সাতক্ষীরায় প্রাইমারী চাকরি প্রার্থী ২০ হাজার : শুক্রবার পরীক্ষা


685 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় প্রাইমারী চাকরি প্রার্থী ২০ হাজার : শুক্রবার পরীক্ষা
অক্টোবর ১৫, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সাতক্ষীরা জেলায় ২২ টি কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৯৪৮ জন অংশ গ্রহণ করবে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়ছে ৬৭ জন চাকরি প্রার্থী। পরীক্ষা চলাকালীন র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, ক্যালকুলেটার নিষিদ্ধের পাশাপাশি দেহ তল্লাসী করে প্রবেশ করানো হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রাখা হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে তিন স্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সকাল ১০ টায় ১৪টি জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। জেলায় ২৯৫টি পদের বিপরীতে ১৯ হাজার ৯৪৮ জন অংশ গ্রহণ করবে।

সূত্র জানায় পরীক্ষায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ (কলা ভবন ও বিজ্ঞান ভবন) কেন্দ্রে ৩ হাজার জন, পল্লী মঙ্গল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ১ হাজার, আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১ হাজার ১০০ জন, সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে  ১ হাজার ৫০০ জন, নবারুন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭০০ জন, পিএন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ৭০০ জন, বিদা-নৈশ কলেজ কেন্দ্রে ১ হাজার জন, পিটিআই কেন্দ্রে ৫০০ জন, কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯০০ জন, সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ১০০ জন, টাউন গার্লস হাইস্কুলে ৬০০ জন, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ১ হাজার জন, তালতলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮০০ জন, রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭০০ জন, পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬০০ জন, সিটি কলেজ কেন্দ্রে ১ হাজার ৩০০ জন, পলাশপোল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭০০ জন, বাঁকাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪০০ জন, আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮০০ জন, মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭০০ জন এবং সীমান্ত আদর্শ কলেজ কেন্দ্রে ৮৪৮ জন চাকুরি প্রার্থী অংশ নিবে।

সূত্র আরো জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে জেলা প্রশাসক তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে। জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান নিজে প্রশ্নপত্র ছাপানো থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিশেষভাবে তত্ত্বাবধান করছেন। জেলা প্রশাসকের বিশেষ স্থানে পর্যপ্ত সংখ্যাক ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে পুলিশের পাশাপশি র‌্যাব ও বিজিবি টহল দিবে।

সূত্র আরো জানায়, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটারসহ সকল ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সকল কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েত থাকবে। এজন্য যশোর জেলা প্রশাসন থেকে কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। পরীক্ষার শুরুর আধাঘন্টা আগে লটারি করে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্ধারণ করা হবে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জেলার এ সর্ববৃহৎ চাকরির পরীক্ষায় নিয়োগ করিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপ তৈরি কয়েছে। তারা চাকুরি প্রার্থীদের প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে চাকুরি দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে।

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চাকুরি দেওয়ার নাম করে অনেকে অর্থ নিচ্ছে বলে শুনেছি। কিন্তু কারা নিচ্ছে তা নিশ্চিত করে প্রশাসনকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  তিনি চাকরির নামে কোন ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ করেছেন।