সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে হাজারো বেকার স্বাবলম্বী


1404 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে হাজারো বেকার স্বাবলম্বী
সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

*সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী মিলন অধিকারী

স্টাফ রিপোর্টার ::
‘কবুতর’ শান্তির প্রতীক। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে দেখা যায় বিভিন্ন প্রজাতির রঙ-বেরঙের কবুতর। শখের বশবর্তী হয়ে কিংবা বানিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতর পালন করেন অনেকেই। তেমনই সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জের কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজারগ্রামের রামপদ অধিকারীর ছেলে মিলন অধিকারী (৪৮)। বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। তার দেখাদেখি অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিলন অধিকারীর খামারে প্রায় ৫০ টারও বেশি বড় বড় খাঁচায় পালন করা হচ্ছে। এখানে রয়েছে বিদেশি ৩০ প্রজাতির কবুতর। এসব কবুতরের বর্তমান বাজারমূল্য প্রতিজোড়া ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
খামার মালিক মিলন জানান, ছোট বেলা থেকে তার প্রিয় শখ ছিলো কবুতর পালন করা। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে উন্নতজাতের কবুতর ক্রয় করে বাড়িতে পালন করতেন। এরপর তার এক বন্ধুর পরামর্শে ২০১১ সালে বানিজ্যিকভাবে কবুতর পালন শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় দুই’শ জোড়া কবুতর রয়েছে যার মূল্যে কয়েক লক্ষ টাকা। বিদেশি জাতের প্রতিটি কবুতর থেকে প্রতিমাসে বাচ্চা পাওয়া যায়।
বিক্রি করার কলাকৌশল সম্পর্কে তিনি জানান, তার খামারটি অনেক পুরানো। এজন্য তার পরিচিতি অনেক বেশি। এছাড়াও তিনি স্মার্টফোনের মাধ্যমে কবুতরের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে দেন। যার করণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা পছন্দের কবুতর ক্রয়ের জন্য তার সাথে যোগাযোগ করেন। বর্তমানে মিলন অধিকারীর খামারে লক্ষা, গ্রীবাজ, লোটন, সিরাজী, ময়ূরী, মুক্কি, কালশিরা, বিউটি ডোমার, নান, জিলানী, কালদম, শোয়া, চন্দন, কিংস্টার, মহিশুড়, কালপুড়া, রামপুরি প্রজাতিসহ আরও কয়েক প্রকার কবুতর রয়েছে। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বাণিজ্যিক ভাবে দেশি ও বিদেশি জাতের কবুতর পালন করে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা: মনোজিত কুমার মন্ডল জানান, অল্প পুঁজি ও স্বল্প জায়গা নিয়ে কবুতর পালন করা যায়। কবুতর পালন এখন লাভজনক হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ছয়’শ বানিজ্যিক খামার গড়ে উঠেছে। কবুতর পালন করলে মনের বিষন্নতা কেটে যায়, বাড়ে মনের প্রশান্তি। পাশাপাশি প্রাণির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে অনেক বেকার যুবক বাড়িতে কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।