সাতক্ষীরায় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পৌছেগেছে টিন


655 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পৌছেগেছে টিন
নভেম্বর ১৪, ২০১৯ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এম কামরুজ্জামান :
সাতক্ষীরায় বুলবুলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের গৃহ নির্মাণের জন্য এক হাজার বান্ডেল ঢেউটিন ও ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পৌছে গেছে। এছাড়া এক লাখ টাকার গো-খাদ্য ও এক লাখ টাকার শিশু খাদ্যের বরাদ্দ এসেছে। তবে এখনো তা বিতরণ কাজ শুরু হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির চুড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বরাদ্দকৃত গৃহ নির্মাণ সামগ্রি, গো-খাদ্য ও শিশু খাদ্য বিতরণ করা হবে বলে জানােেগছে।

এদিকে সাতক্ষীরা উপকূলবর্তী এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে তারা জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েছেন। শ্যামনগর উপজেলার অর্ধেক এলাকায় এখানো বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ঘের ও কৃষি জমি থেকে বৃষ্টির পানি নামতে শুরু করেছে।

এদিকে ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে মৎস্য এবং কৃষি খাতে প্রায় সাড়ে ৪৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মৎস্য খাতে ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং কৃষি খাতে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির বিবারণ পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ ও জেলা মৎস্য বিভাগ এসব তথ্য নিশ্চিত কয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা ত্রান কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার জানান, সাতক্ষীরায় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের গৃহ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে এক হাজার বান্ডেল ঢেউটিন এবং নগদ ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিশু খাদ্য কেনার জন্য এক লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য আরো এক লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রতিবান্ডেল টিনের সাথে তিন হাজার করে টাকা দেয়া হবে গৃহ নির্মানের জন্য। ক্ষতিগ্রস্তদের চুড়ান্ত তালিকা এখনো প্রস্তুত হয়নি। চুড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা বিতরণ করা শুরু হবে। তিনি বলেন, বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এ পর্যন্ত ৫১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: কামরুজ্জামান জানান, বাড়ি-ঘর, গাছ-পালা, কৃষি, মৎস্য, বনসহ বিভিন্ন বিভাগে কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার চুড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরীর জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কাজ করছে। শ্যামনগর উপজেলায় অর্ধেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগ এজন্য কাজ করছে। চিংড়ি ঘের এবং কৃষি জমি থেকে বৃষ্টির পানি নেমে গেছে। শ্যামনগরের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু করেছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরপন করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি বাড়ির ছবিসহ ক্ষতিগ্রস্তদের একটি ডাটাবেজ তৈরী করে সরকারের কাছে দ্রুত পাঠানো হবে। যেসব জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র কম বেশি করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ত্রাণ নিয়ে কোন ছিনিমনি খেলতে দেয়া হবে না। সব কিছুই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে করা হবে। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিক্ষতির চুড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরীর চেষ্টা চলছে।

#