সাতক্ষীরায় পেয়ারা চাষে লাভবান চাষীরা


132 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় পেয়ারা চাষে লাভবান চাষীরা
জুন ৪, ২০২১ কৃষি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

থাই (বারি-৮) জাতের পেয়ারা চাষ করে আশার আলো দেখছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান।তার পরিবারে ফিরেছে সুদিন।পাশাপাশি পেয়ারা বাগানে কাজের সংস্থান হয়েছে কয়েকটি পরিবারের ।উপজেলার অন্য কৃষকেরা পেয়ারা বাগান করে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

কলারোয়া উপজেলার ধানদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান ২৫শতক কৃষি জমিতে শুরু করেছেন থাই (বারি-৮) জাতের পেয়ারা চাষ। চাষ শুরুর পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাগান থেকে ফলন পেতে শুরু করেছেন।তার ২৫ শতক জমিতে ফলনশীল থাই পেয়ারা গাছ আছে। পেয়ারা বাগানের ছোট ছোট গাছে থাই জাতের পেয়ারায় ভরে গেছে। পেয়ারাকে পোকা-মাকড় ও ধুলাবালি থেকে রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাগিং পদ্ধতি।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে সবচেয়ে বেশি পেয়ারা ধরে গাছে। সারা বছরই ফলন পাওয়া যায়। চারা লাগানোর দশ মাস পর থেকেই ফল পেতে শুরু করেন চাষীরা। বাজারে পেয়ারার দাম কম নয় প্রতি কেজি পেয়ারা পাইকারী বিক্রি করেন ৫০/৬০টাকা দরে।অধিক ফলনে হাস্যউজ্বল চেহারায় বেজায় খুশি কৃষকরা। থাই পেয়ারা মিষ্টি, সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল,বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। ফলে সহজেই পাইকারীদের কাছে বিক্রি করা যায়।যার ফলে পাইকাররা নিজেরাই বাগানে এসে পেয়ারা নিয়ে যান।

ধানদিয়া গ্রামের পেয়ারা চাষী আব্দুল মান্নান জানান, তিনি পেয়ারা চাষে উদ্ভুদ্ধ হয়েছেন, অন্যদের দেখে। লাভজনক চাষ হওয়ায় তিনি পেয়ারা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সদ্য বছরে পেয়ারা গাছে ফলন আসায় দ্রুত খরচ পুষিয়ে নেওয়া যায়।একবার গাছে পেয়ারা ধরা শুরু হলে সারা বছর পেয়ারার ফলন পাওয়া যায়, গাছে প্রচুর ছোট পেয়ারা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তার ২৫শতক জমিতে পেয়ারা চাষ করতে খরচ দাঁড়িয়েছে ৪০হাজার টাকা,এখন পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ৮০হাজার টাকা।সব মিলিয়ে অন্যান্য চাষের চেয়ে অধিক মুনাফা প্রাপ্তির নিশ্চায়তা রয়েছে পেয়ারা চাষে,বাজারে চাহিদাও রয়েছে।
তার এ পেয়ারা চাষের সাফল্যে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তাদের দেখাদেখি একই গ্রামের শিমুল দাস,রাজু মোড়ল,উজ্বল সহ আরও অনেকে।

ধানদিয়ার আরেক কৃষক শিমুল কুমার দাস জানান, তিনি ১৫ শতক জমিতে থাই বারি-৮ জাতের পেয়ারা চাষ করেছেন।বেকারত্ব দূরিকরণ ও অধিক মুনাফার আশায় তিনি অন্যান্যদের দেখে উদ্ভুদ্ধ হয়ে পেয়ারা চাষ করেছেন।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসার (কৃষিবিদ) রফিকুল ইসলাম জানান, কলারোয়ায় ১২৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে।থাই পেয়ারার ফলন ভালো,সুস্বাদু,দাম ভালো হওয়ায় এই এলাকার কৃষকদের পেয়ারা চাষের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।নতুন নতুন চাষে কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ করণের কাজ কলারোয়া কৃষি অফিস প্রতিনিয়ত করে চলেছে।কৃষি নির্ভর বাংলদেশ যাতে কৃষিতে সমৃদ্ধ হতে পারে তারি ধারাবাহিকতায় কাজ করছি আমরা।

#