সাতক্ষীরায় পেয়াজের আবাদ বেড়েছে : ভোমরা বন্দর দিয়ে কমেছে পেয়াজের আমদানি


383 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় পেয়াজের আবাদ বেড়েছে : ভোমরা বন্দর দিয়ে কমেছে পেয়াজের আমদানি
জানুয়ারি ৬, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল :
জেলায় পেয়াজ উৎপাদনের আবাদ কিছুটা বেড়েছে। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় পেয়াজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৮ হাজার মেট্রিকটন। উৎপাদন লক্ষ্য সামনে রেখে জেলার সাতটি উপজেলাতে প্রায় ৬ হাজার কৃষক ৮১০ হেক্টর জমিতে পেয়াজ চাষ করেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ৫০০ মেট্রিকটন উপাদন লক্ষ্য বেশি ধরা হয়েছে।
এদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি কমে গেছে। গেল অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে প্রায় ২০ শতাংশ আমদানি কমেছে । ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকগন বলছেন অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় সম্প্রতি ভারতে পেয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ কমে যাওয়ার কারনে আমদানি হ্রাস পেয়েছে।

 

xxxxxx
জেলা কৃষি সম্প্রস্রণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদরে ৩ হাজার ৫০০ টন, কলারোয়ায় ১ হাজার ২০০ টন, তালায় ১ হাজার ৭০০ টন, দেবহাটায় ৪০০ টন, কালিগঞ্জে ৫০০ টন, আশাশনিতে ৩৫০ টন ও শ্যামনগরে ৩৫০ টন।

সাতক্ষীরা সদরের আবাদের হাট  গ্রামের কৃষক ফজর আলী জানান, চলমি শীত মৌসুমে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি দুই বিঘা জমিতে পেয়াজ চাষ করেছেন। প্রতি বছরই এই ফষলটি তিনি চাষ করেন। তবে গেল বছর পেয়াজ উৎপাদন করে তেমন লাভ করতে পারেননি। তিনি বলেন, বাজারে পেয়াজের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আড়াই বিঘা পরিমান জমিতে পেয়াজ চাষ করে মাত্র ৬ হাজার টাকা লাভ হয়েছিলো তার। তাই এবার কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন পেয়াজ উৎপাদন।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ২ বিঘা পরিমান জমিতে স্থানীয় জাতের পেয়াজ চাষ করেছেন তিনি। বিঘাতে ৪০ থেকে ৪২ মন পেয়াজ উৎপাদন হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। এতে তার উৎপাদন খরচ ১৮ থেকে ২০ হাজার হবে। আর বাজারে যদি ভালো দাম পাওয়া তাহলে সব খরচ উঠিয়েও ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা হবে বলে আশা করছেন ।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া পেয়াজ চাষের উপযোগী হলেও এখানে অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেয়াজ উৎপাদন কম হয়। কিন্ত পেয়াজ খুবই লাভজনক একটি ফসল। তবে তুলনামুলক ভাবে বাড়ছে। গেল বছরের তুলনায় এবার আবাদ কিছুটা বাড়বে বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, সাতক্ষীরাতে পেয়াজ হেক্টর প্রতি ১০ মেট্রিকটন পর্যন্ত উৎপাদন করা যায়।
ভোমরা বন্দরের রাজস্ব বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে এ বন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি হয়েছে ৫৭ হাজার ৫০৯ মেট্রিকটন। এরমধ্যে গত জুলাই মাসে ১৮ হাজার ২২৩ টন, আগষ্টে ১১ হাজার ০৫ টন ও অক্টবরে ১২ হাজার ১২১। যার মুল্য ২৪৯ কোটি ৭২ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সূত্রটি আরো জানায়, গেল অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ বন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৬০ মেট্রিকটন। যা চলতি বছরের তুলনায় ১৮ হাজার ৪৫১ টন। সে হিসাবে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ২০ শতাংশ আমদানি কমেছে পন্যটি।