সাতক্ষীরায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন : লবনসহিঞ্চু জাতের ধান চাষ বাড়ছে


5041 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন : লবনসহিঞ্চু জাতের ধান চাষ বাড়ছে
মার্চ ৩১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার ॥
চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়া থাকলে বাম্পার উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ।
সরকারী হিসাব অনুযায়ী এবার জেলায় ১৫ প্রজাতির বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে লবন সহিঞ্চু ব্রি-ধান ৪৭-৫৫- বিনা ৮-১০, হাইব্রিড এসএল-৮,ব্রি-ধান ২৮, বিআর ২৬, ব্রি-ধান ৫০, জামাইবাবু, শক্তি, কেজ ও শুভ্র উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে উচ্চফলনশীল জাত হচ্ছে হাইব্রিড এসএল-৮ ব্রি-৫৫ এবং ব্রি-ধান ২৮। সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলার ৩ লক্ষাধিক কৃষক এবার বোরো ধান চাষ করেছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বদ্দিপুর গ্রামের কৃষক আবদুল গফুর জানান, তিনি চলতি মৌসুমে নিজের ও বর্গা মিলে ৩৫ বিঘা জমিতে ব্রি-ধান ২৮ বোরো ধান চাষ করছেন। অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান এই কৃষক। তিনি আরো বলেন, চারা রোপন থেকে ধান কর্তন পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন তেমন কোনো  প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে প্রতি বিঘাতে ১৮ থেকে ২০ বস্তা করে ধান পাবেন। ইতি মধ্যে ক্ষেতে ধান পাক ধরেছে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা গ্রামের জিয়াদ আলী জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ১০ বিঘা  জমিতে লবনসহিঞ্চু ব্রি- ৫৫ জাতের বোরো ধান চাষ করছেন। তিনি বলেন, অন্যান্য জাতের চেয়ে এ প্রজাতের ধান বেশি উৎপাদনের পাশাপাশি লবনসহিঞ্চু। তিনি আরো বলেন, কালিগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ বিলের জমিতে লবনাক্তা বেশি। ফলে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করলে উৎপাদন ভালো হয়না বলেও জানান তিনি। এই কৃষক আরো বলেন, জমি নিজস্ব হওয়ার কারনে প্রতি বিঘা জমিতে তার উৎপাদন খরচ হবে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে ১৬ থেকে ১৭ বস্তা পর্যন্ত ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলাতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে, কলারোয়া উপজেলায় ১২ হাজার ৬৭১ হেক্টর জমিতে, তালা উপজেলায় ১৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে, দেবহাটা উপজেলায় ৬ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে, আশাশুনি উপজেলায় ৬ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে ও শ্যামনগর উপজেলায় ১ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ মাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। সুত্রটি আরো জানায়, গেল মৌসুমে জেলায় ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা  হয়েছিলো। সে তুলনায় এবার ১ হাজার হেক্টর পরিমান জমিতে বেশি চাষ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসাণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের যে পরিমান ফলন ফলেছে তাতে অনুকুল আবহাওয়া থাকলে বাম্পার উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছরে বোরো আবাদও কিছুটা বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, জেলায় ব্রি-২৮ জাতের ধান বেশি চাষ হয়ে থাকে। তাছাড়া লবনসহিঞ্চু হাইব্রিড- এসএল ৮ ব্রি-ধান ৫৫, ৪৭, ৫০ জামাইবাবু, সুভ্র ও জাতের ধানসহ অন্তত ১৫ প্রজাতের ধান চাষ করা হয়ে থাকে। তবে অতিবৃষ্টির ফলে গেল রোপা আমনে যে সকল কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো তারা বোরো চাষে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেবে বলে আশা করছেন তিনি। #