সাতক্ষীরায় বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব নারী দিবস


1765 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব নারী দিবস
মার্চ ৮, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না :
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারী-পুরুষ সকলের জন্য এক বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব নারী দিবস। এ বছর নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার “
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ নারী সংগ্রামের ইতিহাস। ঊনবিংশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের নারী শ্রমিকরা কারখানার মানবেতর জীবনযাপনের পরিবেশ, বেতন বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং অনির্দিষ্ট শ্রম ঘণ্টার মতো অমানবিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্ক শহরের সুই কারখানার নারী শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেছিল। কারণ ওই সময় ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় তাদের কারখানায় শ্রম দিতে হতো। কোনো বিশ্রামের অবকাশও ছিল না। এর বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ করার কারনে নারী শ্রমিকদের অমানুষিক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল । ১৮৬০ সালে নারী শ্রমিকরা ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’ গঠন করে অধিকার আদায়ে আন্দোলন শুরু করে। ১৯০৮ সালে হাজার হাজার নারী শ্রমিক ৮ ঘণ্টা কর্মসময়, ভোটের অধিকার ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে নিউইয়র্কে রাজপথে আন্দোলন করেন। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে অন্য নারীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে সোশ্যাল ডেমোক্রেট নারী সংগঠন আয়োজিত সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নারীর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন ক্লারা জেটকিন। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ ঘোষণা করে। ১৯১১ সাল থেকে দিবসটি পৃথিবীব্যাপী পালনের আহ্বান জানান । এই সম্মেলনে ১৭ টি দেশ থেকে শতাধিক নারী প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। নারী-পুরুষ সমঅধিকারের দাবিতে তখন থেকেই দিবসটি বিভিন্ন দেশে পালন করা হচ্ছে। ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ প্রথম বিভিন্ন দেশে নারী দিবস পালন করা হয়। প্রথমদিকে মূলত বামপন্থীরাই দিবসটি পালন করতেন। ১৯১৪ সালে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্কসহ বেশ কয়েকটি দেশে নারী দিবস পালন করা হয়। ১৯১৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নারী দিবস সাড়ম্বরে পালন করা হয়। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৭৫ সালকে ‘নারী বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘ ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ’ প্রণয়ন করে।

আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি বিসাউ, ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম ও জাম্বিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সরকারি ছুটি থাকে। চীন, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার ও নেপালে এদিন নারীরা সরকারি ছুটি ভোগ করেন। আমাদের দেশে এখনও এটা চালু হয়নি। ১৯৬৯ সালে স্বাধীনতা পূর্বকালে প্রথমবারের মতো এদেশে প্রকাশ্যে নারী দিবস পালন করা হয় গণঅভ্যুত্থানের সময় পূর্ব পাকিস্তান মহিলা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নারী দিবস পালন করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসক চত্তর হতে এক বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে সাতক্ষীরার প্রধান প্রধান সড়ক অতিক্রম করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। শোভাযাত্রা পরবর্তী এক আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ বদিউজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল।
স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম, পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতী, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান জোৎস্না আরা, ডিডিএলজি মোঃ হুসাইন শতকত, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আছাদুজ্জামান বাবু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার উম্মে মুসলিমা ও ডিআইও (২) রেজাউল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য এ্যাড. শাহনেওয়াজ পারভীন মিলি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জ্যোৎস্না দত্ত, চুপড়িয়া মহিলা সমিতির সভানেত্রী মরিয়ম মান্নান প্রমুখ। দিবসটিতে অংশগ্রহণ করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ, সাতক্ষীরা পৌরসভা, জেলা তথ্য অফিস, এলজিইডি, প্রথমআলো বন্ধু সভা, উন্নয়ন সংগঠন স্বদেশ, বরসা, টিআইবি, হেড, ক্রিসেন্ট, সিডো, ব্র্যাক, সুপ্র, আসক, সুশীলন, নিউজ নেটওয়ার্ক, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, এইচআরডিএফ, উই ক্যান, আশ্রয়, সামস্, ওসিসি, আশালোক কেন্দ্র, পদ্মলোক কেন্দ্র। দিবসটি উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্তরে আগামী ১৭,১৮ ও ১৯ মার্চ তিনদিন ব্যাপী নারী উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হবে।