারা জোর করে কৃষকের আম নিয়ে নেয়। ন্যায্য মূল্য দুরের কথা তারা প্রতি মন আমে পাঁচ কেজি ঢল বাদ দেয়। ওজনেও ফাঁকি দেয় উল্লেখ করে তারা বলেন আড়তদার আম বিক্রির সুযোগ নিয়ে প্রতি লাখ টাকায় দশ হাজার থেকে পনের হাজার টাকা মুনাফা লুটে নেয়। এতে চাষীর পকেট শুন্য হয়ে যায়। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন কুরবানির পশু বিক্রির জন্য অস্থায়ীভাবে হাট বসলে আমের জন্য কেনো পৃথক বাজার থাকতে পারবে না। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বাংলাদেশের চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করে বিদেশে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে । একইভাবে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও ফড়িয়া বিদেশে সাতক্ষীরার আম বাজার ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তারা আরও বলেন চাষী কখনও নিজের উৎপাদিত আমে বিষ প্রয়োগ করে ন। অথচ বিষযুক্ত আম ধরা পড়লে প্রশাসন আম নষ্ট করে আমের সাজা দেয় , যারা অপরাধ করলো তাদের সাজা দেয় না। তাদের জেল জরিমানা করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন আম নষ্ট করলে চাষীর বুক ফেঁটে যায়। চলতি বছর ১৩ জন বায়ার আম ক্রয়ের জন্য সাতক্ষীরায় আসছেন জানিয়ে তারা বলেন হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ব্যবহার করে আমের গুন এক মাস ধরে রাখা সম্ভব। এ জন্য কারবাইড বিষ ব্যবহারের প্রয়োজনই নেই। গত চার বছরে সাতক্ষীরার সাত শ’ আমচাষীকে আম চাষের ওপর প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তারা আরও বলেন চলতি বছর ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি হতে পারে। এসব আম ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার করে বিষমুক্ত করে রাখা হয়েছে। জেলার হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের সুস্বাদু আম শুধু দেশেরই নয় বৈদেশিক বাজার দখল করেছে বলেও উল্লেখ করেন তারা। অস্থায়ী বাজার হলে চাষীরা তাদের আমের ন্যায্য দাম পাবেন এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বক্তারা বলেন সাতক্ষীরায় আ¤্র মেলা করতে হবে । তাহলে আমের প্রসার হবে , কদরও বাড়বে। ব্যবসায়ী , আড়তদার ,ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্ত্বভোগী দালালদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে হবে জানিয়ে তারা বলেন এ দিকে প্রশাসনের নজর দিতে হবে। অন্যথায় সাতক্ষীরার আম চাষীরা আম উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।
আলোচনা সভায় চাষীরা বলেন জরুরি ভিত্তিতে আমের জন্য পৃথক অস্থায়ী বাজার দাবি করে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সহায়তা চান। তিনি তাদের এই দাবির সাথে একমত পোষন করে জেলার প্রশাসককে ব্যবস্থা গ্রহনের তাগিদ দেন। তারা আরও জানান জেলা প্রশাসক পৌর সভার ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ পৌরসভা এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ব্যবস্থা নেয়নি।
সাতক্ষীরা জেলায় চলতি বছর ৪১ শ’ হেক্টর জমিতে আমচাষ হয়েছে । এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। দেশের চাহিদা মিটিয়েও সাতক্ষীরা থেকে দুই শ’ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ১৫ মে মঙ্গলবার থেকে সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে পাকা আম সংগ্রহ।
##