সাতক্ষীরায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে মোড়ে মোড়ে বাঁধা


702 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে মোড়ে মোড়ে বাঁধা
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার একাধিক স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা বিএনপি, জাতীয় পার্টি  এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি। মনোনয়ন জমা দিতে মোড়ে মোড়ে বাঁধার সৃষ্টি করা হয়েছে।

সুনিদিষ্ট একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা, স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। DSC_0242

এদিকে, মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারার ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক খবরপত্রের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম লাঞ্চিত হয়েছেন। একজন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক প্রার্থীও তাদের হাতে হয়েছেন লাঞ্চিত।

এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো: মহিউদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি ইউপি নির্বাচনের কোন ধরনের দায়িত্বে নেই। আমার কাছে এ ধরনের যেসব অভিযোগ এসেছে তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছি। তবে সাংবাদিক লাঞ্জিত হওয়ার বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, কলারোয়া উপজেলায় বিএনপি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেননি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। সকাল থেকে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কেড়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট  রিটানিং অফিসারের কক্ষের সামনে রিতিমত বিছানা পেতে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা সব কিছুই নিয়ন্ত্রন করেছে। এদের দ্বারা মারপিটেরও শিকার হয়েছেন অনেকে। অনেকেই চুরি করে ভিন্ন কৌশলে মনোনয়নপত্র জমা দিলে তাদেরকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য হুমকী দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে হামলা করে মনোনয়নপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে এক প্রার্থীর।

1111111111111111 (3)

একাধিক সূত্র জানায়, কলারোয়ার কয়লা ইউনিয়ন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি শিক্ষক আব্দুর রউফ, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকির হোসেন, জয়নগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুর রহমান, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম, যুগিখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম, দেয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইব্রাহিম হোসেনসহ একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কেড়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

এর মধ্যে সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মনোনয়নপত্র লুট করে নেয়া হয়েছে। মারপিটের শিকার হয়েছেন কয়লা ইউনিয়ন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রউফ।

দেয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইব্রাহিম হোসেন জানান, শনিবার তার স্ত্রী নাজমা পারভীনের মনোনয়নপত্র কেড়ে নেয়া হয়। রোববার কেড়ে নেয়া হয়েছে তার মনোনয়নপত্র। কয়লা ইউনিয়ন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি শিক্ষক আব্দুর রউফ জানান, তাকে মারপিট করে তার মনোনয়নপত্র কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে, কলারোয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাত্র কয়েকশ’ হাত দূরে এসব ঘটনা ঘটলেও নিশ্চুপ রয়েছে পুলিশ ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে কলারোয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ফরাজী বেনজির আহমেদ জানান, আমার জানা মতে, সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অফিসের বাইরের ঘটনা আমার জানা নেই।

03

অপরদিকে, সাতক্ষীরায় মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধা দেয়ার অভিযোগে ইয়াছিন আলী নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

এছাড়া সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় বৈকারী ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি রতœা খাতুন নামের এক প্রার্থী। তিনি দৈনিক কালের চিত্রের সহযোগী সম্পাদক ও দৈনিক খবরপত্রের জেলা প্রতিনিধি রবিউল ইসলামের সাথে নিয়ে মনোয়ন জমা দিতে গেলে তাকেসহ সাংবাদিক রবিউলকে মারপিট ও তার ব্যবহৃত মটরসাইকেল ভাংচুর করেছে আওয়ামীলীগের লোকজন। বর্তমানে তারা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগড়দাঁড়ি ইউনিয়নের বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফর রহমান জানান, সকাল থেকে চেষ্টা করেও তিনি বিকাল ৩ টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট রিটানিং অফিসার (উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ) জয়নাল আবেদিনের কাছে তার সমর্থিত একজন মহিলা ভোটারের কাছ দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ওই কর্মকর্তা অজ্ঞাত কারণে তা জমা নেননি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো: মহিউদ্দিনকে একাধিক দফায় জানানোর পরও তিনি কোন ধরনেন পদক্ষেপ নেননি বলে তিনি জানান। অবশ্য শেষ মুহুত্বে ভিন্ন কৌশলে ওই প্রার্থী তার মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন।

শুধু সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তা নয়। তালা, আশাশুনি, শ্যামনগর,দেবহাটাসহ প্রায় সব কয়টি উপজেলাতে মনোনয়ন পত্র জমাদানে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো: মহিউদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি ইউপি নির্বাচনের কোন ধরনের দায়িত্বে নেই। আমার কাছে এ ধরনের যেসব অভিযোগ এসেছে তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছি। তবে সাংবাদিক লাঞ্জিত হওয়ার বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।