সাতক্ষীরায় ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


407 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
আগস্ট ৬, ২০১৬ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আশরাফুল আলম :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বৈরাগীর চক ও চিংড়িখালী ভূমিহীন জনপদে বসবাসরত ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভূমিহীনদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাফেজ মাওলানা শেখ আব্দুল্লাহ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে ভূমিদস্যু মৃত আশরাফ আলী মীর, হাসান মীর এবং নজরুল গাজী প্রায় ৩শ বিঘা জমি গ্রাস করেন এবং ভূমিহীনদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেন। ভূমিহীনরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা উচ্ছেদপূর্বক ওই জমি অন্যত্র বিক্রি করে দিত। না যেতে চাইলে ভূমিহীন নারীদের করা হতো ধর্ষণ। ২০০৮ সালে মৃত আশরাফ আলী মীর চারটি অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়। এতে তার ৩২ বছর কারাদ- হয়। পরে হাসান মীর পাঁচটি অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়। যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভূমিদস্যু মৃত আশরাফ মীর, মৃত ইসহাক আলী, হাসান মীর ও নজরুল গাজীর পরিবার এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। তারা রাজাকার আকবর আলীর মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের অর্থ যোগান দিতেন। তারা ভূমিহীনদের কাছ থেকে ২০০০ টাকা করে চাঁদা তুলতেন। তা না দিলে শুরু হতো অত্যাচার নির্যাতন। এরই প্রেক্ষিতে ভূমিহীনরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের ওই এলাকা থেকে বহিষ্কার করে। পরে ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট ভোরবেলা ভূমিদস্যু আশরাফ মীর, ইসহাক আলী, হাসান মীর ও নজরুল গাজীর নেতৃত্বে তালা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভাড়াকৃত সন্ত্রাসীরা ভূমিহীন পল্লীর ঘুমন্ত মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

এসময় ভূমিহীনরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ভূমিদস্যুদের গণপিটুনি দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি, বোমাসহ আশরাফ মীর, ইসহাক আলী গাজী ও আবু বকারকে গ্রেফতার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তারা মারা যান। কিন্তু এখনো থেমে থাকেনি তাদের ষড়যন্ত্র। তারা বৈরাগীর চক ও চিংড়িখালী ভূমিহীন জনপদে বসবাসরত চারশ ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। ##