সাতক্ষীরায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতরের খামার করে লাভবান হচ্ছে অনেকে


8159 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতরের খামার করে লাভবান হচ্ছে অনেকে
জানুয়ারি ১৩, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার : কোয়েলের পাশাপাশি কবুতর পালন খামার করে লাভবান হচ্ছে সাতক্ষীরার অনেকে। উন্নত প্রজাতির দেশী-বিদেশী অসংখ্য কবুতরের খামার গড়ে উঠেছে সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলে। এটি লাভজনক হওয়ায় এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলে জানান জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ।

সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুরস্থ মহল্লার বাসিন্দা মো. আজমল হোসেন। গত এক দশক যাবত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকাতে কবুতরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খামার করে আসছেন। তবে এরমধ্যে সবচেয়ে কবুতর পালন লাভজনক বলে জানান তিনি। ফলে বানিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতর উৎপাদন করছেন। আজমল হোসেন বলেন, তার খামারে দেশী-বিদেশী প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর রয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকার কমলা কিং, সাদা কিং, জার্মানির পুটারবল, পাকিস্থানের জগাবিন ও ভারতের সিলভার সিরাজী, লক্ষা, পারভীন নোটন উল্লেযোগ্য।

এসব উন্নতজাতের কবুতরের দামও বেশ চড়া বলে জানান তিনি। আজমল হোসেন বলেন, প্রতি জোড়া কবুতর বিক্রি করছেন জগাবিন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা, কমলা কিং ৭ হাজার টাকা, সাদা কিং ৮ হাজার, পুটারবল ৫ হাজার, সিলভার সিরাজী ৬ হাজার টাকা, লক্ষা ৫ হাজার ও পারভীন ৪ হাজার টাকা দরে প্রতি জোড়া বিক্রি করছেন। তিনি জানান, দেশের দুরদুরন্ত থেকে শৈখিন কবুতর পালনকারীরা তার খামার থেকে এসব মুল্যবান কবুতর কিনে নিয়ে যায়। আজমল হোসেন বলেন, এ খামার থেকে তার প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়।  তবে এটিতে ব্যাপক শ্রম দেয়া লাগে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এসব কবুতরের খাদ্য ও রোগ পরিচর্জার দিকে খুবই খেয়াল দিতে হয় তার। যদিও ঠান্ডাজনিত ছাড়া তেমন কোনো রোগ বালাই হয় না এদের। তবে খাদ্য নিয়মমাফিক ও সঠিক সময়ে না দিতে পারলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এদের খাদ্যের মধ্যে রয়েছে পপ্পন, গম, ভুট্টা ও রেজা।

 

satkhira-3

সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার কলেজছাত্র সাব্বির হোসেন। পড়া লেখার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন কবুতর পালন খামার। তার খামারে উন্নতজাতের বিভিন্ন দেশী কবুতর উৎপাদন করা হয়। সাব্বির হোসেন জানান, কবুতর পালনে অন্য পাখির মত ঝুকি নেই। তাছাড়া স্থানীয় ভাবে খাদ্য এবং ওষুধ সরবরাহ হয়ে থাকে। তিনি জানান, কবুতর পালন করে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মুনাফা হয় তার। এতে তার পড়া লেখাসহ হাত খরচের টাকা মিটানো সম্ভব হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাক্তার শশাংক কুমার মন্ডল জানান, কোয়েলের পাশাপাশি কবুতর পালন খুবই লাভজনক। এটি অনেক শিক্ষিত বেকার ছেলে-মেয়েরা তাদের বাড়িতে ছোটখাটো খামার করে কবুতর পালন করে আর্থিক ভাবে সচ্ছল হচ্ছে। তাছাড়া কবুতরের মাংস খুবই পুষ্টিকর। যা আমাদের পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মিটছে। ফলে সাতক্ষীরাতে বানিজ্যিক ভাবে কবুতর পালন খামার গড়ে উঠছে। তিনি বলেন, জেলা সদর সহ বিভিন্ন উপজেলায় ভাবে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কবুতরের খামার রয়েছে সাতক্ষীরায়। এসব খামারীরা কবুতর পালন করে লাভবান হচ্ছে। তিনি বলেন, কবুতরের শীতকালীন সময়ে কিছু রোগবালাই দেখা দেয়। তাছাড়া বছরের অন্য সময় এদের তেমন কোনো রোগ দেখা দেয় না।