সাতক্ষীরায় বর্জ ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে !


530 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় বর্জ ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে !
অক্টোবর ১৪, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না ::

পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে পরিবেশের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যান্ত জরুরি। কারন মানুষসহ সব প্রাণের অস্তিত্ব পরিবেশের উপর নির্ভরশীল এবং পরিবেশই প্রাণের ধারক ও বাহক। সঠিক বর্জ ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ৯ টি ওয়ার্ড, ৪০টি মহল্লা ও ৫টি মৌজা এবং ৩১.১০ বঃকিঃ এলাকা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকা। এখানে বসবাসরত জনসংখ্যার পরিমান প্রায় ২ লাখ। চলতি বছরের ২৯ জুলাই সাতক্ষীরা পৌরসভা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য বিভিন্নখাতে ৬০ কোটি ২৩ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষনা করেন জনসম্মুখে। তথ্য থেকে জানাযায় পৌরসভা স্বাস্থ্য ও পয়ঃপ্রণালী খাতে বরাদ্ধ রেখেছে ২৭ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সাতক্ষীরা পৌরএলাকায় যত্রতত্র ব্যক্তিগত ডাষ্টবিন তৈরির ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা পৌর সচিব মোঃ সাইফুল ইসলাম বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,পরিবেশ দূষন বিভিন্ন কারনে হয়ে থাকে তারমধ্যে শব্দ দুষন, পলিথিন ও পিলাষ্টিক দুষন রয়েছে তারমধ্যে ডাষ্টবিন দুষন মারাত্মক। আমাদের ডাষ্টবিনের সংখ্যা ১১০ টি তারমধ্যে সচল রয়েছে অর্ধেকের মতো। বর্জ সমস্যা সলুশন করার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। আমরা গ্রীন সিটিতে পরিনত হতে চাই তবে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পাবলিক, কারোর বাড়ীর সামনে ডাষ্টবিন বসাতে দিতে চায়না। বর্তমানে বর্জ নিষ্কাশনে আমাদের সাথে ক্লিনিক মালিক এ্যাসোসিয়েশন এবং সেরকারী সংস্থা পল্লিচেতনার সাথেও চুক্তি হয়েছে। তারা আমাদের ১০ টি ভ্যানের ব্যবস্থা করেছে বর্জ সংগ্রহ ও শোধনের জন্য। আমরা ছোট আকারে বাস টার্মিনালে বায়োগ্রাস প্লান্ট তৈরি করেছি। বাড়ী হতে আনা বর্জ শোধন করে জৈব সার ও গ্রাস উৎপাদন করছি। তাছাড়া ভবিষ্যতে বিনেরপোতায় লার্জ স্কেলে বর্জ শোধনাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া কুখরালী আমতলায় ১টি মানববর্জ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করা হয়েছে সেই প্লান্ট দিয়ে জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। যারফলে মানববর্জ ব্যবস্থাপনার মধ্যে চলে এসেছে।

বর্জ সমস্যায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী ওলিয়ার, বিল্লাল ও আজিবার বলেন,আমরা এখানে বসে কোন কাজ করতে পারিনা গন্ধের জন্য। আমাদের এখানে কোন খরিদ্দার দাড়াতে চায় না আমরা রয়েছি ভিশন সমস্যায়। এবিষয়ে আমরা মেয়র সাহেবের সাথেও কথা বলেছি কোন ফল হয়নি। প্রাণসায়ের খালকে তো সবথেকে বড় ডাষ্টবিনে পরিনত করা হয়েছে। সেখানে যে যার ইচ্ছামতো ময়লা, আবর্জনাসহ মলমুত্র ফেলছে, ফলে পরিবেশের মারাত্মক বিপত্তি ঘটছে। ব্যবসায়ী শেখ আল মামুন বলেন ৭/৮ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি কিন্তু এখানে ডাষ্টবিন না থাকার ফলে অফিসের সামনের খালে ব্যাংক, বীমা ও দোকানদারসহ সবাই ময়লা ফেলে কোন রকম বাধা ছাড়াই। আমরা অফিসে বসে কোন খাবার খেতে পারিনা। তিনি বলেন বর্জ অব্যবস্থাপনায় নাজেহাল সাতক্ষীরার মানুষ। প্রশ্ন মুক্তি মিলবে কবে?