সাতক্ষীরায় প্রাণ সায়র খাল বাঁচানোর দাবিতে মানববন্ধন


593 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় প্রাণ সায়র খাল বাঁচানোর দাবিতে মানববন্ধন
মে ৩১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না ::
সাতক্ষীরা সচেতন নাগরিক কমিটি কর্তৃক আয়োজিত সাতক্ষীরা প্রাণ সায়র খালের নাজুক পরিস্থিতি  এবং অবৈধভাবে খালের যায়গা দখল উচ্ছেদসহ খালকে প্রবাহমান করার লক্ষ্যে এবং খালকে বাচানোর দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে ।
সংগঠনের আহবায়ক ড.দিলারা বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যান ব্যানার্জী, সনাক সদস্য সুশান্ত ঘোষ, তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান, প্রফেসর আব্দুল হামিদ, জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক সাংবাদিক মোঃ আনিসুর রহিম, স্বদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, বরসা’র সহকারী পরিচালক মোঃ নাজমুল আলম মুন্না এবং এ্যাড. ফাইমুল হক কিসলু প্রমুখ। এসময়  বক্তারা বলেন সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ কেন্দ্র দিয়ে প্রবাহমান প্রাণ সায়ের খালটি বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী ১৭০০ সালের শেষ দিকে শহরের সঙ্গে নদী পথের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য খনন করে যেটা সাতক্ষীরা শহরকে ২ ভাগে ভাগ করেছে। প্রায় ১৩ কিলোমিটার খালটি উত্তরে বেতনা নদী এবং দক্ষিনে মরিচ্চাপ নদীর নদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। আশির দশকে জোংার-ভাটা নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে খালটি উত্তর প্রান্তে লাবসা ইউনিয়নের খেজুরডাঙ্গা ও দক্ষিনে এল্লারচরে ২ টি স্লুইজগেট নির্মান করায় বর্তমানে খালটির প্রাণ যায় যায় অবস্থা এবং বন্ধপ্রায় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেটা সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ জেলা প্রশাসনের যেন কোন মাধাব্যাথা নেই। উল্লেখ্য যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) বিভাগ-১ এর তত্বাবধানে জলবায়ূ ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সাতক্সীরার পূর্নবাসন প্রকল্পে মাধ্যমে ভরাট হয়ে যাওয়া প্রাণ সায়ের খালের কদমতলা থেকে এল্লারচর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার পুনর্ঃখননের জন্য ২০১২ সলের ২৮ জুন দরপত্র আহবান করে এবং ঢাকার আরকে মিশন রোডের মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স ৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কাজটি পেয়ে মূল কাজের যে রিকয়ারমেন্ট ছিল নঁকশানুযায়ী বা পরিকল্পনা মোতাবেক  ২০% খাল কাটা হয়নি বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে। পাউবো ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের বিল ৪৫ শতাংশ পরিশোধ করেছে । বর্তমানে খালটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে নেই কোন পানি, নেই কোন শ্রোত আছে শুধু আবর্জনা ময়লা ও বর্জ্য। বর্তমানে প্রাণসায়ের খালটি কচুড়ীপনায় ভরাট রয়েছে। অব্যাহত রয়েছে অবৈধ দখল। দখলদারের তালিকায় ব্যাক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পিছিয়ে নেই ধর্মীয় উপাসনালয়ও। জলকপাট বা স্লুৃইচগেটের কারনে পানির প্রবাহ না থাকায় পলি জমে প্রাণসায়ের খালের গভিরতা কমে যাওয়ায় প্রতিবছর বর্ষাকালে সাতক্ষীরা শহরে সৃষ্ট হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। ফলে পৌরবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। এক্ষেত্রে পৌরসভাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাবন্ধতায় ব্যহত হয় শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা কার্যক্রম। ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন পানিবাহিত সংক্রমন রোগ।খালটির প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এবং সাতক্ষীরার জনগণের জন্য একটি পরিবেশ বান্ধব শহর নিশ্চিত করার জন্য সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরা প্রাণ সায়ের খাল রক্ষার জন্য গত ০৬ সেপ্টেম্বর,২০১৬ তারিখে নিন্ম লিখিত দাবিকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছিল।  কিন্তু এ বিষয়ে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় প্রাণসায়ের খালটি রক্ষায় জেলা প্রশাসক সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পূনরায় নিন্মলিখিত দাবির আলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের অনরোধ করেছেঃ খালপাড়ের সকল অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ-অপসরণ ও প্রতিরোধ মূলক পদক্ষেপ গ্রহন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রাণসায়ের খালের রক্ষনাবেক্ষনে বিশেষ প্রকল্প গ্রহনে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে, লাবসা ইউনিয়নের খেজুরডাঙ্গা এবং এল্লারচরে নির্মিত জলকপাট বা স্লুইচগেট অপসারণ করে বেতনা নদী এবং মরিচ্চাপ নদীর সঙ্গে প্রাণসায়ের খালের পুর্নঃসংযোগের মাধ্যমে প্রবাহ সুষ্টির ব্যবস্থা করতে হবে, ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধকরনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে, খাণখনন প্রকল্পে নাগরিক অংশগ্রহনের মাধ্যমে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, বড়বাজার এলাকার বর্জ্য প্রাণসায়ের খালে যাতে না ফেলা হয় সেটা মনিটরিং করার ব্যবস্থা করতে হবে এই দাবিগুলো নিয়ে আজ বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচী শেষে আয়োজনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।