সাতক্ষীরায় বৃষ্টিতে পানিবন্ধী মানুষ, দূর্ভোগ কাঁটাতে ছুটছেন মেয়র ও কাউন্সিলর


210 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় বৃষ্টিতে পানিবন্ধী মানুষ, দূর্ভোগ কাঁটাতে ছুটছেন মেয়র ও কাউন্সিলর
আগস্ট ৫, ২০২১ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আকরামুল ইসলাম ::

নির্বাচিত হয়েই সাতক্ষীরা পৌরসভার তরুণ কাউন্সিলর কায়সারুজ্জামান হিমেল পড়েছেন চ্যালেঞ্জের মুখে। বৃষ্টির পানিতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ওয়ার্ডের পাঁচ হাজার মানুষ। মানুষের দূর্ভোগ নিরসন করতে পানি নিস্কাশনের জন্য এখন ছুটছেন এই কাউন্সিলর। বাড়ি বাড়ি গিয়ে দূর্গত মানুষদের খোঁজ খবর নেওয়া ও পানি নিস্কাশনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করছেন তিনি।

কয়েকদিন আগের টানা বৃষ্টিতে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের উত্তর কাটিয়া নিকারী পাড়া, বৌ-বাজার, ইন্দোরকান্দা, উত্তর কাটিয়া নিরালা, মধ্য কাটিয়া মাঠপাড়া, গদায় বিল এলাকায় ভয়াবাহ জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্ধী হয়ে পড়া এসব বাসিন্দাদের জরুরী খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রতিটি ঘরে দেওয়া হচ্ছে ১০ কেজি চাল।

সাতক্ষীরা পৌরসভার উত্তর কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ, বৃষ্টির পানিতে গোটা এলাকা ডুবে গেছে। ঘরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পরিস্থিতি নেই। এই পরিস্থিতির মধ্যে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিমেল পানি নিস্কাশনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা করছেন। সার্বক্ষনিক খোঁজখবর রাখছেন। তাছাড়া পানিবন্ধী এসব মানুষদের পৌরসভার পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কায়সারুজ্জামান হিমেল জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ওয়ার্ডের মধ্যে অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন। অপরিকল্পিত মাছের ঘের করা ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব মানুষদের দূর্ভোগ নিরসনের জন্য ইতোমধ্যে মেশিন লাগিয়ে ৪০০ ফুট পাইপের মাধ্যমে পানি প্রাণ সায়ের খালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া দূর্ভোগ কবলিত মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, প্রতিবছরই সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বেতনা নদীসহ আশপাশের নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ার কারনে পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। এ বছর সাতক্ষীরা পৌরসভার পক্ষ থেকে উত্তর কাাঁটিয়া, মুনজিতপুর, রসুলপুর, গদাইবিলের পানি নিস্কাশনের জন্য ৮টি পাম্প মেশিন চালু করা হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে বদ্দিপুর কলনিসহ অন্যান্য এলাকায় আরও ৯টি পাম্প মেশিন চালু করার মধ্যদিয়ে পৌর এলাকার পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের, নেট-পাটার কারনে অধিকাংশ এলাকায় পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। পৌরসভা কতৃপক্ষ সেসব এলাকা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পৌর মেয়র আরও বলেন, আমি আজ সকাল থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা আমার সাথে ছিলেন। পানিরমধ্যে আমি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখেছি। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য আমরা তৎপর রয়েছি।

#