সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের খামার করে সফল মফিজুল


120 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের খামার করে সফল মফিজুল
আগস্ট ১৫, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

বাণিজ্যিকভাবে ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদরের মাঝিয়াড়া গ্রামের মফিজুল ইসলাম।

দেশীয় ছাগলের পাশাপাশি ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের মাংসের যেমন চাহিদা রয়েছে, তেমনি দামও সন্তোষজনক হওয়ায় ছাগলের খামার গড়ে তিনি সাফল্য পেয়েছেন তিনি। তার দেখাদেখি এখন এলাকার অন্যান্য যুবকরাও ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
এক সময় ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে কাজ করতেন মফিজুল ইসলাম। হঠাৎ একদিন ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় কোন একটি বাড়ির ছাদের উপর ছাগলের খামার দেখতে পান। এই খামারই পরবর্তীতে তাকে খামার গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে।

২০১৯ সালের ৮মার্চ দেশে করোনা সংক্রামন ধরা পড়ার পর মফিজুল ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে আসেন। কিছুদিনের মধ্যে গড়ে তোলেন ছাগলের খামার। শুরুতে ছাগলের সংখ্যা ছিল ১৯টি। এখন তার খামারে ছোট বড় মিলিয়ে ছাগলের সংখ্যা ৬০টি। যেখান থেকে তার বছরে আয় প্রায় ৩লক্ষ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা। তার খামারে ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের পাশাপাশি দেশি ছাগলও রয়েছে। মফিজুলের সফলতা দেখে অনেকেই ছাগলের খামার করতে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।

মফিজুল ইসলাম বলেন, আমি দির্ঘদিন যাবৎ গার্মেন্টেসে কাজ করছিলাম। ২০১৯ সালে আমি নিজেই ১৯টি ব্লাক বেঙ্গল ছাগল দিয়ে খামার শুরু করি। প্রথম বছর ছাগলের বাচ্চা হওয়ার পর আমার খামারের ২৮টি বাচ্চা মারা যায়। ফলে ওই বছর লাভের মুখ দেখতে পানিনি। কিন্তু তার পরের বছর থেকে আমি লাভবান হতে থাকি।

তিনি আরও জানান, ব্লাক বেঙ্গল ছাগল বছরে দুইবার বাচ্চা দেয়। প্রতিবার প্রজননে ২-৪টা বাচ্চা হয়। রোগ-বালাইও কম হয়। বছরে একবার টিকা দিলেই আর কোনো ওষুধ লাগে না। একটি ছাগল প্রতিদিন ১৫/২০ টাকা খাদ্য খায়। ছাগলকে খাওয়ানো হয় গম, ভুট্টা, ছোলা বুটের গুড়ো, সয়াবিন ও ঘাস। তাই অল্প খরচে বেশি আয় করা সম্ভব।

তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাছুম বিল্লাহ জানান, দেশি ছাগলের পাশাপাশি আমরা ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালন করার জন্য উপজেলাতে ১০ প্রশিক্ষণ ও দুই জনকে টাকা দিয়েছি। উপজেলাতে মোট ১১৯টি ছোট বড় ছাগলের খামার রয়েছে। মোট ছাগল রয়েছে ৪৭৫৫১টি। আমরা নিয়মিত তাদের ওই ছাগলের খামার পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে দিচ্ছি।