সাতক্ষীরায় ইঞ্জিন চালিত রিস্কা-ভ্যান বন্ধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান


3139 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ইঞ্জিন চালিত রিস্কা-ভ্যান বন্ধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান
মে ২২, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ॥
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। গত ১৫ মে ২০১৭ ইং তারিখ থেকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সাতক্ষীরা শহরব্যাপি মটর ও ইঞ্জিন ভ্যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরফলে প্রতিদিন এই শহরে চলাচলকারী লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। স্কুল কলেজে যেতে পারছে না শিশুসহ বহু শিক্ষার্থী। শহরে চলাচলকারী মানুষের যানবাহনের ব্যয় দ্বিগুন থেকে তিনগুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও অধিকাংশ সময় সেটা পাওয়া যাচ্ছে না। হাজার হাজার মটর ভ্যান চালকের অধিকাংশই বেকার হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ চুরি করে মটর ভ্যান চালালেও তাদেরকে সীমাহীন চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় জৈষ্ঠ মাসের এই তীব্র তাপদহ এবং বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং এর মধ্যে সাতক্ষীরা শহরব্যাপি এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব থেকে ইজিবাইক, মাহিন্দ্র বা অন্যকোন ছোট যানবাহন এই শহরে চলতে দেওয়া হয়না। ফলে মটরভ্যানই এই শহরে মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাহন। যদিও বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলায় এসব যানবাহন এখন মানুষের একস্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত চলাচলের বাহনে পরিণত হয়েছে। আপনি নিজেও কিছুদিন পূর্বে গোপালগঞ্জে যেয়ে এই ব্যাটারী চালিত ভ্যান চড়েছেন, যা দেশের সকল সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন কোন রকম বিকল্প ব্যবস্থা না করে গরীব মানুষের রুটি রুজির পথ বন্ধ করে লাখ লাখ মানুষের সীমাহীন কষ্টের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষন্ন হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার সরকারের আমলে সারাদেশের মত সাতক্ষীরা জেলাতেও ব্যাপক উন্নয়ন হলেও সে উন্নয়ন চোখে দেখতে একস্থান থেকে অপর স্থানে যাতায়াতের অধিকাংশ রাস্তাই আস্ত নেই। যানবাহনে চলাচলে এক সীমাহীন বিড়ম্বনায় পড়তে হয় এই জেলার মানুষের। এত দুরাবস্তা বাংলাদেশের আর কোন জেলায় নেই। এমতাবস্থায় সাতক্ষীরা শহরে ১৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এই বাইপাস শুরু করা হয়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঠিক সামনে এবং অপর প্রান্তে শেষ হয়েছে সাতক্ষীরা বিসিক শিল্প নগরীর গেটের মুখে। সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দর জাতীয় মহা সড়কের শেষ প্রান্ত আলিপুর চেকপোস্ট থেকে এই বাইপাস নির্মাণের কথা সকলে জানলেও এখন দেখা যাচ্ছে মেডিকেল কলেজের গেট পেরিয়ে এই বাইপাস নির্মিত হচ্ছে। যেটার নির্মাণ কাজ শেষ হলে উপকারের পরিবর্তে নতুন সমস্যা তৈরী করবে। শহরের যানজট নিরসনে কোন কাজে আসবে না এই বাইপাস সড়ক। সেকারণে আমরা বর্তমান নির্মাণাধীন বাইাপাসের নকসা পরিবর্তনের দাবী জানাচ্ছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে প্রতিবছরই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। দীর্ঘদিন আমরা লোডশেডিং এর তেমন কোন কষ্ট ভোগ করেনি। কিন্তু বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে আবারো সাতক্ষীরা জেলার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শহরে দিনরাতে ১২/১৪ ঘন্টা এবং গ্রামে আরো অনেক বেশী সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না মানুষ। যদিও পাশ্ববর্তী খুলনা-যশোর-বাগেরহাট জেলায় সমস্যা থাকলেও সাতক্ষীরার মত এত প্রকট নয়।

সবমিলিয়ে আপনার সরকারের যে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম তার বহুবিষয় আমাদের জেলায় চলমান থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাব ও মুষ্টিমেয় দু’একজনের ব্যক্তি স্বার্থ এবং ষড়যন্ত্রের কারনে এসবের সুফল থেকে সাতক্ষীরাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে।
আমরা জেলা নাগরিক কমিটি আগামী বাজেটকে সামনে রেখে সাতক্ষীরাবাসীর নি¤েœাক্ত দাবী সমূহ আপনার সদয় বিবেচনার জন্য তুলে ধরছি:

১. সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শিক্ষার পরিবেশ বিঘœকারী বাইপাস সড়কের সংযোগ ও পশ্চিম পাশে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। বাইপাস সড়ক আলিপুর চেকপোষ্ট পর্যন্ত নিয়ে যেয়ে ভোমরাস্থল বন্দর জাতীয় মহা সড়কের সাথে যুক্ত করতে হবে। নির্মাণাধীন ট্রাক টার্মিনাল মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে অন্যত্রে সরাতে হবে।
২. নাভারন হতে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করতে হবে।
৩. সাতক্ষীরা পাবলিক বিশ্ব বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।
৪. ভোমরা স্থল বন্দরকে পূর্ণাঙ্গকরণ এবং সকল পণ্য আমদানী-রপ্তানীর অনুমতি দিতে হবে।
৫. সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশে কার্যকর পদক্ষপ নিতে হবে।
৬. জেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে বেতনা, প্রাণ সায়ের, মরিচ্চাপ, সাপমারা, লাবন্যবতীসহ সকল নদী খাল খনন ও জোয়ার ভাটা চালু করতে হবে।
৭. দ্রুত জেলার রাস্তাঘাট সংস্কার ও পূণ:নির্মাণ করতে হবে।
৮. ভূমিহীন ও মৎস্য জীবীদের মধ্যে খাসজমি ও জলমহল বন্দোবস্ত দিতে হবে।
৯. বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে জেলার ৭০/৮০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ইঞ্জিনভ্যান, ভটভটি, মটর ভ্যান, নছিমন, করিমন, ইজিবাইক উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে। বর্তমান সাতক্ষীরা শহরে জনভোগান্তির চলমান মটরভ্যান বিরোধী অভিযান বন্ধ করতে হবে।
১০. অবিলম্বে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে।

ধন্যবাদন্তে-
মো: আনিসুর রহিম
আহবায়ক
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি