সাতক্ষীরায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বই পাঠ্যের দাবী


299 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বই পাঠ্যের দাবী
জানুয়ারি ১৪, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে অনুমোদন বিহীন পাঞ্জেরী প্রকাশনীর বই জোরপূর্বক পাঠ্য করছে আশাশুনি শিক্ষক সমিতি

নাজমুল হক ::

জেলা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে বই পাঠ্য করছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা শিক্ষক সমিতি। প্রকাশনীর নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে অনুমোদন বিহীন পাঞ্জেরী প্রকাশনীর বই জোরপূর্বক পাঠ্য করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সমিতির কর্মকর্তা জানান, উপজেলা প্রশাসনসহ জেলা শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে বই পাঠ্য করছে।

তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের মে মাসের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা শিক্ষা অফিসের জেশিঅ/২০১৮/৬৪০৪ নং স্মারক মোতাবেক মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিকৃত করে রচিত নিম্ম মানের গাইড বই (বিশেষ করে পাঞ্জেরী, স্কায়ার, অক্সফোর্ড প্রকাশনীর) বই বাজারজাত না করে শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে আশাশুনি উপজেলা শিক্ষক সমিতি পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের অক্ষরপত্র বই বাজারজাত করছে।

সূত্র জানায়, গত ১১ ডিসেম্বর আশাশুনির গাবতলা হাইস্কুলে উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অধিকাংশ সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বই পাঠ্য করতে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের সাথে চুক্তি করে। এই পাবলিকেশনের বই হলো অক্ষরপত্র। পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের কাভার পৃষ্টা পাল্টানো অক্ষরপত্র বই ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বই বাংলা গ্রামার নান্দনিক বাংলা ব্যাকরণ, যার লেখক হলো মমিনুল মোমেন, আমিরুল ইসলাম এবং ইংরেজি গ্রামার লেখক হলো জামাল হোসেন ও স্বপন বড়–য়া। বইটি বাজারজাত করছে মর্ডান বুক ডিপো।

সূত্র আরো জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিকৃত করে রচিত নিম্ম মানের গাইড বই (বিশেষ করে পাঞ্জেরী, স্কায়ার, অক্সফোর্ড প্রকাশনীর) বই বাজারজাত না করে শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চিঠিতে নিম্ম মানের গাইড বই (বিশেষ করে পাঞ্জেরী, স্কায়ার, অক্সফোর্ড প্রকাশনীর) বই বাজারজাত না করে শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। অন্যদিকে, জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের জেশিঅ/সাত/২০১৮/৬৮১৯ স্বারক মোতাবেক এনসিটিবি কর্তৃক অনুমোদনবিহীন নোট/গাইড বই মজুদ, বিক্রি বা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত না করতে চিঠি দেওয়া হয়েছিলো। চিঠিতে এই সংক্রান্ত বই যাতে শিক্ষকরা সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত না করতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়। যার সিদ্ধান্ত দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু জেলা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে বই পাঠ্য করছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় শিক্ষক সমিতি। প্রকাশনীর নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে অনুমোদন বিহীন পাঞ্জেরী প্রকাশনীর বই জোরপূর্বক পাঠ্য করছে। বই পাঠ্য না করতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তীব্র বিরোধীতা করছে। অনেকে ফেসবুকেও তীব্র বিরোধীতা করছে।

এ বিষয়ে আশাশুনি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা পাঞ্জেরীর বই পাঠ্য করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে আমাদের কাজ চলছে। তিনি আরো বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসসহ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেছি।

সচেতন অভিভাবকগণ জানান, গত বছরও নিম্ম মানের বই নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু কাজ হয় নি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বাকী বিল্লাহ জানান, শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করার প্রশ্নই আসে না। আমি ছুটিতে আছি। এসেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রশাসনের নির্দেশ উপক্ষো করার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তা দেখতে চাই শিক্ষা সংশ্লিস্টরা। জেলা প্রশাসনের ভ্রম্যমান আদালতের অভিযান দিয়ে বন্ধ করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।