সাতক্ষীরায় ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস পালিত


487 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস পালিত
মে ২২, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নূরুজ্জামান রিকো:
সাতক্ষীরায় ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস।

এ উপলক্ষ্যে রোববার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক সংলগ্ন সড়কে সকল প্রাণ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্যরা মুখে বিভিন্ন প্রাণী, গাছ ও নদীর মুখোশ পরে অন্যান্য প্রাণীর প্রতি প্রতীকী শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে।

এতে মাছের মুখোশ পরে আব্দুর রহিম বলে, আমি মাছ। আমি নদী ও জলাশয়ের কাছে কৃতজ্ঞ। নদী বেঁচে থাকুক।

আবিদ হাসান পাখির মুখোশ পরে বলে, আমি পাখি। আমি গাছের কাছে কৃতজ্ঞ। গাছ না বাঁচলে আমি খাবো কী? থাকবো কোথায়?

আসাদুল ইসলাম বাঘের মুখোশ পরে বলে, আমি বাঘ। আমি বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিয়েছে।

মফিজুল ইসলাম গরুর মুখোশ পরে বলে, আমি গরু। আমি আমন ধানের খড়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। এসব খেয়েই আমার ক্ষুধা দূর হয়।

শামছুন্নাহান মুন্নী বলে, আমি আমন ধান। আমি মাটির কাছে কৃতজ্ঞ। এই মাটিই আমাকে বড় হওয়ার রসদ জোগায়।

আব্দুল্লাহ বলে, আমি গাছ। আমি মানুষসহ সকল প্রাণীর কাছেই কৃতজ্ঞ। তারা বুক ভরে আমার অক্সিজেন নেয়।

বাহলুল করিম বলে, আমি প্রজাপতি। আমি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাকে নিয়ে নাচ ও গান করে মানুষ।

নুরুল গুদা বলে, আমি নদী। আমি মাছ, মানুষ, ডলফিন, কুমীর সবার কাছে কৃতজ্ঞ। তারা আমার শরীরে সাঁতার কাটে, নৌকা বায়। মানুষ আমাকে নিয়ে গান গায়, সিনেমা বানায়।

অনুষ্ঠানে এভাবেই বাস্তুসংস্থানে পারস্পারিক নির্ভরশীলতার সম্পর্ককে স্বীকার করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

ব্যতিক্রমধর্মী এই অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পর্কে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সমন্বয়ক আসাদুল ইসলাম জানান, আমরা প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু তা স্বীকার না করে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির উপর অত্যাচার চালাচ্ছি, ধ্বংস করছি। গাছের কথাই ধরুন, কাল থেকে দেশের সমস্ত গাছ যদি ধর্মঘট ডেকে অক্সিজেন দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে মানুষ বাচবে কি করে। কিন্তু মানুষ তো গাছের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করে উল্টো নির্বিচারে গাছ কাটছে। ##