সাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যে সক্রিয় একাধিক চক্র


1270 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যে সক্রিয় একাধিক চক্র
মে ৩০, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email
  • সাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১ জুন
  • ২৯ কেন্দ্রে ২৩ হাজার ৮৭ পরীক্ষার্থী
  • প্রশাসনকে দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে ৭/৮ লাখ টাকা

নাজমুল হক ::
২০১৪ সালের স্থগিতকৃত প্রাইমারী সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১ জুন সাতক্ষীরার ২৯টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নিয়োগ করিয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক চক্র উঠে পড়ে লেগেছে। প্রার্থীদের নিকট থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তি করছে ৭/৮ লাখ টাকা। কতিপয় ক্ষেত্রে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ও জেলা প্রশাসনের নাম ভাঙ্গানো হচ্ছে। অনেকে কেন্দ্র চুক্তির চেষ্টা করছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলায় সাকুল্যে অন্তুত ২৫০টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২৩ হাজার ৮৭ জন।
সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৪’ তৃতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষার তারিখ ২৬ মে পরিবর্তন করে আগামী ১ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধাপে মোট ১৪ জেলায় একযোগে পরীক্ষা নেয়া হবে বলে গত ১৫ মে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। আগামী ১ জুন শুক্রবার ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১৪’ এর তৃতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে ১১টা ২০ মিনিটে শেষ হবে। এ ধাপে মোট ১৪টি জেলায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জেলাগুলো হচ্ছে- গাজীপুর, নরসিংদী, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম সাতক্ষীরা, যশোর কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী।
সূত্র জানায়, সহকারী শিক্ষকদের এই নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক প্রার্থীদের সাথে চুক্তি করছে। আমার মাত্র একটি কোটা আছে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েও হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা টাকা। এ ক্ষেত্রে ঐ চক্রগুলো জেলা প্রশাসনসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নাম ব্যবহার করছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, প্রশাসনের সাথে আমার ভালো সখ্যতা। আমাকে তারা একটি কোটা দিয়েছে। আমি যাকে দেব তারা তাকে নিয়োগ দেবে। এ ক্ষেত্রে অগ্রিম দিতে হবে ৩ লাখ বাকী টাকা চাকুরির পরে।
সূত্র আরো জানায়, এবারই প্রথম জেলা শহরের বাহিরে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষা হচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী চক্রগুলো একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করছে। তাদের পছন্দের পরীক্ষার্থীকে ঐ কেন্দ্রের শিক্ষকদের সহায়তায় সকল প্রকার সুযোগ দিবে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলেও তারা উত্তর বলে দিবেন বলে প্রচার করছে। অন্যদিকে, চক্রগুলো সংশ্লিস্ট হল সুপারকে ম্যানেজ বা কক্ষ পরিদশককে ম্যানেজ করে তার (দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক) দিয়ে উত্তর করে দিবেন বলেও প্রচার করছে। এ ক্ষেত্রে ঐ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মোটা টাকা দিবেন বলেও প্রচার করছে চক্রগুলো। ফলে চাকুরি প্রত্যাশীর ঝুঁকছে তাদের মধুর প্রলোভনে।
সূত্র আরো জানান, জেলায় ৫০টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। জেলায় অন্তত ২০০ বাহিরে সহকারী শিক্ষক পদায়ন আছে। তারা চলে গেলে ২৫০টির মতো পদ শুন্য থাকবে। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষককে পদোন্নতি হবে। নিয়োগের রেজাল্টের আগে তাদের পদোন্নতি হলে তাদের পদও শূন্য হবে। সে ক্ষেত্রে সঠিক কতজন শূন্য আছে তা বলা যাবে না। তবে এখন ৫০টির মতো পদ শূন্য আছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমকতা রুহুল আমীন বলেন, পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ২৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২৩ হাজার ৮৭ জন।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানান, কোন চক্র নিয়োগ দিতে পারবে না। নিয়োগ শতভাগ স্বচ্ছ হবে। এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তারা নিয়োগের আশ্বাসপ্রদানকারী চক্রকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করার আহবান জানান।