সাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসে উত্তর নেওয়া পরীক্ষার্থীর কারাদন্ড


1152 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসে উত্তর নেওয়া পরীক্ষার্থীর কারাদন্ড
জুন ১, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email
  1. সাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন
  2. ভয়েস অব সাতক্ষীরায় সংবাদ প্রকাশের জের
  3. ডিভাইসে উত্তর নেওয়া পরীক্ষার্থীর কারাদন্ড

 

নাজমুল হক ::

সাতক্ষীরায় প্রাইমারী সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মোবাইল ডিভাইসে উত্তর পত্র নেওয়ার সময় এক পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় পিটিআই কেন্দ্রের ৭ নং কক্ষ থেকে তাকে আটক করে। পরে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তাকে ছাড়াতে মোবাইল ডিভাইসে উত্তরপত্র দেওয়ার গ্রুপের শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিভিন্ন তৎবীর করতে থাকে। এ নিয়ে ভয়েস অব সাতক্ষীরায় সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। আটক কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের ইয়ার আলীর পুত্র আহসান হাবিবকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের কারাদন্ড দিয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৪’ তৃতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষার তারিখ ২৬ মে পরিবর্তন করে আগামী ১ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধাপে মোট ১৪ জেলায় একযোগে পরীক্ষা নেয়া হবে বলে গত ১৫ মে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। আগামী ১ জুন শুক্রবার ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১৪’ এর তৃতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে ১১টা ২০ মিনিটে শেষ হয়েছে। এ ধাপে মোট ১৪টি জেলায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে- গাজীপুর, নরসিংদী, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম সাতক্ষীরা, যশোর কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মতো পরীক্ষার্থীদের ডিভাইসে উত্তর বলে দিতে তৎপর হয়েছে গ্রুপটি। গ্র“পটি পরীক্ষা শুরু পর পরই তাদের গ্রুপের সদস্য দিয়ে প্রশ্ন বাহিরে আনার চেষ্টা করবে। প্রশ্ন বাহিরে নিয়ে ঐ গ্রুপের সাথে থাকা উত্তর তৈরির এক্সপার্ট দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল বা বিশেষ প্রযুক্তির ডিভাইসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীদের নিকট দিয়ে এমন তথ্য দিয়ে সংবাদ  দুই দিন প্রকাশ করে ভয়েস অব সাতক্ষীরা।
ঐ রিপোর্টে আরো বলা হয়, এবারই প্রথম জেলা শহরের বাহিরে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়েছে। রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী চক্রগুলো একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করছে। তাদের পছন্দের পরীক্ষার্থীকে ঐ কেন্দ্রের শিক্ষকদের সহায়তায় সকল প্রকার সুযোগ দিবে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলেও তারা উত্তর বলে দিবেন বলে প্রচার করছে। অন্যদিকে, চক্রগুলো সংশ্লিস্ট হল সুপারকে ম্যানেজ বা কক্ষ পরিদশককে ম্যানেজ করে তার (দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক) দিয়ে উত্তর করে দিবেন বলেও প্রচার করছে। এ ক্ষেত্রে ঐ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মোটা টাকা দিবেন বলেও প্রচার করছে চক্রগুলো। ফলে চাকুরি প্রত্যাশীর ঝুঁকছে তাদের মধুর প্রলোভনে।
এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে টনক নড়ে প্রশাসনের। রাতভর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে নজরদারি করতে থাকে। শহরের সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে টার্গেট করে।
সাতক্ষীরা পিটিআই সুপার ত্রিদীপ কুমার ঘোষ, কলারোয়ার বাড়ি এক পরীক্ষার্থীর মোবাইলে উত্তরপত্র নিয়ে ম্যাসেজ আসতে থাকলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজল মোল্ল্যা তাকে আটক করে। পিটিআই’র ৭ নং কক্ষ থেকে মোবাইল ও আগগ এসএমএস সহ তাকে আটক করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ইফতেখার হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, মোবাইল ডিভাইসে উত্তর পত্র নেওয়ার একটি গ্রুপ সাতক্ষীরায় কাজ করছে এমন খবর পত্রিকায় জানার পরেই প্রশাসন তৎপর হয়। পিটিআই থেকে এই চক্রের এক জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যামান আদালতে তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
তিনি আরো জানান, প্রশাসনের তৎপরতার কারণে ঐ গ্রুপটি সুবিধা করতে পারে নি। তারা মাঠে নামার আগেই চলে গেছে।