সাতক্ষীরায় প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় পেছালো গুড়পুকুর মেলা উদ্বোধন


443 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় পেছালো গুড়পুকুর মেলা উদ্বোধন
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় সর্পের দেবী মা মনসা পূজা উদপাপিত হয়েছে। এ পূজার সাথে ওৎপ্রোত ভাবে জড়িত গুড়পুকুরের মেলা। যা প্রায় ৪শ বছর ধরে সাতক্ষীরার ইতিহাস ঐতিহ্য ও বাংলা সংস্কৃতির মূল ধারা ধরে রেখেছে। হিন্দু শাস্ত্র মতে একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, প্রায় ৪শ বছর পূর্বে এ এলাকা জমিদার শাসন করতেন। তখনকার সময় সর্পে দংশনে মানুষের মৃত্যু ঘটতো বেশি। তাই তারা মা মনসার পূজা করতেন। স্থানীয়রা অনেকে বলেছেন বহুকাল পূর্বে শহরের পলাশপোল চৌধুরী পাড়ায় গুড়পুকুর পাড়ে একটি বটগাছ ছিল। বটতলায় নিয়মিত সাপের বিচরন ঘটতো। সেই সময় সাপের কামড় থেকে মানুষকে রক্ষা করতে মা মনসা পূজা করতেন। সকলে মনে করতেন মা মনসা খুশি থাকলে কাউকে কামড় দেবেনা। সেই থেকে প্রতি বছরে ভাদ্র মাসের শেষে ও আশ্বিনের প্রথমে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মা মনসা পূজা করেন। এদিকে মা মনসা পূজাকে কেন্দ্র করে শহরের পলাশপোল গুড়পুকুর সংলগ্ন রাস্তার দুই ধারে দুধ, কলা, বাতাসা, নতুন দানা মিষ্টি, কদমা, তুলসি পাতা, বেল পাতা ও জবা ফুলের পরসা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। মা মনসা দুধ ও কলার প্রসাদে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হয়। সকাল থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল বয়সের নারী পুরুষ পূজা দিতে আসেন গুড়পুকুর পাড়ে বটতলায়। তারা মা মনসা দেবীকে সন্তুষ্ট করতে প্রসাদ নিয়ে পুরোহিতের হাতে তুলে দেন। পুরোহিত তাদের মঙ্গলের জন্য অর্চনা করেন। সকাল থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ সুশৃংখল ভাবে বটতলায় দুধ, কলা, প্রসাদ নিয়ে অর্চনা করেন। তবে মা মনসার পূজা স্থানে বেহুলা ভাসন ছিল মন কাড়ানো। এখানে ভক্তরা বেহুলাকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। তবে মা মনসা দেবীকে খুশি করতে বহুকাল থেকে বটতলায় দুধ, কলা আর রসালো মিষ্টির স্তুপে পরিনত হয়। সেই সামগ্রী পাশ্ববর্তি পুকুরে গড়িয়ে পড়ায় পুকুরের পানি গুড়ের মত মিষ্টি হওয়ায় গুড়পুকুর হিসাবে পরিচিত ঘটেছে সর্বত্রই। স্থানীয়রা জানান মা মনসা পূজার সাথে যেমন গুড়পুকুর জাড়িত ঠিক তেমনি বহুকাল পূর্বে থেকে ঐ পুকুরের ধার থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মেলা বসতো। সেই মেলাকে গুড়পুকুরের মেলা হিসাবে আজও ঐতিহ্য বহন করে যাচ্ছেন। মেলাটি মূলত বাঙ্গালী সংস্কৃতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যুগ যুগ ধরে বহন করছে। প্রতিবছর আশ্বিন মাসে গুড় পুকুর মেলা শুরু হয় চলে মাস ব্যাপী। মেলায় কাঠের, বাশের ও বাঙ্গালী সংস্কৃতির সব বাহারী সামগ্রী পরসা নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। গুড় পুকুরের মেলা শুরুতে একটি গোষ্ঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে সেটি সমগ্র বাঙ্গালীর সংস্কৃতির একটি সেতু বন্ধন স্থাপিত হয়। মা মনসা পূজার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা পূজা আয়োজক কমিটির আহবায়ক ডাঃ সুব্রত ঘোষ, সদস্য সচিব তাপস চক্রবর্তী, সদস্য মিলন বিশ্বাস, গোষ্ঠ বিহারী, কর্ণ বিশ্বাস, মা মনসা পূজার পুরোহিত করেন শিক্ষক পরিতোষ চক্রবর্তী। এসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। উলে­খ্য, মেলার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় আজ ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখের পরিবর্তে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সম্ভাভ্য তারিখে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা উদ্বোধন করা হবে জানা গেছে।